kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

শুল্ক আইনের ফাঁদে শ্যুটিং

৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুই বছর আগে উপহার পাওয়া এয়ারগান ও এয়ারপিস্তল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্যুটাররা। সেগুলো নিয়ে এত দিন শ্যুটিং করার পর আট শ্যুটারের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ তুলেছে দেশের শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। কিন্তু শ্যুটাররা বলছেন, এয়ারগান কিংবা এয়ারপিস্তলের শুল্ক পরিশোধের আইনটিই তাঁদের অজানা।

তা ছাড়া এতবার এয়ারগানগুলো নিয়ে তাঁরা বিদেশে খেলতে গেলেও বিমানবন্দরের শুল্ক বিভাগ কোনো প্রশ্ন তোলেনি। অভিযুক্ত এক শ্যুটার বলছেন, ‘২০১৭ সালে এয়ারগান নিয়ে জার্মানি থেকে ফেরার পথে বিমানবন্দরেও শুল্ক দেওয়ার কথা বলেনি। আমাদের সিনিয়র শ্যুটাররাও কখনো বলেননি শুল্ক দেওয়ার নিয়মের কথা।’ ২০১৭ সালে বিশ্বকাপ খেলতে জার্মানিতে গিয়ে তাঁরা এয়ারগানগুলো উপহার পেয়েছিলেন কার্ল ওয়ালথার কম্পানি থেকে, যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক ড্যানিশ কোচ ক্লাভস ক্রিস্টেনসেনের সুসম্পর্কের সুবাদে বাংলাদেশি আট শ্যুটারকে উপহার দেওয়া হয়েছিল আটটি এয়ারগান। এঁদের সঙ্গে আরো ছয় শ্যুটারের বিরুদ্ধেও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়েছে। কমনওয়েলথ গেমসের দুই রুপাজয়ী শ্যুটার আবদুল্লাহ হেল বাকি ও শাকিল আহমেদ, প্রথমবারের মতো সরাসরি যুব অলিম্পিকে খেলা অর্ণব শারার লাদিফ, জাতীয় চ্যাম্পিয়ন রাব্বি হাসান মুন্না, রিসালাতুল ইসলাম, আতকিয়া হাসান দিশাসহ দেশের প্রথম সারির শ্যুটাররাই আছেন অভিযোগের তালিকায়। প্রত্যেকের কাছে আলাদা আলাদা চিঠি গেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তরফ থেকে।

সেই চিঠি পেয়ে পরশু শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের শুনানিতে হাজির হয়ে অর্ণব শারার লাদিফ হতাশার সঙ্গে জানিয়েছেন, ‘এই এয়াররাইফেলটাই আমার কিংবা দেশের গৌরবের অংশীদার। এটি জার্মান থেকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। এয়ারগান দিয়ে মানুষ মারা যায় না। যা-ই হোক, শুল্কের বিষয়টা আমি জানতাম না। তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রশ্নের সদুত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমি। তাঁরাও আমার সঙ্গে খুব ভালো ব্যবহার করেছেন।’ তবে এ ঘটনায় একটু বিব্রত নৌবাহিনীর এই শ্যুটার ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেন, ‘এই এয়াররাইফেল এনে কোথাও বিক্রি করিনি কিংবা কারো ক্ষতিও করিনি। বিদেশের মাঠে দেশের পতাকা উড়িয়েছি। তাই মাননীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’ তাঁর সঙ্গে একই দিনে শুনানি হয় কমনওয়েলথ গেমসের রুপাজয়ী আবদুল্লাহ হেল বাকি, রিসালাতুল ইসলাম ও রাবিব হাসান মুন্না।

শুনানিতে অংশ নেওয়া এক শ্যুটারের মনে হয়েছে, ‘শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ উদ্বিগ্ন হয়েছিল, আমাদের এয়ারগানগুলোকে আগ্নেয়াস্ত্র ভেবে। কারণ তাদের কাছে কেউ একজন উড়োচিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে লেখা আছে অস্ত্র চোরাচালানির কথা আর আমাদের রাইফেলগুলো নাকি দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। উড়োচিঠিতে সুকৌশলে এয়ারগানের কথা এড়িয়ে অস্ত্রের কথা বলা হয়েছে।’ অথচ এয়ারগান আর আগ্নেয়াস্ত্রে আকাশ-পাতাল ফারাক। আগাম অনুমতির প্রয়োজন হয় না, ঘোষণা দিয়ে শুল্ক পরিশোধ করলেই আনা যায়। শুল্ক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘আগ্নেয়াস্ত্র আনতে গেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে, সঙ্গে আরো কিছু আইন-কানুন আছে। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যবহার ছাড়া ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এয়ারগান আনতে গেলে ডিক্লারেশন দিতে হয় এবং শুল্ক পরিশোধ করতে হয়।’ অর্থাৎ আগ্নেয়ান্ত্রের আইন বড় কঠিন, সেই তুলনায় সহজ এয়ারগান কিংবা এয়ারপিস্তল আনা।

শুনানির মুখে পড়ে কমনওয়েলথ গেমসে রুপাজয়ী আবদুল্লাহ হেল বাকিও বুঝতে পারছেন ভুলটা, ‘আট বছর যাবৎ ফেডারেশন থেকে কোনো অস্ত্র পাইনি। তাই ২০১৭ সালে জার্মানিতে গিয়ে আমি এয়ারগানটি কিনেছিলাম। বিমানের লোকজনই সেটি কাস্টমস বিভাগে পাঠিয়ে দেয়; কিন্তু স্পোর্টস ইকুইপমেন্ট বলে তারা শুল্কের কথা বলেনি আমাকে। এখন শুল্ক গোয়েন্দারা বলছেন ফাঁকি দিয়েছি।’

মন্তব্য