kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

ক্লাবের চেয়ে জাতীয় দল সহজ!

সনৎ বাবলা   

১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্লাবের চেয়ে জাতীয় দল সহজ!

বঙ্গবন্ধু কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জোড়া গোলের পারফরম্যান্সের পর তাঁকে নিয়েই ফুলছিল প্রত্যাশার বেলুন। কিন্তু বুরুন্ডির বিপক্ষে সেমিফাইনালের শুরুতে সেটা চুপসে যায় ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়েন মতিন মিয়া।

ভবিষ্যতে মানুষ করোনা মহামারির সময়টা ভুলে যেতে চাইলেও মতিন মিয়া চাইবেন না। আসলে সম্ভবও নয়! আকালের সময়ে এ ফুটবলারের জীবনে সুন্দরের আলিঙ্গন এবং সত্য উপলব্ধি হয়েছে। করোনার আগে আগে নিজের জীবনসঙ্গীকে খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি হয়েছে এক বাস্তব উপলব্ধি—জাতীয় দলের চেয়ে ক্লাব একাদশে জায়গা পাওয়া কঠিন!

মতিন এমনিতে খুব চুপচাপ স্বভাবের। ভালোবাসেন নিজের মতো থাকতে। এই নিজস্ব ভুবনে হুটহাট মিডিয়ার শোরগোল ফেলে দেওয়া তাঁর অপছন্দের। তাই এ ফরোয়ার্ডের বিয়ের খবর নিয়ে হয়নি অত হৈচৈ। জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছেন একরকম গোপনে, সে কথা প্রকাশ্যে আনতেও যেন লাজে মরে যান, ‘এ আর কী বলব...। আগের কোনো সম্পর্ক নয়, পরিবারিকভাবে জানুয়ারিতে বিয়েটা সম্পন্ন হয়েছে।’ দুজনের নতুন জীবন শুরুর একটা ছবি চাওয়ার কথা শুনেই ঘোর আপত্তি বসুন্ধরা কিংস ফরোয়ার্ডের, ‘এসবের দরকার নেই, আমরা বেশ আছি।’ তাঁদের জন্য এটা দারুণ সময়, করোনার বিরতি যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে তাঁদের যুগল-জীবনে, ‘আমরা খেলোয়াড়রা খুব ছুটি পাই না, পরিবারকেও সেভাবে সময় দিতে পারি না। লকডাউন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর ভালো সুযোগ করে দিয়েছে। তা ছাড়া হালকা-পাতলা ব্যায়াম করে ইনজুরি কাটিয়ে এখন সুস্থ হয়েছি।’

জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের পর থেকে তিনি ইনজুরিতে। লিগে বসুন্ধরা কিংসের তাঁকে প্রয়োজন হলেও খেলতে পারেননি একটি মাচও। বঙ্গবন্ধু কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জোড়া গোলের পারফরম্যান্সের পর তাঁকে নিয়েই ফুলছিল প্রত্যাশার বেলুন। কিন্তু বুরুন্ডির বিপক্ষে সেমিফাইনালের শুরুতে সেটা চুপসে যায় ইনজুরি নিয়ে মতিন মিয়ার মাঠ ছেড়ে যাওয়া এবং বিদায়ঘণ্টা বাজে বাংলাদেশেরও। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হয়, তাঁর বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট। ডা. দেবাশীষের পরামর্শ ছিল বিশ্রাম ও হালকা ব্যায়ামের। তা করে এখন দিব্যি সুস্থ বলে তাঁর দাবি, ‘আমার চোট সেরে গেছে। এখন বাড়িতে নিয়মিত ফুটবল নিয়ে ট্রেনিং করি। মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে আছি।’

ঘরোয়া ফুটবল অনিশ্চয়তায় ঘিরে থাকলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরছে বাংলাদেশ। অক্টোবর-নভেম্বরে বাংলাদেশ খেলবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের বাকি চার ম্যাচ। বসুন্ধরা কিংসও একই সময়ে খেলবে এএফসি কাপের বাকি ম্যাচগুলো। দুই দলেই ২২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের খেলার সুযোগ আছে এবং চ্যালেঞ্জটাও তিনি নিতে চান, ‘আমি ইনজুরি থেকে ফিরছি, তাই পরিশ্রম করে কোচের আস্থা ফেরাতে হবে। আশা করি আমি পারব।’ এদিকে এএফসি মিশন সফল করতে তাঁর ক্লাব খুঁজছে আরো ভালো মানের বিদেশি। ২০১৮-১৯ মৌসুমে অবশ্য এই বিদেশিদের সঙ্গে লড়াই করে তিনি নিজের জায়গা করেছিলেন দলে। সেবার লিগে গোল করেন ১১টি আর করিয়েছেন দু’টি।

সেটা এক বছর আগের কথা। নতুন বিদেশি আসছে, সুতরাং তাঁকে আবার দলের জায়গা নবায়ন করার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। চ্যাম্পিয়ন দলের ভেতরকার এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখে তাঁর মনে হচ্ছে, ‘ক্লাবের চেয়ে জাতীয় দল সহজ। আমাদের ক্লাব একাদশে ঢোকার জন্য অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়। কিংসে ১১-১২ জন জাতীয় দলের খেলোয়াড়, একাদশ গড়লে চার-পাঁচজনকে বেঞ্চে থাকতে হয়। ফরোয়ার্ডের খেলোয়াড়দের জন্য একাদশে জায়গা পাওয়া আরো কঠিন।’ দেশি-বিদেশি মিলিয়ে বসুন্ধরা কিংসে ভালো খেলোয়াড়ের অভাব নেই, এর মধ্য থেকেই সেরাদের বেছে নিতে হয় কোচ অস্কার ব্রুজোনকে।

ঠিক উল্টো অবস্থা জেমি ডে’র। দেশের ক্ষয়ে যাওয়া ফুটবলে ভালো খেলোয়াড়ের সংখ্যা এত সীমিত যে ডুবুরি হয়ে খুঁজতে হয়। যে কজনকে খুঁজে পাওয়া যায় তাঁদের মধ্যে অনেকে আবার ঘরোয়া ফুটবলে অনিয়মিত। তাঁদের ফুটবলমুখো করে রাখতে সুদূর ইংল্যান্ড বসে কোচ যোগাযোগ করেন, প্রেসক্রিপশন পাঠান। তাতেই অভিভূত মতিন, ‘কোচের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। অনেকবার আমার ইনজুরির খবর নিয়েছেন। সর্বশেষ জানিয়ে দিয়েছি—আমি পুরোপুরি সুস্থ। বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলার জন্য তৈরি।’ এটা নিশ্চয়ই জাতীয় দলের কোচের জন্য বড় সুখবর। দলে এমনিতেই গোল করার লোক নেই। বাছাই পর্বে এখনো জয়ের দেখা পায়নি, ঘরের মাঠে ভালো সুযোগ আছে ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এগুলোতে বড় অস্ত্র হতে পারেন বঙ্গবন্ধু কাপের শ্রীলঙ্কার ম্যাচের জোড়া গোলের নায়ক। তাঁরও ঝোঁকটা বেশি লাল-সুবজ জার্সির দিকে, ‘জাতীয় দলে অত লড়াই না হলেও ক্লাবের প্রতিদ্বন্দ্বিতাই কিন্তু জাতীয় দলের পথ সুগম করে। ওখানে ভালো করলে, দেশকে জেতাতে পারলে যশ-খ্যাতিও বেশি।’ খ্যাতির মোহে মতিন মিয়ার নতুন চ্যালেঞ্জ বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা