kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

ঘরোয়া ক্রিকেটই আশার আলো

সাইদুজ্জামান   

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘরোয়া ক্রিকেটই আশার আলো

দেশের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়া ফেডারেশন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বার্ষিক বাজেট দেড় শ কোটিরও বেশি, স্থায়ী আমানতই আছে ছয় শ কোটির মতন। তবে এর ‘জিডিপি’ নির্ভর করে মাঠের ক্রিকেটে থাকা না থাকার ওপর। সেই ক্রিকেট এখন ‘কোয়ারেন্টিনে’; তাই বিসিবির কোনো আয় নেই, আছে শুধুই ব্যয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী অবশ্য অভয় দিয়েছেন, ‘যে ফান্ড আছে, তা দিয়ে দুই বছর চলতে পারব।’

এ অভয় দান অবশ্য এপ্রিলের ঘটনা। করোনাকাল দীর্ঘায়িত হওয়ায় এখন ‘আর কত দিন’ টাইপ অস্থিরতা ছড়িয়েছে বোর্ড কর্মকর্তাদের মাঝেই। সিংহভাগ বোর্ড পরিচালকই মনে করেন, ‘অনেক হয়েছে!’ বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদের কণ্ঠে যেন তারই প্রতিধ্বনি, ‘এভাবে তো বসে থাকা যাবে না।’ বিসিবির যে কর্মকর্তারা উদ্যোগী হয়ে করোনা-দুর্গতদের খবরাখবর নিতেন, সেই তাঁরাই নাকি ‘ডিসট্রেস কল’ ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন অনেক ফোন!

এর কারণও আছে। এক-দুই করে চার মাস পেরিয়ে গেছে। এই সময়কালে চার কোটি টাকার মতো খরচ হয়েছে প্রণোদনার পেছনে। শতাধিক কর্মচারীর নিয়মিত বেতন-ভাতা তো রয়েছেই। কিন্তু আয় হয়নি এক টাকাও। বিসিবির উপার্জনের সবগুলো পাইপলাইনই যে বন্ধ!

বৈশ্বিক ক্রিকেটের নতুন অর্থ ব্যবস্থাপনায় আইসিসির ইভেন্ট থেকেই সবচেয়ে বেশি আয় বিসিবির—বছরে ১২৬ মিলিয়ন ডলার। অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি স্থগিত হয়ে গেলে সে আয়ে ভাটা পড়বে। এ বছরের এশিয়া কাপ ভেস্তে গেলে ঘরের মাঠ থেকেই আয় করতে হবে বিসিবিকে। কিন্তু সেই আয়ের পথও তো বন্ধ। জাতীয় দলের স্থায়ী টিম স্পন্সরশিপ নেই। টিভি সম্প্রচার স্বত্বও অবিক্রীত আছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সম্প্রচার স্বত্ব কিংবা টিম স্পন্সরশিপ আকাশচুম্বী দামে বিক্রির আশা বোর্ডের ‘হার্ডকোর’ পরিচালকও করেন কি না, সংশয় আছে। অবশ্য বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘরের মাঠে ম্যাচ সংখ্যাই এখনো অজানা। বোর্ডের ভেতরে তাই মাঠে ক্রিকেট ফেরানোর তাগিদটা জোরদার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

টিভি সম্প্রচার আর টিম স্পন্সরশিপ থেকে চোখ-ধাঁধানো আয় বিসিবির। ২০১৪ সালে ছয় বছরের জন্য বিসিবি সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করেছিল প্রায় ১৭০ কোটি টাকার বিনিময়ে। অবশ্য কী কারণে যেন সম্প্রচার স্বত্বে উল্লিখিত আয়ের সবটা বিসিবি কখনো পায় না, মে মাসে মেয়াদোত্তীর্ণ সব শেষ মেয়াদেও পায়নি।

ওদিকে ২০১৮ সালের আগস্টে আচমকা ঘোষণা দিয়ে টিম স্পন্সরশিপ থেকে সরে দাঁড়ায় মোবাইল অপারেটর রবি। ২০১৫ সালে টপ অব মাইন্ড নামের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার হাত ঘুরে রবির লোগো জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জার্সিতে বসিয়ে বিসিবি পেয়েছিল ৪২ কোটি টাকা। পরের দুই বছরের মেয়াদে সেটি বেড়ে হয়েছিল ৬০ কোটিতে। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদের অর্ধেক পেরিয়েই সরে দাঁড়ায় রবি। সেই থেকে হ্রাসকৃত মূল্যে অন্তর্বর্তীকালীন স্পন্সরশিপ নিয়ে খেলছে জাতীয় দল। এর বাইরে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় সিরিজের টাইটেল স্পন্সরশিপ, বিলবোর্ড থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় আছে বিসিবির। আর আছে বছরান্তের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। দেশের ক্রিকেট ‘কোয়ারেন্টিনে’ চলে যাওয়ায় বিসিবির আর্থিক ক্ষতিটা তাই অপূরণীয়।

বিশেষ করে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে বৈশ্বিক ধারণা নেতিবাচক বিধায় প্রকাশ্যে আশার বাণী শোনালেও ভেতরে ভেতরে শঙ্কার চোরাস্রোত বহমান। দারুণ অর্থকরী অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ভেস্তে গেছে। শ্রীলঙ্কাও আসছে না। অদূর ভবিষ্যতে কোনো দল বাংলাদেশ সফরে আসবে, তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। তাই বিসিবির প্রধান নির্বাহীর প্রথম লক্ষ্য, ‘হোম সিরিজ।’

ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না ফিরলে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি হবে না। দেশি প্রতিষ্ঠানই যখন সম্ভাব্য ক্রেতা, তখন জাতীয় দলের স্পন্সরশিপের মূল্য হবে প্রত্যাশার চেয়ে কম। সঙ্গে ঘরের মাঠে ভালো খেলার ‘প্রণোদনা’ও পাবেন না ক্রিকেটাররা। এই বাস্তবতায় ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে একটাই পথ দেখেন খালেদ মাহমুদ, ‘ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু করতে হবে। আইসিসি নির্দেশিত সমস্ত প্রটোকল অনুসরণ করে বিশ্বকে দেখাতে হবে যে বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলা নিরাপদ।’

নয়তো টিভি সম্প্রচার স্বত্ব, টিম স্পন্সরশিপ, টাইটেল স্পন্সরশিপ থেকে আয়ের পথ বন্ধ হবে। এমনকি নামি বিদেশিদের উপস্থিতিতে জমজমাট বিপিএল আয়োজনও কঠিন হবে। তাতে ঘরের মাঠ থেকে এক বছরেই এক শ কোটিরও বেশি আয় থেকে বঞ্চিত হবে কিংবা হচ্ছে বিসিবি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা