kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

নানা প্রশ্ন জাগিয়ে ফিরছেন স্মলি

২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নানা প্রশ্ন জাগিয়ে ফিরছেন স্মলি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ব্রুনেইয়ে মাত্র ছয় মাস কাটিয়ে পল স্মলি আবার ফিরছেন বাংলাদেশে! এই ব্রিটিশ-অস্ট্রেলিয়ানকে বাদ দিয়ে যেন ফুটবল উন্নয়ন চিন্তা করতেই পারছে না বাফুফে। তাই নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে তড়িঘড়ি করে তাঁকে ফেরাচ্ছে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর করে।

তবে বাংলাদেশ ছাড়ার পর ব্রুনেই জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় কোচ ডেভেলপমেন্টের কাজও ছিল। ছয় মাসের মাথায় সেই চাকরি ছেড়ে এখন ঢাকার বিমান ধরার অপেক্ষায়। বসবেন আগের পদেই—টেকনিক্যাল ডিরেক্টর! এই পদে তিন বছর থেকে পল থমাস স্মলি গত অক্টোবরে বিদায় নিয়েছিলেন। বিদায়বেলায় ফেডারেশনের দু-একজন বাদে কারো মুখে শোনা যায়নি তাঁকে হারানোর আফসোস। আফসোস বা আনন্দ দুটোই নির্ভর করে ব্যক্তির কৃতকর্মের ওপর। ফুটবল-সংশ্লিষ্ট বেশির ভাগের চোখে লেগেছিল তাঁর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পদের সঙ্গে কর্মের গরমিল। গালভরা পদ হলেও শুধু তিনি পড়ে থাকতেন ৪০-৪৫ জন মেয়ে ফুটবলার নিয়েই। মেয়ে দলের নির্দিষ্ট কোচ থাকার পরও তিনি ট্রেনিংয়ে গিয়ে নাক গলাতেন। এ নিয়ে কয়েকবার ঝামেলাও হয়েছিল। অথচ পদ অনুযায়ী তাঁর কাজের ক্ষেত্র কিন্তু অন্য—ফুটবল উন্নয়ন পরিকল্পনা করা, ফুটবলার সরবরাহ লাইনগুলো পরিষ্কার করা এবং ঢাকার বাইরের ফুটবলকে একটা ছকে আনা। ওসব কাজে কখনো তাঁর আগ্রহ দেখা যায়নি।

অবশ্য আগ্রহ নিয়ে করতেন কোচেস কোচিং কোর্সগুলো। সেখানে তিনি দক্ষও বটে। যদিও এটা ‘টিডি’র কাজ নয়, এএফসি-ফিফার নামি-দামি ইন্সট্রাক্টর আনলেই ভালো কোর্স হয়। ব্রুনেই অবশ্য সেই ভুল করেনি। তাঁকে দিয়েছিল জাতীয় দলের হেড কোচের দায়িত্ব। ছয় মাসে একটি প্রীতি ম্যাচও না খেলে তিনি চাকরি ছাড়েন দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায়। অথচ ওখানে বাফুফে খুঁজে পেয়েছে (প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে) তাঁর তুমুল সাফল্য, ‘খুব সাফল্যের সঙ্গে তিনি ব্রুনেইয়ে কাজ করেছেন।’

সাফল্য না দেখালে আট মাস আগে বিদায় দেওয়া পল স্মলিকে আনবেও বা কী করে! আসলে সবই নাটক। কিছুদিন আগে বাফুফের সহসভাপতি তাবিথ আওয়াল ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, ‘বাফুফের নির্বাহী কমিটিতে স্মলির নিয়োগের সিদ্ধান্ত হবে।’ আট মাস পর আবার স্মলি-শরণ! তবে সেই নির্বাহী কমিটির সভা কিন্তু হয়নি। বাফুফের কয়েকজন সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা এসব নিয়োগের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। তাঁদের একজন তুলেছেন আরেকটি সংগত প্রশ্ন, ‘কোনো জাতীয় সংস্থায় বড় পদে কাউকে নিতে গেলে বিজ্ঞাপন দিতে হয়। ক্রিকেট বোর্ডও কিন্তু কোচের জন্য বিজ্ঞাপন দেয়। তখন ভালো-মন্দ যাচাই করে একজনকে নেওয়া হয়। আমাদের ফুটবল এসব নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পল স্মলিকে আনার জন্য পাগল হয়ে গেছে। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না কে জানে।’ সন্দেহ আসলে অনেক। ফুটবল স্থবির হয়ে আছে, সঙ্গে করোনা মহামারি। সামনে হবে বাফুফে নির্বাচন। এর মধ্যে তড়িঘড়ি করে চড়া দামে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর দেওয়া কতটা যৌক্তিক!

শুধু কি তাই। ১ জুলাই থেকে স্মলির চাকরি শুরু হয়ে গেছে, চাকরি এখন অনলাইনে। সশরীরে যোগ দেবেন দুই মাস বাদে। এদিকে তাঁকে পেয়ে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বেশ খুশি, ‘পল আবার ফেডারেশনে ফিরছে, তাই আমরা আনন্দিত। সে একজন অভিজ্ঞ ও আধুনিক টেকনিক্যাল ডিরেক্টর। এর আগে সে আমাদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটিয়েছে।’ তাঁকে প্রধান করে একটি টেকনিক্যাল বিভাগ খোলার ঘোষণা দিয়েছে বাফুফে। এই বিভাগ ঢাকার বাইরে ফুটবল উন্নয়নের কাজ করবে। তৃণমূল ও যুব ফুটবল উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে টেকনিক্যাল বিভাগটি। পাশাপাশি দেশের নারী ফুটবলও অগ্রাধিকার পাবে তাদের কাছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা