kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

তীরের নিশানায় খুলছে ক্রীড়াঙ্গন

সনৎ বাবলা   

১১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তীরের নিশানায় খুলছে ক্রীড়াঙ্গন

দুঃসময়েও আশার দীপ জ্বালাতে হবে। খুলতে হবে ক্রীড়াঙ্গনের বন্ধ দুয়ার। করোনার ভয় দূরে সরিয়ে সেই দুয়ার খোলার দায়িত্ব নিয়েছে আর্চারি ও শ্যুটিং। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতি মিললে এ মাসেই শুরু হবে আর্চারি ট্রেনিং ক্যাম্প।

না। আর্চারি ফেডারেশন ঈদের জন্য অপেক্ষা করতে চায় না। বিশ্ব আর্চারি অঙ্গনে চোখ বুলিয়ে ফেডারেশন সম্পাদক কাজী রাজিব উদ্দিন চপল দেখছেন কেউ ঘরে বসে নেই, ‘করোনার ভয়ে কেউ বসে নেই। ইউরোপে আগেই ট্রেনিং শুরু হয়েছে। তা ছাড়া ভারত, ভুটান, কোরিয়া, জাপান এমনকি করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনেও ট্রেনিং চলছে। তাহলে আমরা সুযোগ থাকলে করব না কেন! শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে খেলা যায় এটা। তা ছাড়া সামনে অলিম্পিক গেমস। তার প্রস্তুতির কথা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছি এবং ব্যাপারটা উনি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন।’ মন্ত্রণালয়ে পরশু দিনের ওই সভায় খেলার পক্ষে আর্চারি ছাড়াও দাঁড়িয়েছিলেন শ্যুটিং ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ অপু। দুই ফেডারেশনের সাহস দেখে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলও ক্রীড়াঙ্গনের বন্ধ তালা খুলতে ইতিবাচক হয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীকে অভয় দিয়ে আর্চারি সম্পাদক বলেছেন, ‘টঙ্গীতে আমাদের যে অবকাঠামো আছে, সেখানে ৯৯ শতাংশ সুরক্ষা বজায় রেখে আর্চাররা ট্রেনিং করতে পারে। কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের জার্মান কোচও মনে করছেন, খুব ভালোভাবে ট্রেনিং চলতে পারে। আশা করি, এ সপ্তাহে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের অনুমোদন পেয়ে যাব, এরপরই ট্রেনিং শুরু করে দেব।’ চ্যাম্পিয়ন আর্চার তৈরির আঁতুড়ঘর টঙ্গীর শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম, যেখানে অন্য কারো ঢোকার অনুমতি নেই। এখানে নিবিড়ভাবে চলছিল আর্চারি ট্রেনিং ক্যাম্প। করোনা সংক্রমণের আতঙ্কে মার্চে ক্যাম্প বন্ধ হয়ে গেলেও এখন আবার আর্চারদের পদচারণে মুখরিত হবে। প্রিয় ছাত্রদের কাছে পাবেন মার্টিন ফ্রেডরিখ। সাড়ে তিন মাস আগে ক্যাম্প বন্ধ হয়ে গেলেও বাংলাদেশ আর্চারির জার্মান কোচ ফেরেননি নিজের দেশে। অপেক্ষায় আছেন ট্রেনিং ক্যাম্প শুরুর। তাই ইতিবাচক খবরটা শুনে মার্টিন দারুণ খুশি, ‘এটা ভালো সিদ্ধান্ত। এত দিন বসে থাকতে হবে ভাবিনি, তাই বাড়িও যাইনি। কোনো পেশাদার আর্চার প্রায় চার মাস ঘরে বসে কাটাতে পারে না, স্বাভাবিকভাবে তাদের স্কোর নিচে নেমে যাবে।’

তবে কখন ট্রেনিং শুরু হবে এবং কতজনকে নিয়ে হবে, তা জানেন না কোচ। তিনি মনে করেন, ‘রিকার্ভ পুরুষ ও মহিলা দলগতের ট্রেনিং খুব জরুরি। কারণ পরের আর্চারি বিশ্বকাপে আমাদের অলিম্পিক কোয়ালিফিকেশনের সুযোগ আছে।’ অবশ্য ফেডারেশন সম্পাদক রাজিব উদ্দিন ইতিমধ্যে স্থির করে ফেলেছেন ‘আমাদের ছেলে ও মেয়েদের রিকার্ভ দল প্রস্তুত আছে। এ ১২ জনকে নিয়েই হবে ট্রেনিং, সঙ্গে কোচিং স্টাফরা থাকবেন। একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও খেলতে যাব রিকার্ভ দলগতে অলিম্পিক কোয়ালিফাই করার জন্য।’ সেটি হলো আগামী জুনে প্যারিসে আর্চারি বিশ্বকাপ, যেখানে রিকার্ভ দলগতের বাকি তিনটি কোটা প্লেসের নিষ্পত্তি হবে। আগামী জুলাইয়ে হবে পিছিয়ে যাওয়া টোকিও অলিম্পিক। এখন পর্যন্ত ছেলে ও মেয়েদের রিকার্ভ দলগতে ১১টি করে দলের মধ্যে আটটি করে চূড়ান্ত হয়েছে, বাকি আছে তিনটি কোটা প্লেস। জুুনে প্যারিস বিশ্বকাপে অলিম্পিকে যাওয়ার তিনটি কোটা প্লেসের জন্য কঠিন লড়াই হবে মনে করছেন মার্টিন ফ্রেডরিখ, ‘থিওরিটিক্যালি ছেলে ও মেয়েদের কোটা প্লেস পাওয়ার দুয়ার খোলা আমাদের জন্য, তবে লড়াইটা খুব কঠিন। কারণ আগের চ্যাম্পিয়ন আমেরিকা ছাড়াও কয়েকটি শক্তিশালী দল এখনো অলিম্পিকের টিকিট পায়নি।’

আলিম্পিক টিকিট পাওয়ার গৌরব একমাত্র রোমান সানার আছে। ট্রেনিং বন্ধের সাড়ে তিন মাস বাড়িতে কাটালেও এই তারকার সঙ্গে নিত্য যোগাযোগ ছিল কোচের। নিজেকে ফিট রাখা কিংবা বাড়ির উঠানে তীর-ধনুক চর্চা করে অভ্যাসটা ধরে রাখলেও মার্টিন ফ্রেডরিখের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রফেশনাল ট্রেনিং, ‘আর্চাররা ঘরে বসে কিছু ব্যায়াম করেছে, হয়তো তীর-ধনুক নিয়েও নিজের মতো প্র্যাকটিসের চেষ্টা করেছে। তবে ট্রেনিং মাঠে প্র্যাকটিস আর ঘরে বসে করার মধ্যে অনেক পার্থক্য। কার পারফরম্যান্সের কী অবস্থা, আমি জানি না। তাদেরকে আগের অবস্থায় ফেরানোর চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে আমাদের। খুব বুদ্ধিমত্তা এবং কম্পিটিশন মাথায় রেখে ট্রেনিং শিডিউল সাজাতে হবে।’ ক্রীড়াঙ্গনের বন্ধ দুয়ার খোলার খবরে আর্চারিতে ফিরছে নতুন স্বপ্ন, নতুন চ্যালেঞ্জ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা