kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা নিয়েই গেলেন তিনি

৩০ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা নিয়েই গেলেন তিনি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নানা রোগ-শোকের মধ্যে জীর্ণ শরীরের খাঁচায় শুধু প্রাণটাই ছিল। কাল সেই প্রাণপাখিটাও উড়ে গেছে অচিনপুরে। বিয়োগ হলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের আরেক ফুটবলযোদ্ধা—লুত্ফর রহমান। ৬৯ বছর বয়সে যশোরে আর এ রোডের বাসায় সকাল পৌনে ৯টায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। স্ত্রী-কন্যা-পুত্র-পরিজনদের রেখে তিনি যশোরে পারিবারিক কবরস্থানে চিরশায়িত হয়েছেন। তার আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে গার্ড অব অনার।

ডায়াবেটিসসহ নানা রোগের বসতি ছিল শরীরে, তাই কিছু করার উপায় ছিল না তাঁর। সঙ্গে ছিল ছেলে-মেয়ের দুশ্চিন্তা, মেয়েটি ভুগছে মানসিক বিকারে। সংসারে আয়ের কোনো উত্স নেই। শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর কিছু জমিজমা থাকায় তা দিয়ে কোনো রকমে দিন কেটে যাচ্ছিল। এসব নিয়ে নিজের মনে ছিল দারুণ আত্মগ্লানি। তবে ব্রেইন স্ট্রোকের পর গত বছর তাঁর চিকিত্সা ব্যাহত হওয়ার খবর শুনে প্রধানমন্ত্রী পাশে দাঁড়ান। নিজের তহবিল থেকে ৩০ লাখ টাকা পাঠান তাঁর চিকিত্সা ও পরিবারের জন্য। তাতেই তাঁর গ্লানি মোচন হয়।

তাঁর বিদায়ও হয়েছে গৌরবের সুরভি মেখে। কারণ ফুটবল ও স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। জেলা পর্যায়ে অবশ্যই হকি, ফুটবল, ক্রিকেট সবই খেলতেন। ১৯৬৯ সালে ঢাকায় এসে হয়ে গেলেন ফুটবলার, ওয়ারীর রাইট-ইন পজিশনে খেলতেন। তবে গৌরবের অংশটা ওপার-বাংলায়। মুক্তিযুদ্ধে প্রাণে বাঁচাতে তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন কলকাতায়। কিন্তু থাকা-খাওয়াার কোনো বন্দোবস্ত নেই ওখানে। সেটাও হয়ে গেল কুমিল্লার এক পরিচিত জনের সুবাদে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে। ফুটবল খেলার সুবাদেই এই সুযোগ, যদিও কখনো ইস্টবেঙ্গলের জার্সি চাপানোর সুযোগ হয়নি। তবে কিছুদিন বাদে যে জার্সি পরেছিলেন, পৃথিবীর আর কোনো দেশের ফুটবলারদের সেই সৌভাগ্য হয়নি। সেটা হলো ঐতিহাসিক স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল, কোনো দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে পাওয়া যাবে না ফুটবলের এমন গৌরবগাথা। বেঁচে থাকাকালে তিনি অবশ্য দাবি করতেন, তিনি এবং আলী ইমাম মিলেই আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রথমে এমন একটি ফুটবল দল গড়ার কথা জানিয়েছিলেন। যদিও দলের অনেকে এই দল গঠনের উদ্যোক্তা হিসেবে স্বীকার করেন সাইদুর রহমান প্যাটেলকে। সে যা-ই হোক, স্বাধীন বাংলা দলের হয়ে চারটি ম্যাচ খেলেছেন এবং শেষ দিন পর্যন্ত এগুলোই ছিল তাঁর জীবনের অমূল্য সম্পদ।

কিন্তু বিনিময়ে শেষ জীবনে পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা। তাতে করে অন্তত না পাওয়ার গ্লানি ভুলে বিদায় নিতে পেরেছেন বীর ফুটবল মুক্তিযোদ্ধা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা