kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

ফুটবলার বাঁচানোই প্রধান কাজ

সনৎ বাবলা   

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফুটবলার বাঁচানোই প্রধান কাজ

ফুটবলাররা ভালো নেই। অভাবের তাড়নায় ফুটবলার হয়ে যাচ্ছেন ইজি বাইক চালক, দিনমজুর কিংবা ফল বিক্রেতা। ফুটবলের জন্য এটা মোটেও সুখবর নয় জেনেও ফুটবল ফেডারেশনের নাকি এখনই কিছু করার নেই! ফিফার করোনা ত্রাণ তহবিলের অর্থ এবং নির্দেশনা পেলেই তারা সাহায্যের উদ্যোগ নিতে পারবে!

প্রিমিয়ার ফুটবলের নিচের লিগগুলোতে হাহাকার বেশি। ক্ষুধার জ্বালা বেশি। আর সেসব লিগের, অর্থাৎ মহানগরী ফুটবল লিগ কমিটির প্রধানের দায়িত্বে আছেন বাফুফে সদস্য হারুনুর রশিদ। ফুটবলের দীর্ঘদিনের এই সংগঠকের কাছে আছে খেলোয়াড়দের চরম দুর্দশার খবর, ‘ফুটবলারদের অভাবের কথা আমি জানি। পত্রিকায়ও দেখেছি। তরফদার সাহেবকে আমি অনুরোধ করেছিলাম গরিব ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। তা ছাড়া ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর তহবিল থেকে সাহায্যের জন্য খেলোয়াড়দের তালিকা দিতে বলেছি।’ পুরো ক্রীড়াঙ্গন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর, সব খেলার ক্রীড়াবিদদের সাহায্য করছেন তিনি। একশ জন ফুটবলারকে ইতিমধ্যে সাহায্য করেছেন জাহিদ আহসান রাসেল।

বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া উচিত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের, যখন অন্যান্য ফেডারেশনও তাদের খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়াচ্ছে। লিগ কমিটির চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ ফুটবলারের পাশে দাঁড়ানোটা ফেডারেশনের প্রথম কাজ হিসেবে মানেন, ‘আমি নিজেও ফুটবলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। এই দুর্যোগে ফেডারেশনের প্রধান কাজ হলো ফুটবলারদের বাঁচানো। করোনাকালে ফেডারেশন গরিব মানুষদের খাইয়েছে, কিন্তু ফুটবলাররা যে দুবেলা খেতে পারছে না! ফুটবলার না বাঁচলে ফুটবল ফেডারেশন কিংবা কর্মকর্তাদের থাকা, না-থাকা অর্থহীন।’ ফুটবলারদের সুবাদেই ফুটবল বেঁচে থাকে, তারা ভালো-মন্দ খেলার ওপর নির্ভর করে কর্মকর্তাদের সাংগঠনিক সাফল্য-ব্যর্থতা। এই ফুটবলাররা ক্ষুধার জ্বালায় ভুগছে মানে বাফুফের দুর্নাম।

আমাদের কর্মকর্তারা এই বাস্তবতা না বুঝলেও ফিফা প্রেসিডেন্ট ঠিকই বোঝেন। তাই ইনফান্তিনো ২১১টি দেশকে করোনার ত্রাণ তহবিল দিচ্ছেন ১০ লাখ ডলার করে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা। সর্বশেষ লিগের রেজিস্ট্রেশন ধরে হিসাব করলে, চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ থেকে প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগ পর্যন্ত আছে দেড় হাজার ফুটবলার। প্রত্যেককে ১০ হাজার করে দিলে খরচ হয় মাত্র দেড় কোটি। আট কোটির মধ্যে ফুটবলারদের জন্য দেড় কোটি খরচ হলে কি বেশি! ফুটবল ফেডারেশন সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের অবস্থা আমাদের জানা আছে। আমরা তাকিয়ে আছি ফিফার ওই তহবিলের দিকে। খেলোয়াড়-ক্লাব-কোচ-রেফারি এমনকি তৃণমূলের সংগঠকরাও সাহায্য চাইছেন। কিন্তু কিভাবে দেওয়া হবে, সবই নির্ভর করছে ফিফা গাইডলাইনের ওপর।’ এরপর যোগ করেন, ‘ফুটবলারদের সরাসরি দেওয়া হবে নাকি ডিএফএর মাধ্যমে দেওয়া হবে, এখনই বলা মুশকিল।’ জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে দেওয়া মানে আরেক দীর্ঘসূত্রতা। এটা কি ফুটবলারদের সাহায্য করা নাকি পেছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে, কে জানে। ফুটবলারদের সাহায্যের মানসিকতা থাকলে সরাসরিই দেওয়া যায়। কারণ মহানগরী লিগ কমিটি ফুটবল ফেডারেশনের অধীনে।

এ মাসেই ফিফার ত্রাণ তহবিলের পাঁচ লাখ ডলার পাওয়া যাবে প্রথম কিস্তি হিসেবে, বাকিটা দেবে আগামী জানুয়ারিতে। প্রথম কিস্তির সোয়া চার কোটি টাকা পেলেই ফুটবলারদের সরাসরি সাহায্য করতে পারে বাফুফে, এতে ফিফা বাগড়া দেবে বলে মনে করেন না হারুনুর রশিদ। আওয়ামী লীগের এই ক্রীড়া সম্পাদক ফুটবল ফেডারেশনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে মোটেও খুশি নন। কিছু কাজে তাঁর মনেও প্রশ্ন জেগেছে, ‘ফেডারেশন কী করছে আমি জানি না। দেশের মানুষ ভাত খেতে পারছে না আর ফেডারেশনের কয়েকজন মিলে বিদেশি কোচ-টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের সঙ্গে হাজার হাজার ডলারের চুক্তি করছে।  কদিন আগে দেখলাম, তাবিথ আউয়ালকে প্রধান করে টেকনিক্যাল কমিটি করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে এসব চুক্তি ও কমিটির কোনো মানে নেই।’ এই দুঃসময়েও তাঁরা নির্বাহী কমিটির সভার তোয়াক্কা না করে পল স্মলির সঙ্গে পরি-মড়ি করে চুক্তি সেরেছে, কিন্তু সেই আন্তরিকতা কি ফুটবলারদের বেলায় দেখা গেছে!

মন্তব্য