kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

‘পেশির স্মৃতিশক্তি’ লোপে পেছাচ্ছেন ক্রিকেটাররা

মাসুদ পারভেজ   

৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘পেশির স্মৃতিশক্তি’ লোপে পেছাচ্ছেন ক্রিকেটাররা

তারকা ক্রিকেটারদের মধ্যে এমনও কেউ কেউ আছেন যাঁরা দুই দিনও ঘরে বন্দি হয়ে থাকার মতো সুস্থির নন। অথচ নয় নয় করে চার মাস হতে চলল তাঁদের বাসায় থাকার। এঁদের কয়েকজনের ‘গুরু’ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাই চিন্তিত ক্রিকেটারদের মানসিক দিক নিয়েও, ‘এতে করে অনেক বেশি মানসিক প্রভাবও পড়ছে বলে আমি নিশ্চিত।’

সেই সঙ্গে লম্বা সময় ব্যাট-বলের সংযোগ ঘটাতে না পারার অস্থিরতাও কাবু করছে অনেককে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার নাজমুল আবেদীন ফাহিম যেমন তাসকিন আহমেদের মাঠে ফেরার আকুতিও শুনেছেন, ‘সেদিন শুনলাম তাসকিন বলছে, জোরে একটি বল করার জন্য অস্থির হয়ে আছে সে।’

এই অস্থিরতায় কমবেশি সবাইকেই পেয়ে বসার কথা। যদিও যে যার মতো নিজেকে ফিট রাখার প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু ওজন তুলে তুলে কেউ ‘হাল্ক’ হয়ে গেলেও পেশিবহুল শরীর দিয়ে ক্রিকেটের ক্ষেত্রে উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কমই দেখেন এই দুই কোচ। কারণ ক্রিকেট খেলতে যেসব পেশির ব্যবহার লাগে, সেগুলো তো সক্রিয় নয় অনেক দিন থেকেই। সালাউদ্দিন তাই সবার আগে বলে রাখলেন, ‘‘ক্রিকেট-বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকায় অবশ্যই বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। সেটি আপনি বাসায় যতই শ্যাডো করেন বা যা-ই করেন না কেন! ‘মাসল মেমোরি’ বলেও একটি কথা আছে। আপনার পেশি যে কাজে ব্যবহার করে আপনি অভ্যস্ত, সেটিই হচ্ছে না বহুদিন।’’

এই না হওয়ার ফল ক্রিকেটারদের ক্রমেই পিছিয়ে দিচ্ছে বলেও মত বিসিবির চাকরি ছেড়ে বিকেএসপির কোচিং জীবনে ফিরে যাওয়া ফাহিমের। একে একে ব্যাটসম্যান-বোলার ধরে ধরে সমস্যার মূলে যেতে চাইলেন তিনি। সবার আগে এলেন পেসাররা, ‘বোলিং করার সময় যে শারীরিক কসরত ওদের করতে হয়, সেটি কিন্তু ওরা গত প্রায় চার মাস ধরে করার সুযোগ পাচ্ছে না। যতই ওরা ফিটনেস নিয়ে কাজ করুক, বোলিং করার সময়ের নির্দিষ্ট যে লোডিং, শরীরের ওপর যে চাপ তৈরি করতে হয়, তা অনেক দিন ধরেই হচ্ছে না। ঠিক এই জায়গাটিতেই ওরা দিন দিন দুর্বল হচ্ছে। এটি বোধহয় পেস বোলারদের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতির জায়গা।’ দেখালেন ব্যাটসম্যানদের সমস্যার দিকও, ‘ব্যাটসম্যানের পেস বোলিং খেলার যে রিঅ্যাকশনের ব্যাপারটি, সেটিও কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে। কারণ ওরা বল দেখে এবং রিঅ্যাক্ট করে। চোখের যে মাসলগুলো কাজ করে বলকে ট্র্যাক করার জন্য, সেসব এত দিন ধরে কিন্তু ওইভাবে কাজ করছে না। এই মাসলগুলো এত দিন নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে! ওই জায়গাটা ঠিক করতেও সময় লাগবে।’

এখানেই শেষ নয়, সমস্যা আছে আরো, ‘ফিল্ডিংয়ের সময় স্লাইড করা বা ডাইভ দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। যেকোনো রিঅ্যাকশন এবং রিফ্লেক্স নির্ভর কাজে কিছুটা ক্ষতি হবে। নির্দিষ্ট কিছুতে শক্তি প্রয়োগ করার যে ব্যাপার, সেটিতেও সমস্যা হওয়ার কথা।’ সমস্যার সমাধানে তাই এই দুই কোচেরই দ্রুত ক্রিকেট মাঠে ফেরানোর দাবি। ‘পেশির স্মৃতিশক্তি’ লোপে ক্রিকেটাররা যাতে আরো পিছিয়ে না পড়েন! সালাউদ্দিন ক্রিকেট ফেরানোর জোরালো যুক্তিও খুঁজে পাচ্ছেন, ‘কে কাজে ফেরেনি? সবাই ফিরলে ক্রিকেটাররা কেন নয়? আর এখনো যারা ঘরে আছে, তারাও বাজার করতে বের হচ্ছে!’

ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরানোর দাবিতে সোচ্চার ফাহিম ক্রিকেটারদের ‘পেশির স্মৃতিশক্তি’ ফেরানোর সম্ভাব্য সময়কালও অনুমান করতে পারছেন, ‘অন্তত তিন সপ্তাহ অনুশীলন করতে হবে। এই অনুশীলনটি হতে হবে কঠোর। খেলতে হবে অনুশীলন ম্যাচও। আগে স্কিল ঝালাই করে নিতে হবে। এরপর খেলার কথাও ভাবতে হবে। সব কিছু মিলিয়ে আবার ব্যাট-বলে অভ্যস্ত হতে হয়তো আরেকটু সময় লাগবে ওদের।’ তিনি চান খেলা শুরু হোক ঘরোয়া ক্রিকেট দিয়েই, ‘আমরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি কিন্তু। সুতরাং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তৈরি হতে ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু করে দেওয়াটা জরুরি। অনেককে হয়তো আবার শূন্য থেকেও শুরু করতে হতে পারে। ব্যাটে-বলে সংযোগ হওয়াটা ভীষণ প্রয়োজন এখন।’

বিসিবি সেই প্রয়োজন বুঝলেই না ‘মাসল মেমোরি’ ফেরানোর উদ্যোগ নিতে পারেন ক্রিকেটাররাও!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা