kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

জুলাইয়ে ফেরার ভাবনা রোমানদের

৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জুলাইয়ে ফেরার ভাবনা রোমানদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সবার শেষে তাঁরা মাঠ ছেড়েছিলেন, করোনাকে পাশ কাটিয়ে সবার আগেও হয়তো মাঠে ফিরতে যাচ্ছেন আর্চাররা। সব রকম অনুমোদন নিয়ে আগামী মাসের প্রথমভাগেই জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু করে দেওয়ার ভাবনা আর্চারি ফেডারেশনের। কিছুদিন আগেই বিশ্ব আর্চারি সংস্থা থেকে অনুশীলন শুরু করার স্বাস্থ্যবিধি পাঠানো হয়েছে প্রতিটি ফেডারেশনে। সেটি হাতে পেয়েই মূলত রোমান সানাদের ক্যাম্পে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আর্চারি ফেডারেশন।

সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ আশাবাদী জুলাইয়ে ক্যাম্প শুরুর ব্যাপারে, ‘বিশ্ব আর্চারি আমাদের অনুশীলনের স্বাস্থ্যবিধি পাঠিয়েছে, মানে আমরা সেগুলো যথাযথভাবে মেনে অনুশীলনটা শুরু করতে পারি। এখানে এখন দরকার হবে সরকারের অনুমোদন। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেটা আমরা পেলেই যে ক্যাম্প শুরু করে দেব, তেমন নয়। তার আগে অবশ্যই আমরা অভিভাবকদের কাছ থেকেও সম্মতিপত্র নেব, আমাদের স্পন্সর আছে সিটি গ্রুপ, তাদের অনুমোদনের ব্যাপার আছে। সব কিছু একসঙ্গে করে তবেই আমরা অনুশীলনটা শুরু করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য আছে জুলাইয়ের ১ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে ক্যাম্প শুরু করা।’ টঙ্গীর আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামের আর্চারি কমপ্লেক্স তার আগে জীবাণুমুক্ত করতে হবে পুরোপুরি। অনুশীলন সরঞ্জামাদি জীবাণুমুক্ত করে কিভাবে ব্যবহার করতে হবে তার নির্দেশনা আছে স্বাস্থ্যবিধিতে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ‘টার্গেট’গুলোও দুই মিটারের কাছাকাছি হতে পারবে না, সবাই আলাদা আলাদা টার্গেট ব্যবহার করবেন এবং একজনের তীর আরেকজন তুলতে পারবেন না। প্রশিক্ষণ মাঠে প্রবেশ ও বের হওয়ার একটি নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করতে হবে, কয়েক ভাগে অনুশীলন করতে হবে, যাতে জনসমাগম বেশি না হয়। এ ছাড়া আর্চার ও কর্মচারীদের ভবনে প্রবেশ, বাহির এবং অবস্থানের সময় যথাযথভাবে লিখে রাখার কথা বলা হয়েছে স্বাস্থ্যবিধিতে, সংক্রমণ হলেও যাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

আর্চারি কোচ জিয়াউর রহমান অনুশীলন ফেরানোর ভাবনাটাকে স্বাগত জানিয়েছেন, ‘খুব সতর্কতার সঙ্গে সব কিছু করা হলে অনুশীলনে ফেরা সম্ভব। সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরও কিন্তু আমাদের ক্যাম্প চলছিল সব রকম সতর্কতা মেনে। পরে অলিম্পিক স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আর্চারদের ছুটি দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলো নিয়ে ফেডারেশন এখন কাজ করছে। আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে তাঁদের ওপর।’ অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন করা রোমান সানাও আছেন ডাকের অপেক্ষায়, ‘ফেডারেশন অবশ্যই সব কিছু বুঝে-শুনেই সিদ্ধান্ত নেবে। আমি আশাবাদী জুলাইয়ে ক্যাম্পে ফেরার ব্যাপারে।’ আর্চারির সুবিধা হলো জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ লকডাউনের সময় দেশে ফিরে না গিয়ে ঢাকাতেই আছেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনিও শিগগিরই মাঠে ফেরার আশার কথা জানিয়েছেন, তবে সেটি স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় একটুও ছাড় না দিয়ে, ‘ক্যাম্প আবার শুরু করার বিষয়ে ফেডারেশন কাজ শুরু করেছে। আমি আশাবাদী খুব শিগগিরই আমরা অনুশীলনে ফিরতে পারব। তবে এই ফেরাটা অবশ্যই হতে হবে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়গুলোতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।’ আর্চারিসহ বেশ কিছু খেলাই আছে যেখানে একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে অন্যের একেবারেই শারীরিক সংস্পর্শে আসতে হয় না। সরকার খেলাধুলার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ক্ষেত্রেও নিশ্চয় তেমন খেলাগুলোকেই অগ্রাধিকার দেবে। এরপর আসে ক্যাম্পের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় থেকে, অর্থাৎ সেখানে ঢোকা বা বের হওয়াটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখে ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো যায়। এই লকডাউনের মাঝে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর কোনো খেলোয়াড়ই ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে যাননি, ঈদটাও কাটিয়েছেন তাঁরা নিজেদের ব্যারাকে। সংক্রমণ রোধেই এই ব্যবস্থা।

করোনা সংক্রমণ শুরুর দিকে আর্চারি ফেডারেশনও জাতীয় দলের ক্যাম্প চালিয়ে যাচ্ছিল সেভাবেই। এই মুহূর্তে অবশ্য আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে পুলিশবাহিনীরও একটি ক্যাম্প আছে। তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে কিভাবে আর্চারদের সেখানে রাখা যায় বা সেটিও পুরোপুরি নিরাপদ হবে কি না, এ বিষয়টা নিয়েও এখন কাজ করতে হচ্ছে ফেডারেশনকে। ২০২১-এ অলিম্পিক ছাড়াও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক আসরের সূচি হয়ে গেছে রোমানদের। জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু করা গেলে পরে ধারাবাহিকভাবে ঘরোয়া প্রতিযোগিতাও ফেরানোর ইচ্ছা ফেডারেশনের।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা