kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

টেলিকনফারেন্স

এএফসি কাপের মানসিক প্রস্তুতি শুরু

► গ্রুপ ম্যাচ ২৩ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর
► গ্রুপ ম্যাচগুলো হবে এক ভেন্যুতে
► নতুন ফুটবলার রেজিস্ট্রেশন উন্মুক্ত
► ইন্টার জোনালে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ের পরিবর্তে একটি করে ম্যাচ
► ফাইনাল ১২ ডিসেম্বর

৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এএফসি কাপের মানসিক প্রস্তুতি শুরু

এএফসির কম্পিটিশন ও ফুটবল ইভেন্ট পরিচালক শিন মান জিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত টেলিকনফারেন্সে যোগ দেন ‘ই’ গ্রুপের তিন দেশের চার ক্লাবের প্রতিনিধিরা। সঙ্গে ছিলেন সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের প্রতিনিধিরাও। সভায় ২৩ অক্টোবর থেকে এএফসি কাপ ফের শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে খেলা হবে নির্দিষ্ট একটি ভেন্যুতে।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তারা যেভাবে চেয়েছে তার চেয়ে পেয়েছে অনেক বেশি। টেলিকনফারেন্স মিটিংয়ে তারা যেসব আরজি নিয়ে বসেছিল তার সবই যৌক্তিকভাবে আগেই পূরণ করে রেখেছে এএফসি। তাই কালকের সভার পর সব দ্বিধা কাটিয়ে বসুন্ধরা কিংস ২৩ অক্টোবর থেকে মহানন্দে এএফসি কাপ খেলার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

‘ই’ গ্রুপে তিন দেশের চার ক্লাব দলকে নিয়ে গতকাল টেলিকনফারেন্স মিটিং করেছে এএফসি। প্রত্যেকের ম্যাচ হয়েছে একটি করে, বাকি আছে আরো পাঁচটি করে। এগুলো কখন, কিভাবে হতে পারে, তা চূড়ান্ত করতেই এই সভা। বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান বলেছেন, ‘আমরা যেসব ইস্যুতে প্রস্তাব দেব ভেবেছিলাম, সেগুলো এএফসি আগেই বিভিন্নভাবে ভেবে রেখেছে। তাদের তরফ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাবনা ছিল। একটা ছিল হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে আরেকটি এক ভেন্যুতে সব ম্যাচ খেলা। গ্রুপের চারটি দলই এক ভেন্যুতে খেলার ব্যাপারে ঐকমত্য প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে করোনা পরিস্থিতি যে রকম ভয়াবহ তাতে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলার সুযোগ নেই। এক ভেন্যুতে অক্টোবর-নভেম্বরে খেলা হবে, তবে ১৩ দিনের মধ্যে আমাদের বাকি পাঁচটি ম্যাচ শেষ করতে হবে। ভেন্যুটা কোথায় হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’ তাদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর যে একটি ভেন্যুতে হবে টুর্নামেন্টের ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচগুলো।

সেই একটি ভেন্যু কোথায়? তিন দেশের যেকোনো দলকে স্বাগতিক হওয়ার প্রস্তাব করেন এএফসির কম্পিটিশন ও ফুটবল ইভেন্ট বিভাগের পরিচালক শিন মান জিল। বসুন্ধরা কিংসের মার্কেটিং ও মিডিয়া ম্যানেজার আহমেদ শায়েক সবিনয়ে অপারগতা প্রকাশ করে ফিরিয়ে দেন তাঁর প্রস্তাব। তেমনি ফিরিয়ে দিয়েছে মালদ্বীপের দুটো দল মাজিয়া স্পোর্টস ক্লাব ও টিসি স্পোর্টস ক্লাব। ‘এক ভেন্যুর প্রসঙ্গ যখন উঠেছে তখন বসুন্ধরা কিংস জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশে ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব নয়। দুর্যোগের মধ্যে আমাদের পক্ষে ভিসা, আবাসনসহ অন্যান্য কিছুর ব্যবস্থা করা কঠিন হবে। মালদ্বীপের অবস্থা স্বাভাবিক না হলে তারাও স্বাগতিক হতে পারবে না বলে মত দিয়েছে। ভারতের তরফ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে, তা ছাড়া একেক রাজ্যে একেক রকমের নিয়ম-কানুন। তবে ভারতীয় ফেডারেশন ও চেন্নাই সিটি এএফসির পক্ষ থেকে ‘হ্যাঁ-না’ কিছুই নিশ্চিত করেনি’— বলেছেন কিংসের মিডিয়া ম্যানেজার শায়েক।

তবে চেন্নাই সিটি এফসি স্বাগতিক হতে রাজি হলেও বসুন্ধরা কিংসের বেজায় আপত্তি। কারণ ভারতে খেলতে গেলে ভিসা জটিলতার মুখে পড়ে বাংলাদেশের ক্লাবগুলো। বিশেষ করে বাংলাদেশে খেলা বিদেশি ফুটবলারদের ভারতীয় ভিসা পেতে হিমশিম খেতে হয়। গতবার আবাহনী ভুগেছে নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবাকে নিয়ে। তাই সভায় বসুন্ধরা কিংসের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ‘নিরপেক্ষ ভেন্যু’র প্রস্তাব। অর্থাৎ ভারত, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের বাইরে যেকোনো দেশে তারা খেলতে রাজি। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নদের পছন্দ মালয়েশিয়া কিংবা থাইল্যান্ড। এই ইস্যুতে এএফসি শুনেছে চার দলের বক্তব্য, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে এ মাসের শেষদিকে।

এই মুহূর্তে কিংসের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসা ছিল নতুন খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করা যাবে কি না। এ ব্যাপারে দেখা গেছে মারাত্মক রকমের উদার এএফসি। বসুন্ধরা কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান মনে করেন, ‘প্রায় সব ক্লাবই খেলোয়াড়দের চুক্তি নিয়ে সমস্যায় পড়েছে, এএফসি অফিশিয়ালের কথায় তা বোঝা গেল। ক্লাবের সঙ্গে ফুটবলারদের চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এটার সমাধান কী! এএফসি সিদ্ধান্ত দিয়েছে, চুক্তি শেষ হয়ে গেলে নতুন খেলোয়াড় নিতে পারবে। প্রয়োজনে দলের পুরো সেট বদলে ফেলতে পারবে। এটা শোনার পর আমাদের কাজটা অনেক সহজ হয়ে গেছে।’ 

গ্রুপ পর্বেই নতুন রেজিস্ট্রেশন! করোনাকালের নতুন প্রেক্ষাপটে এএফসি কাপে এটা নতুন নিয়ম। সঙ্গে আছে আরো কিছু নতুনত্ব, গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে জোনাল সেমিফাইনাল ও জোনাল ফাইনালে আগের মতো হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ম্যাচ হবে না। ফয়সালা হবে একটি ম্যাচে এবং ভেন্যু নির্ধারণ হবে টসে! নভেম্বরে নকআউটের খেলা শেষে ১২ ডিসেম্বর হবে এএফসি কাপের ফাইনাল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা