kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

চলে গেলেন ত্রয়ীর শেষ জনও

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চলে গেলেন ত্রয়ীর শেষ জনও

অদৃশ্য সূত্রে গাঁথা তিনটি নাম—ওরেল, উইকস, ওয়ালকট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটে বিখ্যাত ‘থ্রি ডাব্লিউজ’-এর জন্ম ১৮ মাসের ব্যবধানে, বার্বাডোজে দুই কিলোমিটারের মধ্যে। ক্যারিবীয় ক্রিকেটের লোকগাথায় আছে, একই ধাত্রীর হাতে জন্ম তাঁদের! ১৯৪৮ সালে এই ত্রয়ীর টেস্ট অভিষেকও তিন সপ্তাহের ব্যবধানে। ‘নাইটহুড’ পেয়েছেন তিনজনই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে ফ্রাংক ওরেল, এভারটন উইকস ও ক্লাইভ ওয়ালকটের হাত ধরেই। পঞ্চাশের দশকে তর্কাতীতভাবে ক্রিকেট বিশ্বের সেরা মিডলঅর্ডার এই ত্রয়ী। ১৯৬৭ সালে মাত্র ৪২ বছর বয়সে মারা যান ওরেল। ৮০ বছর বয়সে ওয়ালকট মারা যান ২০০৬ সালে। পরশু ৯৫ বছর বয়সে তাঁদের সঙ্গী হলেন উইকস। দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগে বার্বাডোজে নিজের বাড়িতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

তিনজনের শেষ ঠিকানাও হতে পারে একই। ব্রিজটাউনের ওভাল পার্কে চিরশয্যায় ওরেল ও ওয়ালটন। একটা জায়গা ফাঁকা রাখা আছে উইকসের জন্য। পরিবারের সম্মতি মিললে ‘থ্রি ডাব্লিউজ’ শান্তিতে ঘুমাতে পারেন একই সঙ্গে। সেখানে হয়তো অন্য দুজন রসিকতাও করতে পারেন, ‘৯৫ বছরেই থামলে, সেঞ্চুরিটা করে আসতে পারলে না!’ তাহলে হয়তো কিছুটা হলেও কমত টানা ছয় টেস্ট ইনিংসে সেঞ্চুরি করতে না পারার আক্ষেপ। ১৯৪৮ সালে ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকস গড়েছিলেন টানা পাঁচ ইনিংসে সেঞ্চুরির রেকর্ড, যা এখনো ভাঙতে পারেননি কেউ। শুরুটা কিংস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪১ রানের ইনিংসে। অথচ ম্যাচটি খেলারই কথা ছিল না তাঁর। কিংবদন্তি জর্জ হেডলি চোট নিয়ে ছিটকে পড়ায় দর্শকরা চাইছিলেন জন হল্টকে। উইকস নামায় দুয়োধ্বনিও দিয়েছিল গ্যালারি। সেই দর্শকরাই করতালিতে বরণ করেন তাঁর ১৪১ রানের ইনিংস।

এরপর সে বছরই ভারত সফরে টানা চার সেঞ্চুরি উইকসের ১২৮, ১৯৪, ১৬২ ও ১০১। চেন্নাইয়ে পরের টেস্টে করেছিলেন ৯০ রান। রান আউট হয়ে ফেরার পর জীবনভর অভিযোগ করে গেছেন, ‘আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে আউট হয়েছিলাম।’ টেস্টে এক হাজার রানে পা রেখেছিলেন ১২ ইনিংসে, যা হার্বাট সাটক্লিফের সঙ্গে যৌথভাবে দ্রুততম। এরপর ইংল্যান্ড সফরে অসাধারণ পারফরম্যান্সে পান উইজডেনের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের স্বীকৃতি। তাঁকে নিয়ে উউজডেন লিখেছিল, ‘সেরা ক্রিকেটারদের যেসব বৈশিষ্ট্য থাকে তার সবই ছিল উইকসের।’ গলায় রুমাল ঝুলিয়ে চোখ-ধাঁধানো পুল, কাট, হুক করতেন নির্লিপ্ততার সঙ্গে। ইনজুরির কাছে হার মেনে এভারটন উইকস ৪৮ টেস্টে ৫৮.৬১ গড়ে ১৫ সেঞ্চুরিতে থামেন ৪ হাজার ৪৪৫ রান করে।

অনেক কাঠখড় পুড়িয়েই গরিবের ঘরে জন্ম নেওয়া উইকস প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন নিজেকে। স্কুল ছাড়তে হয় ১৪ বছর বয়সে। পিকউইক ক্লাব সে সময় পরিচালনা করত কেনসিংটন ওভাল। শ্বেতাঙ্গদের দাপটের জন্য এর সদস্য করা হয়নি উইকসকে। মাঠে আসতেন সূর্যোদয়ের আগে। বাবা ইংল্যান্ডের ফুটবল দল এভারটনের ভক্ত হওয়ায় ছেলের নামও রাখেন ক্লাবের নামে। একসময় ফুটবলের প্রেমে মজে থাকা এভারটন উইকস পরে পেশা হিসেবে বেছে নেন ক্রিকেটকে। আলো ঝলমলে ক্যারিয়ার শেষে হয়েছিলেন ক্রিকেট কোচ। তাঁর হাত ধরে ১৯৭৯ বিশ্বকাপ খেলে কানাডা। সুনাম অর্জন করেছিলেন ব্রিজেও। ছিলেন আইসিসির ম্যাচ রেফারি। তাঁর মৃত্যুতে ভিভ রিচার্ডসের টুইট, ‘শান্তিতে ঘুমাও কিংবদন্তি।’ ভারতীয় সাবেক অধিনায়ক অনিল কুম্বলের শ্রদ্ধা, ‘তাঁর মৃত্যুর খবরে কষ্ট পেয়েছি।’ ক্রিকইনফো

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা