kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

কোটি টাকা ক্ষতির মুখে তারকারাও

৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কোটি টাকা ক্ষতির মুখে তারকারাও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সব কিছুর আগে জীবন। করোনাকালে ক্রিকেট মাঠ থেকে শতহস্ত দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে তাই দ্বিধাবোধ করেননি তামিম ইকবালরা। তবে এই জীবনের ‘মূল্য’ও কম নয়। ক্রিকেট থেকে আপাতত দূরে থাকায় বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কেরই যেমন এই বছর আর্থিক ক্ষতি প্রায় কোটি টাকা।

এ বছর টেস্ট ক্রিকেট থেকেই সবচেয়ে বেশি আয়ের সুযোগ ছিল ক্রিকেটারদের জন্য। দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ ছিল মোট ১০টি। কিন্তু বছরের শুরুতে জিম্বাবুয়ে আর পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি করে টেস্ট খেলা বাংলাদেশ মার্চ থেকে লকডাউনে। এরই মধ্যে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে পাকিস্তানে আর যাওয়া হয়নি মমিনুল হকদের। মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজের সূচি। সফর বাতিল করেছে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশও যাচ্ছে না শ্রীলঙ্কায়। এ ছয় টেস্ট থেকে মমিনুল, তামিম আর মুশফিকদের মতো একাদশের অন্য আটজনের প্রত্যেকের আয় কমেছে ৪৮ লাখ টাকা করে। প্রতি টেস্টের ফি যে ছয় লাখ টাকা করে।

ওয়ানডের সংখ্যা এ বছর অভাবিতভাবে কম, মোটে তিনটি। তাতে চার লাখ টাকা ম্যাচপিছু পারিশ্রমিকের এ ফরম্যাট থেকে একেকজন আয়বঞ্চিত হলেন ১২ লাখ টাকা করে। এ ওয়ানডে তিনটির সময়ও পেরিয়ে গেছে। মে মাসে আয়ারল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা ছিল তামিম ইকবালদের।

তিন ওয়ানডের সিরিজের পর এবারের ইউরোপ ট্যুরের জুন পর্বে ইংল্যান্ডের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেই চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। সেটিও এখন ইতিহাস! এই ফরম্যাটের আরো তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা নিউজিল্যান্ডে। তবে স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে ভীষণ খুঁতখুঁতে কিউইরা অক্টোবরে সেই তিন টি-টোয়েন্টির সিরিজে বাংলাদেশকে আতিথ্য দেবে বলে মনে হয় না। তাতে ম্যাচপিছু দুই লাখ টাকার টি-টোয়েন্টি থেকে এ বছর একাদশের প্রত্যেক ক্রিকেটার ১৪ লাখ টাকা করে আয়বঞ্চিত হলেন। তাতে যে খেলোয়াড় সবগুলো ম্যাচ খেলতেন তাঁর এ বছরেই ফসকে গেল ৭৪ লাখ টাকা।

তিন ফরম্যাট তো আর সবাই খেলেন না। তবে তামিম ও মুশফিক সুস্থ থাকলে সব ফরম্যাটেই খেলতেন। তা ছাড়া ম্যাচ ফি থেকে ৭৪ লাখ টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমাও হতো। অবশ্য এখানেই শেষ নয়, করোনার কারণে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি এবং এশিয়া কাপের ভাগ্যেও মেঘের ঘনঘটা। যদি অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির আসরটি স্থগিতই হয়ে যায়, তাহলে ‘জ্যাকপট’ হাতছাড়া হবে ক্রিকেটারদের। এবারের ফরম্যাটে প্রথমে কোয়ালিফায়ারে তিনটি ম্যাচ রয়েছে মাহমুদ উল্লাহদের। এ পর্ব উতরে গেলে নক আউটে যাওয়ার আগে আরো পাঁচটি—সব মিলিয়ে আট ম্যাচ থেকে প্রত্যেকের ১৬ লাখ টাকা আয় হতে পারে। আইসিসির ইভেন্টে অবশ্য আরো ‘উইনিং বোনাস’ থেকেও বাড়তি প্রাপ্তি আছে ক্রিকেটারদের। অনিশ্চয়তার সুতায় ঝুলতে থাকা সেপ্টেম্বরের এশিয়া কাপ নক আউট পর্বের আগে চারটি ম্যাচ নিশ্চিত সব দলের জন্যই। তাতে অন্তত আট লাখ টাকা ম্যাচ ফিও অনিশ্চিত এখন। নক আউট পর্বে গেলে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির মতো এশিয়া কাপেও ম্যাচ ফি থেকে উপার্জনের পথ খুলতে পারতেন ক্রিকেটাররা।

আইসিসির ফিউচার ট্যুরস প্রগ্রাম (এফটিপি) থেকে এ বছরে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ সব আন্তর্জাতিক ম্যাচ স্থগিত হয়ে গেছে। এখন আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের ইভেন্ট দুটিও যদি একই পরিণতি বরণ করে, তবে সব ফরম্যাট খেলা একজন ক্রিকেটার ম্যাচ ফি থেকেই হারাবেন ৯৮ লাখ টাকা। সঙ্গে উইনিং বোনাস, ম্যাচ কিংবা সিরিজ অথবা টুর্নামেন্ট সেরার অর্থ পুরস্কার আর ট্যুর ফির উদ্বৃত্ত মিলিয়ে কোটি পেরিয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়।

অবশ্য এ তো ২০২০ সালের অঙ্ক। করোনা থেকে ক্রিকেটের কবে নিষ্কৃতি মিলবে কে জানে! তবু ভাগ্য ভালো যে তামিমদের বেতনে এখনো ‘হাত’ দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

মন্তব্য