kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

ব্যবধান কমাল বার্সেলোনা

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যবধান কমাল বার্সেলোনা

‘জয় নয়তো মৃত্যু’। বার্সেলোনা-এস্পানিওল ম্যাচের আগে এমন শিরোনামই করেছিল কাতালান দৈনিক ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’। ব্যাপারটি দুই দলের জন্যই সমান। বার্সেলোনা পয়েন্ট হারালে ছিটকে যেত শিরোপা দৌড় থেকে। আর এস্পানিওল হারলে প্রায় তিন দশক পর দ্বিতীয় বিভাগে অবনমিত হবে। নগর প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাই খেলল শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে। তাতেই ছন্দঃপতন বার্সেলোনার সৃষ্টিশীল ফুটবলে। এর পরও কষ্টের ১-০ গোলের জয় বার্সার, যা কাতালান ডার্বিতে তাদের শততম। এই জয়ে বার্সা এক ম্যাচ বেশি খেলে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে আনল ১ পয়েন্টে। আর কপাল পুড়ল এস্পানিওলের। ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবার লা লিগা থেকে হলো অবনমন। ১২০ বছরের ইতিহাসে এ নিয়ে পঞ্চমবার খেলতে হচ্ছে দ্বিতীয় বিভাগে।

এদিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ নিশ্চিত করা লিভারপুলের সামনে হাতছানি রয়ে গেছে ১০০ পয়েন্টের রেকর্ড ভাঙার। পরশু ব্রাইটনকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেই পথে এগিয়েও গেছে অলরেডরা। জোড়া গোলে মো সালাহ আশা জাগিয়ে রেখেছেন ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের। প্রিমিয়ার লিগে তাঁর গোল ১৯টি, জেমি ভার্ডি শীর্ষে ২২ গোল নিয়ে। পরশু গোলের নেশায় আটটি শট পোস্টে নেওয়ায় লিভারপুলের সাবেক মিডফিল্ডার গ্রায়েম সাউনেস জানালেন, ‘আসলে সালাহ সব সময়ই স্বার্থপর। এই ম্যাচে তো চরম স্বার্থপর ছিল। গোল্ডেন বুটটা সে ভীষণভাবে জিততে চায়। শিরোপা জেতায় অনন্য অবদান সালাহর। এখন গোল্ডেন বুট জয়ের সুযোগ আছে বলে মনে করে ও।’ যদিও জর্ডান হেন্ডারসেনের করা গোলটি সালাহর অ্যাসিস্টে। আর লিভাপুলের সাফল্যে তো বিশেষ অবদান রয়েছেই তাঁর। প্রিমিয়ার লিগে ১০৪ ম্যাচ খেলেই দ্রুততম ১০০ গোলে অবদানের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে সালাহর গোল ৭৩ আর অ্যাসিস্ট ২৭টি। অন্য ম্যাচে ম্যানসিটি ৫-০ গোলে হারিয়েছে নিউক্যাসলকে। ৩৪ ম্যাচ শেষে লিভারপুলের পয়েন্ট ৯২, ম্যানসিটির ৬৯।

সিরি ‘এ’তে জেনোয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে নাপোলি উঠে এসেছে ছয় নম্বরে। পাঁচে থাকা এএস রোমার পয়েন্টও ৩১ ম্যাচ শেষে নাপোলির সমান ৫১। তবে গোল গড়ে এগিয়ে রোমা। পরশু তারা ২-১ গোলে হারিয়েছে পারমাকে। অন্য ম্যাচে আতালান্তা ২-০ গোলে সাম্পদোরিয়াকে হারিয়ে সুসংহত করেছে চতুর্থ স্থান। ৩০ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৬৪।

কাতালান ডার্বি খেলতে জেরার্দ পিকে ন্যু ক্যাম্পে এসেছিলেন সাইকেলে চেপে। হালকা সেই মেজাজ থাকেনি ম্যাচে। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে যে স্ফুলিঙ্গ ছিল, তার ছিটেফোঁটাও ছিল না পরশু। ম্যাচ শেষে কোচ কিকে সেতিয়েনও মেনে নিয়েছেন সেটা, ‘আমরা খুব ভালো খেলতে পারিনি।’ দশম মিনিটেই আদ্রি এমবার্বার শট টের স্টেগান পা দিয়ে না ঠেকালে এগিয়ে যেতে পারত এস্পানিওল। পাল্টাআক্রমণে বারবার ফাটল ধরা রক্ষণের ভুলে বিরতির আগে আত্মঘাতী গোল খেতে বসেছিল বার্সা। ক্লেমোঁ লংলের বিপদমুক্ত করার চেষ্টায় উল্টো বল জালে জড়ানোর উপক্রম হয়েছিল। তবে প্রথামার্ধে একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে না পারা বার্সার স্বস্তির গোলটি ৫৬ মিনিটে করেন লুই সুয়ারেস। আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের ব্যাকহিলে লিওনেল মেসির নেওয়া শট প্রতিহত হলেও সেটি পেয়ে যান সুয়ারেস। সে সুযোগ নষ্ট করেননি উরুগুইয়ান। লাজলো কুবালাকে ছাড়িয়ে বার্সার হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৯৫ গোল এখন তাঁর। এই জীবন-মরণ লড়াইয়ের তোড়েই কিনা লাল কার্ড দেখেন দুই দলের একজন করে। এর মধ্যে বার্সেলোনার আনসু ফাতিরটা চমকপ্রদ, দ্বিতীয়ার্ধের মাঝপথে বদলি হিসেবে নামার চতুর্থ মিনিটেই মাঠ ত্যাগ করতে হয়েছে যে!  এএফপি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা