kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

ক্রিকেট ফিরছে নতুন রূপে

রাহেনুর ইসলাম   

৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রিকেট ফিরছে নতুন রূপে

‘মনে হচ্ছে কল্পবিজ্ঞানের সিনেমা! প্রতি মোড়েই হাতের জীবাণুনাশক। মেঝেতে তীরচিহ্ন, রেখা, পদচিহ্ন এঁকে কোন দিকে যেতে হবে, কতটা দূরত্ব মানতে হবে—এসব দেখানো হয়েছে। আর খাবারের সময়টা যেন স্কুলের দিনগুলোতে ফিরে যাওয়ার মতো ব্যাপার’—বিবিসিতে লেখা কলামে বদলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটটা এভাবেই তুলে ধরেছেন ইংলিশ পেসার মার্ক উড। আজ থেকে লাল বলে পাঁচ দিনের টেস্টই খেলবে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। করোনার কারণে থমকে পড়া ক্রিকেট-গাড়ি আজ আবার চলতে শুরু করবে নানা বিধি-নিষেধ মেনে।

বলের ঔজ্জ্বল্য রক্ষার জন্য থুতু মেশানো যাবে না। দর্শক থাকবে না মাঠে। বিখ্যাত ‘বার্মি আর্মি’ তাই দেখা যাবে না সিরিজে। এ নিয়ে আক্ষেপও জানিয়েছেন ইংলিশ ক্রিকেটাররা। থার্মাল টেস্ট হবে প্রতিদিন। মাঠের ধারে হাত ধুতে দেখা যাবে খেলোয়াড়দের। বোলারদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে হেডব্যান্ড পরার, যেন মাথার ঘাম মুখে লাগলে হাত দিয়ে মুছতে না হয়। টেস্ট চলার সময় কেউ করোনা আক্রান্ত হলে ‘কনকাশন সাবস্টিটিউট’য়ের আদলে থাকবে কভিড-১৯ বদলি।

উইকেট পেলে আগের মতো সতীর্থদের জড়িয়ে উল্লাস করা যাবে না। তাই প্রস্তুতি ম্যাচে কনুই দিয়ে কনুই ঠেকিয়ে নতুন উদ্যাপনের ‘অনুশীলন’ করতে দেখা গেছে ইংলিশ ক্রিকেটারদের। বরাবরই অভিনবত্ব আনা ক্যারিবিয়ানরাও হয়তো করবেন নতুন কিছু। ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ জার্সিতে লিখে সিরিজটা খেলবে তারা। নিরপেক্ষ নয়, ম্যাচ পরিচালনা করবেন স্থানীয় আম্পায়াররা। তাই একটি করে বাড়তি রিভিউ থাকছে।  এর পরও সিরিজটি ঐতিহাসিক। করোনার ভয় কাটিয়ে যে ১১৭ দিন পর ফিরছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। দুটি বিশ্বযুদ্ধের পর এত লম্বা বিরতি আর পড়েনি ক্রিকেটে।

ফাঁকা মাঠের ভূতুড়ে পরিবেশের ছবি বদলাতেই প্রযুক্তির ব্যবহারে সিদ্ধান্ত হয়েছে শব্দ ব্যবহারের। দিনভর চলবে তুমুল চিৎকার। ঘন ঘন হাততালি। খেলোয়াড়দের তাতানোর জন্য স্লোগান। ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতি এমন কৃত্রিমভাবেই দর্শকের অভাব পূরণ করবে ইসিবি। বেন স্টোকস, জেসন হোল্ডারদের ম্যাচ টিভিতে দেখার সময় অন্য রকম অনুভূতি দেবে এসব। ঠিক যেমনটা হয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল লিগে। ক্যারিবিয়ান পেসার কেমার রোচ স্বাগত জানিয়েছেন এই উদ্যোগকে, ‘ইংল্যান্ডে খেলার সময় দেখেছি গ্যালারি সব সময় কিছু না কিছু করে। একদম শব্দহীন থাকার চেয়ে কিছু শব্দ হলেও ভালো।’



নজিরবিহীন এই টেস্টে ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ধারাভাষ্যকার আর স্টাফদেরও রাখা হয়েছে সাউদাম্পটনের মাঠে জৈবিক সুরক্ষা বলয়ে। গ্যালারির গায়ের ভেতরেই রয়েছে হোটেল হিলটন। সেখানেই থাকছেন ম্যাচসংশ্লিষ্ট সবাই। একবার যিনি এই বলয়ে ঢুকবেন তিনি ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর বের হতে পারবেন না। এভাবে কি খেলাটা উপভোগ করা সম্ভব? ইংলিশ সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন বাস্তবতাটা মেনে নিয়েছেন, ‘এভাবে কেউ ক্রিকেট আয়োজন করতে চায় না। এর পরও ক্রিকেট ফিরছে বলে খুশি আমি। ফুটবলের মতোই ফাঁকা মাঠে হবে খেলাটা, কিন্তু দর্শকরা দেখতে পারবেন বাড়িতে বসে টিভিতে। অন্তত সরাসরি ক্রিকেট তো দেখা যাবে।’

করোনা মহামারির মাঝেও সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রিকেট আয়োজনের জন্য ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী মানু সোয়াইনি। স্বাগত জানিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ফিল সিমন্সও, ‘এটা অন্যদের দেখিয়ে দিতে পারে কঠিন সময়ে কিভাবে খেলা সম্ভব। এত উদ্বেগের মাঝেও খেলা চালু করায় প্রশংসা পেতেই পারে ইসিবি। দেখতে চাই কী বার্তা নেয় অন্যরা। মানুষ খেলা দেখতে চায় তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ক্রিকেটের এমন প্রত্যাবর্তন।’

উইজডেন সিরিজের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজই। গত বছর নিজেদের মাটিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল তারা। তবে ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি সেই ১৯৮৮ সালের পর। জেসন হোল্ডারের দল কি পারবে ব্যর্থতার বৃত্তটা ভাঙতে? কাজটা সহজ নয় জেনে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা বলে ফেলেছেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাঁচ দিন টিকতে পারবে না। চার দিনেই করতে হবে যা কিছু।’ কারণ জেমস অ্যান্ডারসন, জোফ্রা আর্চার, বেন স্টোকস, মার্ক উডের মতো তিন পেসার সামলাতে হবে তাঁদের ব্যাটসম্যানদের। স্টুয়ার্ট ব্রড হয়তো বিশ্রামে থাকবেন এই ম্যাচে। এমনটা হলে আট বছর পর নিজেদের মাটিতে কোনো টেস্টে খেলা হবে না তাঁর। আবার কেমার রোচ, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল, জেসন হোল্ডার, আলজারি জোসেফদের সামলানো সহজ হবে না ইংলিশদের। তিন ম্যাচের সিরিজের চাবি তাই পেস চতুষ্টয়ের হাতেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা