kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

ক্রিকেটে ফেরার পক্ষে-বিপক্ষে

সাইদুজ্জামান   

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার কারণে ঘরে গুটিয়ে থাকা এক সিনিয়র ক্রিকেটার সেদিন বলছিলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগ শুরুর ঘোষণা দিলেই দেখবেন গেট (শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের) ভেঙে ঢুকে পড়ছে ক্রিকেটাররা!’ তাঁরা কারা? যাঁদের সংসার চলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পারিশ্রমিকে। সেই সংখ্যার শক্তি বাঁধভাঙা জোয়ারের চাইতেও বেশি। নইলে শেরেবাংলার অত মজবুত গেট ভেঙে পড়ার উদাহরণ কেন দেবেন তিনি!

গত কয়েক দিনে বিভিন্ন স্তরের ক্রিকেটার, কোচ, ম্যাচ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, গেট ভাঙার মতো জবরদস্তি না হলেও ক্রিকেট শুরুর ‘ঐচ্ছিক’ স্বাধীনতা দিলেও মিরপুরের মূল মাঠ, একাডেমি কিংবা ইনডোর কেঁপে উঠবে ক্রিকেটারদের পদভারে। শুধু প্রিমিয়ার লিগ তো আর নয়, প্রথম, দ্বিতীয় বিভাগ মিলিয়ে করোনায় প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের সিংহভাগ ক্রিকেটার।

মাঠের ক্রিকেটার থেকে এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্মকর্তাদের মনেও সংক্রমিত একই প্রশ্ন। গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ যেমন গতকাল বলেছেন, ‘এভাবে বসে থাকলে তো হবে না। এখন তো করোনার কারণে বোর্ড মিটিং হচ্ছে না। তবে কয়েকজন বোর্ড পরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিভাবে দ্রুত মাঠে ফেরা যায়, সে নিয়ে আলাপও হয়েছে।’

বড় পর্দায় সবাই মিলে অবশ্য বসা হয়নি বোর্ড পরিচালকদের। সেটি বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান আকরাম খানের কথাতেই পরিষ্কার। মাঠে ফেরার জন্য যতটা ‘আক্রমণাত্মক’ মাহমুদ, ঠিক ততটাই ‘সতর্ক’ আকরাম, ‘এখন তো পরিস্থিতি ভালো না। আরো ১০-১৫ দিন দেখি পরিস্থিতির উন্নতি হয় কি না। অবশ্য গত তিন মাস ধরেই ভাবছি বুঝি এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তবে আমি আশাবাদী যে এবার ১০-১৫ দিন পর পরিস্থিতি ইনশাল্লাহ ভালো হবে। তখন মাঠে ফিরব। আমাদের কিন্তু পরিস্থিতি ভালো হলে কিভাবে প্র্যাকটিস হবে, সেই পরিকল্পনা করা আছে।’

খালেদ মাহমুদ এক-দুই সপ্তাহ না, আরো বেশি অপেক্ষার কথা বলেছেন। তবে তাঁর উপলব্ধিতে আশাবাদী হতে পারেন দেশের সিংহভাগ ক্রিকেটার, ‘আমার মনে হয় সেপ্টেম্বরে প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে ক্রিকেটে ফেরা যাবে। এটা নিয়ে মাহবুব ভাইয়ের (মাহবুব আনাম, গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান) সঙ্গে কথা হচ্ছিল। মাঠ তৈরি। বিকেএসপিতে অনেকগুলো মাঠ আছে। ইন্টারন্যাশনাল হোস্টেলে ছেলেদের রাখা যাবে। কক্সবাজারে দুটি মাঠ আছে, যেখানে ক্রিকেটারদের হোটেলে রাখা যাবে। সূচিটা এমনভাবে করা দরকার যেন একটা দল একই ভেন্যুতে গোটা চারেক ম্যাচ খেলে কোয়ারেন্টিনে গেল। সাত দিন পর পর ক্রিকেটারদের করোনা টেস্টও করানো যেতে পারে। অন্তত সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতেই হলেও লিগটা হওয়া দরকার।’

দরকার এ কারণেই যে, বাসায় বসে ফিটনেস নিয়ে কাজ করা যায়। যদিও সেটা শতভাগ ফিটনেসের জন্য যথেষ্ট নয়। তবু এটুকু ঘাটতির সঙ্গে সমঝোতা করা যায়। কিন্তু দীর্ঘ বিরতিতে স্কিল আর ম্যাচ প্র্যাকটিসের যে ঘাটতি, সেটা দূর হবে কি? মাহমুদের দুশ্চিন্তা এখানেই, ‘দেখুন, অন্য অনেকগুলো দল মাঠে নেমে পড়েছে। ওরা আমাদের অনেক আগে ম্যাচের জন্য তৈরি হয়ে যাবে। আমরা প্রায় চার মাস ব্যাট-বল থেকে দূরে আছি। আপনি যত বড় প্লেয়ারই হন না কেন, এমন বিরতিতে আপনার গেম সেন্সে ঘাটতি পড়বেই।’ সেই ঘাটতি দূর করতে সেপ্টেম্বরেই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্য ম্যাচ প্র্যাকটিস আয়োজনের ইচ্ছা মাহমুদের, ‘করোনার কারণে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অনেকগুলো ম্যাচ মিস হয়ে গেছে। আর তো কোনো উপায় নাই। চেষ্টা করব ঈদের পরে ওদের নিজেদের মধ্যে ম্যাচ প্র্যাকটিস আয়োজনের।’

আকরাম খান অবশ্য ভীষণ সতর্ক, ‘১০-১৫ দিন পর যদি পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায়, তাহলে প্রশ্নই আসে না।’ কিন্তু পাকিস্তান তো ঝুঁকি মাথায় নিয়েই ইংল্যান্ডে গেছে! বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যানের যুক্তি, ‘ওদের হয়তো অনেক অপশন (বিকল্প খেলোয়াড়) আছে। কিন্তু আমাদের হাতে বেশি প্লেয়ার নেই। একজন এস্টাবলিস্ট (প্রতিষ্ঠিত) ক্রিকেটার যদি করোনায় আক্রান্ত হয়, তাহলে তার বিকল্প কোথায় পাব?’

অথচ চোট, অসুস্থতা কিংবা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন সময়ে মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের ছাড়াও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা