kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

ক্রিকেট শুরুর ভাবনা আপাতত নেই

৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রিকেট শুরুর ভাবনা আপাতত নেই

অপ্রস্তুত একটা দলকে তো আমরা টেস্ট সিরিজ খেলার জন্য পাঠিয়ে দিতে পারি না। কিন্তু বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, তাতে ক্রিকেটারদের নিয়ে এসব কিছু করা সম্ভব না। নিজামউদ্দিন চৌধুরী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। এ মাসের শেষেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার জন্য শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার কথা ভারতের। আগামী মাসে তিন টেস্টের সিরিজ খেলার জন্য যাওয়ার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু সে জন্য কি প্রস্তুত বাংলাদেশ?

‘করোনাভাইরাসের কারণে দেশের যে অবস্থা, তাতে আমাদের তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ নেই’—প্রথম কথাই বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীর। কিন্তু শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট যে আয়োজনের তোড়জোড় করছে! কারণটা বোধগম্য তাঁর কাছে, ‘ওদের কিছু ইস্যু আছে। উপমহাদেশের মধ্যে শ্রীলঙ্কার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালো। এ জন্যই ওরা চাইছে ক্রিকেট শুরু করতে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ আয়োজন করে কিছুটা হলেও আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবে। এ ছাড়া পরে এসএলপিএল চালু করতে চাইছে। সব মিলিয়েই তাদের এ অবস্থান।’

নিজেদের অবস্থানের ব্যাপারেও পরিষ্কার বিসিবি প্রধান নির্বাহী, ‘আজও (কাল) শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সিইওর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমাদের পরিস্থিতি ওদের বুঝিয়ে বলেছি। একটা ব্যাপার হচ্ছে, এই সিরিজটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। পরে এটি কোন সূচির ফাঁকে আয়োজন করা হবে, তা অনিশ্চিত। শ্রীলঙ্কার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি যেহেতু ভালো, সে কারণে সিরিজ আয়োজন করতে চাইছে। এই চাওয়াটা অস্বাভাবিক না। ওরা বলছে, কোনো এক পর্যায়ে তো ক্রিকেট শুরু করতে হবে; সে ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা সফর সব দিক দিয়ে ভালো।’ সেটি অস্বীকার করছেন না নিজামউদ্দিনও। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিটাই বিসিবি বেশি করে মাথায় রাখছে বলে বোঝালেন তিনি, ‘আমাদের আরেক চ্যালেঞ্জ ক্রিকেটারদের তৈরি করা। অন্তত ২০ জন ক্রিকেটার নিয়ে ক্যাম্প করে, তাদের ফিটনেস ঠিক করে, স্কিল ঝালাই করিয়ে এরপর স্কোয়াড তৈরি করতে হবে। অপ্রস্তুত একটা দলকে তো আমরা টেস্ট সিরিজ খেলার জন্য পাঠিয়ে দিতে পারি না। কিন্তু বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, তাতে ক্রিকেটারদের নিয়ে এসব কিছু করা সম্ভব না।’

তবে জুলাইয়ের এ সিরিজটি এখনো বাতিলের খাতায় ফেলে দিচ্ছেন না তিনি। খুব দ্রুতই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান বিসিবি প্রধান নির্বাহী, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। কারণ ব্রডকাস্টারসহ আয়োজনের নানা খুঁটিনাটি ব্যাপার রয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে না সিদ্ধান্ত হলে ওরা সিরিজ আয়োজন করতে পারবে না।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেট ফেরানোর কর্থাবার্তাও রয়েছে। তবে তা নিয়েও তাড়াহুড়া করতে নারাজ নিজামউদ্দিন, ‘ধরুন, এখন আমরা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরু করতে চাই। তাহলে এই ১২টি দলের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে বোর্ডের ওপর। ওদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ১২টি দলের জন্য হোটেল, খাবার, যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হবে। দুই-তিনটি ভেন্যু তৈরি করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। এত এত মানুষ যেখানে জড়িত, তাদের মধ্যে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবে না, সে নিশ্চয়তা কোথায়? আর একজনেরও যদি তা হয়, দায়-দায়িত্ব তো ক্রিকেট বোর্ডের ওপর এসে পড়বে।’

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ যে সহসা আবার মাঠে গড়াচ্ছে না, সেটির স্পষ্ট ইঙ্গিত বিসিবি প্রধান নির্বাহীর কথায়। সরকারের সবুজ সংকেতের ব্যাপারেও বড় ক্যানভাসে দেখছেন তিনি, ‘অনেকে বলছেন, সরকার অফিস-আদালত শুরু করেছে, ক্রিকেট তাহলে শুরু হচ্ছে না কেন? দেখুন, দেশের অর্থনীতি, মানুষের জীবিকা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন বলেই অফিস খুলেছে। খেলা কবে শুরু কবে, কবে ক্রিকেট মাঠে ফিরবে, ফুটবল-বাস্কেটবল-হকি মাঠে ফিরবে—সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় এটি অনেক অনেক পরে। এখন কেউই তা ভাবছে না। সে জন্য আমাদের এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না, যাতে ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট একজন মানুষও ঝুঁকিতে পড়েন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা