kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

ফুটবল ক্যাম্প শুরুর তোড়জোড়

► ফুটবলারদের আট সপ্তাহের ট্রেনিং প্রগ্রাম পাঠিয়েছেন কোচ
► ৮ অক্টোবর ম্যাচের আগে কোচ চেয়েছেন ছয় সপ্তাহের ট্রেনিং ক্যাম্প
► দেশে কিংবা বিদেশে প্র্যাকটিস ম্যাচের তাগাদা দিয়েছেন কোচ
► প্রাথমিক তালিকায় যোগ হয়েছেন চার নতুন ফুটবলার

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফুটবল ক্যাম্প শুরুর তোড়জোড়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিশ্বকাপ বাছাইয়ের নতুন সূচি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সবাই আড়মোড়া ভেঙে ফুটবলে মনোযোগী হতে শুরু করেছে। কোচ নতুন প্রগ্রাম পাঠিয়েছেন লন্ডন থেকে। এদিকে করোনার হতাশা ঝেড়ে খেলোয়াড়রাও মনোনিবেশ করছেন ফুটবলে, মানে প্রাক-ফুটবল ট্রেনিংয়ে।

করোনা সবাইকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল ফুটবল থেকে। গত ২৬ মার্চ সিলেটে হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচ। করোনা মহামারিতে সেই ম্যাচ আর হতে পারেনি, স্থগিত হয়ে যায় বিশ্বকাপ বাছাইয়ের বাকি সব ম্যাচ। গত পরশু এএফসির নতুন সূচি ঘোষণার খবর শুনে দেশের ফুটবল অঙ্গন যেন জেগে উঠেছে। জেমি ডে লন্ডনে বসেই তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে এক দফা যোগাযোগ সেরে ফেলেছেন, ‘ওদের কাছে এরই মধ্যে পরের আট সপ্তাহের প্রগ্রাম পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ম্যাচের জন্য খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ম্যাচের খবর শুনে খেলোয়াড়রাও খুশি।’

এএফসির দেওয়া নতুন সূচিতে বাংলাদেশের ম্যাচ শুরু হবে ৮ অক্টোবর, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। এর এক-দুই মাস আগে তো অন্তত মাঠে নামতে হবে ফুটবলারদের। কারণ মার্চের পর থেকে তাঁরা ফুটবলের বাইরে। করোনাকালে ঘরে বসে ফিটনেস ট্রেনিংয়ের নতুন সংস্কৃতি শুরু হলেও বাস্তবে কতটুকু কী হয়েছে অজানা। তবে বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ চাইছেন মাত্র দেড় মাস সময়, ‘ওই ম্যাচের আগে ছয় সপ্তাহ ট্রেনিং করলেই হবে। এর মধ্যে কয়েকটি প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলে আমাদের ম্যাচের জন্য তৈরি হতে হবে।’ ঈদের আগে তিনি জাতীয় দলের ট্রেনিং ক্যাম্পের একটি প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন জাতীয় দল কমিটির কাছে। তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভিডিও কনফারেন্সে কোচ যে ট্রেনিং ক্যাম্পের কথা বলেছিলেন তাতে প্রধান ইস্যু ছিল নিরাপত্তা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ক্যাম্প দেশেও করা যায়। নইলে দেশের বাইরে যেখানে করোনার প্রকোপ কমে এসেছে সেখানে গিয়ে লম্বা সময়ের জন্য ট্রেনিং করানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। জাতীয় দল কমিটির প্রধান কাজী নাবিল আহমেদ ও তাঁর ডেপুটি তাবিথ আউয়াল এতে সায় দিলেও এখন বাফুফের কী মত, তা জানা যায়নি। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগকে পাওয়া যায়নি টেলিফোনে।

শুধু আফগানিস্তান ম্যাচ নয়, ৮ অক্টোবর থেকে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ শেষ করে ফেলবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের বাকি চার ম্যাচ। এর মধ্যে কোনো দীর্ঘ বিরতি নেই। তাই আফগানিস্তান ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতিটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঘরোয়া লিগহীন এক মৌসুমে দীর্ঘ বিরতির পর ফুটবলারদের মান যাচাই-বাছাই করাটাও কঠিন কাজ। ৪২ বছর বয়সী কোচ ভরসা রাখছেন তাঁর আগের বাছাই করা প্রাথমিক তালিকার ওপর, ‘আমাদের বাছাই করা কিছু ফুটবলার আছে, যাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকে আমার এবং কোচিং ম্যানেজমেন্টের। এই ফুটবলারদের বিভিন্ন সময় নির্দিষ্ট ট্রেনিংয়ের বার্তা দেওয়া হয় এবং তারা সেভাবে তৈরি হয়। তাদের মধ্য থেকেই আফগানিস্তান ম্যাচের স্কোয়াড বাছাই করা হবে।’ সেই বাছাই করা ফুটবলারের সংখ্যা ৩৬ জন, তাঁদের নিয়েই একটি হোয়াটস-অ্যাপ গ্রুপ আছে কোচিং ম্যানেজমেন্টের। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সূচি ঘোষণার পরপরই তাদের কাছে পৌঁছে গেছে কোচের নতুন বার্তা। তবে ৩৬ জনের এই দলে চার ফুটবলারের নতুন সংযোজন হয়েছে। তাঁরা হলেন পুলিশ দলের উইঙ্গার বাবলু ও মিডফিল্ডার রাসেল, উত্তর বারিধারা ক্লাবের স্ট্রাইকার সুমন রেজা ও বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার তারেক কাজী। ‘ফেডারেশন কাপ লিগে প্রতিটি দলের পাঁচ-ছয়টি করে ম্যাচ দেখার সুযোগ পেয়েছি আমরা। ওখানে তাদের পারফরম্যান্স বিবেচনা করেই প্রাথমিক তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। তারেক কাজী বেশি ম্যাচ না খেললেও খারাপ নয়। তা ছাড়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় দলের ট্রেনিং ক্যাম্প তার জন্য খুব ইতিবাচক হবে আশা করি’—বলেছেন জেমি ডের ডেপুটি মাসুদ পারভেজ কায়সার।

অনেক দিন পর আবার আলোচনায় ফিরেছে ফুটবল ও জাতীয় দল। সেই আনন্দে ঢুকে পড়েছেন খেলোয়াড়-কোচ সবাই। নতুন করে তৈরি হবে জেমির বাংলাদেশ দল।

মন্তব্য