kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

ক্রীড়াঙ্গনের চাকা সচলের উদ্যোগ

১০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়াঙ্গনের চাকা সচলের উদ্যোগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ১১৩ দিন পর ক্রীড়াঙ্গনে সুসংবাদ। শ্যুটিং ও আর্চারিকে দিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গন সচলের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। স্থগিত হওয়া টোকিও ২০২০ অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে সামনের বছর, তা ছাড়া শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়েও খেলা যায়। সুবাদে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে শ্যুটার ও আর্চারদের প্র্যাকটিসে নামিয়ে করোনাভীতি দূর করার উদ্যোগ ইতিবাচক বলেই মনে করছেন দেশের ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত ১৬ মার্চ ক্রীড়া ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পরদিন ক্রীড়াঙ্গন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। স্থগিত হয় সব ধরনের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর। বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ গেমস শুরুর সব আয়োজন করেও স্থগিত করতে হয়েছিল। প্রথমে স্থগিতাদেশ ছিল ৩১ মার্চ পর্যন্ত, পরে কভিড-১৯-এর ভয়াবহতায় সেটি প্রলম্বিত হয়। ১১৩ দিন পর গতকাল খেলা শুরুর সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা হয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে। প্রতিমন্ত্রী শ্যুটিং ও আর্চারিসহ সাতটি ক্রীড়া ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে সভা করেন। সভা শেষে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল দিয়েছেন সুখবর, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে শ্যুটিং ও আর্চারিকে মাঠে নামাতে চাই। কারণ তাদের অলিম্পিক গেমস আছে। তা ছাড়া দুটি খেলাই শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে খেলা সম্ভব। এসব বিবেচনায় দুই খেলার ক্রীড়াবিদদের প্র্যাকটিসে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে চাই। অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলতে হবে, এই সময়ে তাদের অনুমতি ছাড়া কিছু করা যায় না।’ সভায় দুই ফেডারেশনের কর্মকর্তারাও ইতিবাচক ছিলেন প্র্যাকটিস শুরুর ব্যাপারে।

এ ছাড়া ভলিবল, হ্যান্ডবল, সাঁতার, তায়কোয়ান্দো, কারাতে ও মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের ডাকা হয়েছিল সভায়। তাঁরা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী অন্যান্য খেলার কর্মকর্তাদের মধ্যেও আগ্রহ দেখেছেন, ‘আরো কিছু ফেডারেশনও খেলা শুরু করতে চায়। খেলোয়াড়দের জায়গা থেকে চিন্তা করলে এটা ভালো দিক, কিন্তু ভয়ের ব্যাপার হলো আমরা অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে চাই না। তাই ফেডারেশনগুলোকে বলা হয়েছে, তারা কী করতে চায় এবং কিভাবে করতে চায় সেটা লিখিতভাবে আমাদের জানাতে। এরপর আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব আমরা।’ এই করোনাকালে ছোট-বড় অনেক খেলার ক্রীড়াবিদরা খুব বিপদে আছেন। খেলা চললেই তাঁদের দু-পয়সা আয় হয়। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিস্তর সাহায্য করেছেন ক্রীড়াঙ্গনে, ফেডারেশনগুলোও কমবেশি পাশে দাঁড়িয়েছে খেলোয়াড়দের। এ সাহায্য দিয়ে তো আর সাড়ে তিন মাস চলা যায় না। তাই জাহিদ আহসান রাসেলও ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণ ফেরানোর তাগিদ অনুভব করছেন, ‘উপায় নেই, আস্তে আস্তে ক্রীড়াঙ্গন সচল করতে হবে। অন্যান্য দেশে কভিডের মধ্যেও খেলা শুরু হয়েছে। তাই আমাদেরও ভেবে-চিন্তে উপায় বের করতে হবে।’ করোনা ভাইরাস দ্রুত যাওয়ার নয়, এটাকে সঙ্গে নিয়েই বাঁচতে শিখতে হবে সবাইকে।

এদিকে ফুটবল ফেডারেশনও ঘোষণা দিয়েছে আগামী মাসে করোনা সুরক্ষা মেনে জাতীয় দলের প্র্যাকটিস শুরু করার। অক্টোবরে যে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের খেলা আছে তাদের। জাতীয় দল ও প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দের বাদ দিলে অন্যদের অবস্থা বেশ খারাপ। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ থেকে নিচের দিকের লিগগুলোর ফুটবলারদের খবর কেউ রাখে না। ফুটবল ফেডারেশনও দাঁড়ায়নি কারো পাশে। অথচ অভাবের তাড়নায় প্রথম বিভাগের এক ফুটবলার আত্মঘাতী হওয়ার কথাও ভেবেছিলেন! এর মধ্যে একদল ফুটবলার শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন গার্মেন্টে। কেউ ইজি বাইক চালাচ্ছেন, কেউ বা হয়েছেন ফল বিক্রেতা। অসহায় ফুটবলারদের পাশে দাঁড়াতে তাই ফুটবল ফেডারেশনকে অনুরোধ করছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, ‘খেলাধুলার প্রধান মানুষ হলো খেলোয়াড়রা। তারা মারাত্মক অভাবে পড়লে, তাদের জীবন সংকটের মুখে পড়লে খেলাটা খেলবে কারা। ফুটবল ফেডারেশনের উচিত শিগগিরই ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ানো। ফিফার দেওয়া তহবিল কিংবা স্পন্সর থেকে টাকা নিয়ে হলেও ফুটবলারদের সাহায্য করা উচিত।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা