kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

তীব্র ‘সংক্রমণে’ বিপন্ন হকি

শাহজাহান কবির   

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তীব্র ‘সংক্রমণে’ বিপন্ন হকি

সব খেলায় স্থবিরতা এখন করোনার কারণে। সবাই অপেক্ষায় এই প্রাণঘাতী ভাইরাস কবে বিদায় নেবে আর তারা খেলায় ফিরবে। কিন্তু হকি ফেডারেশনের কর্মহীনতার সঙ্গে করোনার সে অর্থে সম্পর্ক নেই, এ খেলায় স্থবিরতা তো বছর ধরেই! ২০১৮ সালের জুনে লিগ শেষ হয়েছে, এর পরের আসরের আর খবর নেই। করোনা তো শুরু হলো এ বছরের মার্চে। তাই করোনা কাটলেও হকিতে প্রাণ ফিরবে—এ বিশ্বাস নেই ফেডারেশন কর্মকর্তা ছাড়া আর কারো। খেলোয়াড়-ক্লাব সংগঠকদের কারো মনেই সে বিশ্বাস নেই।

জাতীয় দলের তারকা রাসেল মাহমুদ নিয়মিত খেলার দাবি তুলতে তুলতে তো ক্যারিয়ারটাই শেষ করে ফেলছেন, ‘হকিতে কখনোই আমরা সময়মতো খেলা পাইনি। এক লিগ শেষ হলে পরের লিগ আবার কবে হবে কেউ জানে না। সব সময় চেয়েছি এই অবস্থাটা যেন পাল্টায়। আজও তা হলো না। তবু চাই সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে এই হতাশার বৃত্তটা থেকে খেলাটাকে বের করে আনুক।’ সাবেক খেলোয়াড় আবাহনীর হকি সংগঠক মাহবুবুল এহসান রানা অনুধাবন করছেন করোনা-পরবর্তী সময়ে খেলাটাকে গতিশীল করা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, ‘জাতীয় দলের কিছু খেলোয়াড় বিভিন্ন বাহিনীতে চাকরি করে। এর বাইরে প্রথম বিভাগ, প্রিমিয়ার লিগসহ সব স্তরের খেলোয়াড়রা অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে আছে এই সময়ে। হাজার, ১০ হাজার, ২০ হাজার টাকা ওদের হাতে তুলে দিয়ে আমরা যেটুকু সাহায্য করতে পারব তার চেয়ে বহুগুণ বেশি উপকার হবে আমরা যদি খেলোয়াড়দের জন্য লিগের দুয়ারটা খুলে দিতে পারি। প্রিমিয়ার লিগ নেই তিন বছর ধরে, যুব হকি, জাতীয় হকিও হচ্ছে না। এই খেলাগুলো ফেরাতে পারলে খেলোয়াড়রা খেলেই নিজেদের ভাগ্য ফেরাতে পারবে। আমাদের সেই দায়িত্বটা নেওয়া উচিত।’

কিন্তু হকির বর্তমান কমিটি সেই কাজটা করতে পারবে বলে বিশ্বাস রাখেন না রানা। একই মনোভাব আরেক সাবেক খেলোয়াড় এবং মোহামেডানের হকির কর্মকর্তা আরিফুল হক প্রিন্সের, ‘ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকই তো নেই। নির্বাচনে মেরুকরণের কারণে কমিটির অন্য সবাইও সক্রিয় নন। ফলে বর্তমান কমিটি এই করোনার কঠিন সময়ে সবাইকে রাজি-খুশি করিয়ে লিগটা যত দ্রুত সম্ভব আবার মাঠে ফেরাতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।’

ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ জানিয়েছেন, করোনার আগেই তাঁরা ক্লাবগুলোকে লিগ কমিটির জন্য প্রতিনিধির নাম চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠির জবাব পাননি তাঁরা। মোহামেডান কর্মকর্তা আরিফুল বলছেন, জবাব তাঁরা না-ই পেতে পারেন, ‘মোহামেডানে আমি, মেরিনার্সের সাধারণ সম্পাদক রানা ভাই (হাসানউল্লাহ খান রানা), আরেক কর্মকর্তা নজরুল ভাই এখনো হকিতে নিষিদ্ধ হয়ে আছি। তো ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তারাই ফেডারেশনে নিষিদ্ধ হলে দলটা করবে কে? ঊষা ক্লাবই তো প্রিমিয়ারে নিষিদ্ধ হয়ে আছে। এ বিষয়গুলোর সমাধান আগে করতে হবে।’ জাতীয় দলের খেলোয়াড় হাসান জুবায়েরেরও মনে হচ্ছে এই জটিল পরিস্থিতিতে ক্লাবগুলোকে লিগের জন্য আগ্রহী করে তুলতে ফেডারেশনকে বাড়তি কিছুই করতে হবে, যেহেতু করোনার আগে ক্যাসিনোকাণ্ডেও বড় ধাক্কা খেয়েছে ক্লাবগুলো, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাবগুলোকে বুঝিয়ে একটা সমাধানে আসতে হলে আমার মনে হয় এই করোনার সময়েই ফেডারেশনকে গ্রাউন্ড ওয়ার্কটা করে ফেলতে হবে। না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেই প্রক্রিয়া করতে করতে দেখা যাবে আমাদের আরো ছয় মাস অপেক্ষায় থাকতে হবে মাঠে ফিরতে।’ বর্তমানে হকির তেমন কোনো কর্মকাণ্ডই যেহেতু নেই, তাই সংশয় তৈরি হচ্ছেই যে করোনা শেষ হলেও স্থবিরতা হয়তো কাটবে না হকিতে। তাতে আর কিছু নয়, খেলাটাকে যাঁরা ক্যারিয়ার হিসেবে নিয়েছেন তাঁরাই থাকবেন দুর্দশার মধ্যে। হাসান জুবায়েরই যেমন সেনাবাহিনী দলে চুক্তি ভিত্তিতে খেলেন, খেলা না থাকায় তিনি একেবারে বেকার, ‘এই বয়সে উপার্জনহীন হয়ে থাকাটা কেউই ভালো চোখে দেখে না। বলতে পারেন আমরা নিদারুণ অর্থকষ্ট, মনঃকষ্টের মধ্যে আছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা