kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

তাহলে মিরপুরে নয় কেন?

৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তাহলে মিরপুরে নয় কেন?

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সাতসকালের ‘ওয়াক আউট’ করতে এবার বাসা থেকে বেশ দূরেই ছুটেছেন মুশফিকুর রহিম। এত দিন শুধুই ঘরে কিংবা বাসার সামনের রাস্তায় নিজেকে ফিট রাখতে তাঁর তৎপরতা দেখা গেছে। গতকাল একটু ব্যতিক্রম, তাঁকে দৌড়াতে দেখা গেল রাজধানীর বেরাইদে ফর্টিস গ্রুপের ফুটবল একাডেমির মাঠে। দৌড়ালেনই না শুধু, এক পায়ে প্যাড পরে কিছুক্ষণ নকিংয়ের ভিডিওও পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের পেজে। যা যা সেখানে করেছেন, তা দেখে এই প্রশ্ন ওঠা অবান্তর নয় যে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম থাকতে মুশফিককে অনুশীলনের বিকল্প উৎস খুঁজতে হলো কেন?

নিজেদের ক্রীড়া কার্যক্রম এখনো শুধুই ফুটবলে সীমাবদ্ধ বলে ফর্টিস গ্রুপের মাঠে কোনো উইকেটও নেই। তাই মুশফিকের পক্ষে সেখানে পুরোপুরি ক্রিকেটীয় অনুশীলনে নেমে পড়াও সম্ভব নয়। যদিও অচিরেই ক্রিকেটের সুযোগ-সুবিধাও যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফর্টিস গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মঈনুল হোসেন, ‘আমাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন নিজে থেকেই ক্রিকেটারদেরও অনুশীলনের সুযোগ করে দিতে বলেছেন। এরপর আমরা একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের মাধ্যমে মুশফিকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমাদের একাডেমি ফুটবলের হলেও আমরা ইতিমধ্যে ক্রিকেট পিচ তৈরিরও উদ্যোগ নিয়েছি। এমনকি উইকেটের মাটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কথা এগিয়েছে আমাদের।’

কিন্তু এটিও বেশ সময়সাপেক্ষ। কত সময়? সে ধারণা দিতে গিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কিউরেটর জাহিদ রেজা বলেছেন, ক্রিকেটের কোনো সেট আপ নেই, এমন জায়গায় ভালো মানের ন্যাচারাল প্র্যাকটিস উইকেট বানাতেও অন্তত সাত মাস সময় প্রয়োজন। কাজেই ব্যাট-বলের অনুশীলনে মুশফিকদের কাছে মিরপুরের বিকল্প কিছুতেই ফর্টিসের মাঠ হয়ে উঠবে না। হয়তো খোলা মাঠে দৌড়াদৌড়ির আনন্দ মিলবে। কিন্তু সেটিও তো মিরপুরের ‘হোম অব ক্রিকেটে’ই করা সম্ভব।

আর বিসিবিও যখন বলে আসছে, খেলোয়াড়দের জন্য সব কিছু তৈরিই রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যাতে সুযোগ-সুবিধা প্রস্তুতে বাড়তি সময় ব্যয় না হয়, সে জন্য এই করোনার সময়েও ব্যস্ত রাখা হয়েছে মাঠকর্মীদের। তাহলে ক্রিকেটারদের অনুশীলনের সুযোগ দিতে এত বিলম্ব কেন? বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী অবশ্য কোনো বাধা দেখছেন না, ‘চাইলে যে কেউ নিজ দায়িত্বে মিরপুরে অনুশীলন করতেই পারে।’ নিজ দায়িত্বে বলতে সব ধরনের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়ম মানার ব্যাপারটিই বুঝিয়েছেন তিনি।

আগের দিনই মিরপুরে ঢুঁ মেরে যাওয়া মুশফিকের তো এই সুযোগটি না নেওয়ার কথা নয়। নিজাম উদ্দিনের ধারণা, ‘মুশফিক যেটি করেছে, সেটি করেছে নিজ দায়িত্বেই। এতে বোর্ডের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমরা আগেও বলেছি, আমাদের ফ্যাসিলিটিজ রেডি। খেলোয়াড়রা চাইলে ব্যবহার করতে পারে। আমার মনে হয়, মিরপুরকে হয়তো এখনো নিরাপদ মনে করছে না মুশফিক। কারণ এটি এখনো রেড জোনের মধ্যেই আছে। এ জন্যই নিজস্ব সোর্সে অন্য জায়গা ব্যবহার করছে। যেটি মিরপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়ও নয়। মিরপুর নিয়ে এখনো অনেকের ভয় আছে।’

যদিও সেই ভয় একদমই নেই শামসুর রহমানের। করোনার শুরু থেকেই মিরপুর অন্যতম আক্রান্ত এলাকা। তবু এর মধ্যেই একাডেমির মাঠ কিংবা জিমে নিয়মিত উপস্থিতি এই জাতীয় ক্রিকেটারের। অবশ্য একজনকে দিয়ে সবাইকে বিচার করতে চান না বিসিবি প্রধান নির্বাহী, ‘সবাই এক রকম নাও হতে পারে। কোনো পরিবারের পাঁচ ভাইয়ের একজন মনে করতে পারে এই পরিস্থিতিতে ঘর থেকে বের হওয়া ঠিক হবে না। আরেকজন হয়তো বাইরে বের হওয়াকে দোষেরই মনে করে না। এটা আসলে ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে। শামসুর রহমান মিরপুরে অনুশীলন করলেও মুশফিক হয়তো নিরাপদ মনে করছে না।’ এই মনে না করায় বিসিবিরও প্রভাব আছে। কারণ নিজাম উদ্দিন এক ফাঁকে এও তো বলেছেন, ‘আমাদের ফ্যাসিলিটিজ রেডি। তার পরও বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুশীলন করার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করছি। করলেও যেন পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে করে।’ বোর্ডের নিরুৎসাহ দেখেই হয়তো অন্য কোথাও ছুটলেন মুশফিক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা