kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

আমার প্রিয়

বিখ্যাত সেই লেগ বাই

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিখ্যাত সেই লেগ বাই

আমরা যে যার অবস্থানে থেকে যার যার মতো করে সেরা বাছাই করি। কিন্তু সবার পছন্দ তো আর মেলে না। তাই শতাব্দীসেরা খেলোয়াড় বাছাই হয় গণভোটে। সে নিয়েও তো কম বিতর্ক হয় না। বেশি ভোটে একজন বিজয়ী হলে কী হবে, বিজিতের বাক্সেও তো ভোট পড়ে। তাই বিতর্ক থেকে যায়। তেমনি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সেরা নিয়েও চায়ের আড্ডায় ঝড় ওঠে। তবে কালের কণ্ঠ স্পোর্টস পুরনো বিতর্ক উসকে দিচ্ছে না। বরং এবার খেলোয়াড়দের কাছ থেকেই ভোট চাইছে এবং সেটাও নিজের পারফরম্যান্সের!

আজ হাসিবুল হোসেনের চোখে তাঁর নিজের প্রিয় পারফরম্যান্সের খবর দিচ্ছেন নোমান মোহাম্মদ

 

তিনি বোলার। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফাস্ট বোলারই বলা চলে। অথচ তাঁর ক্রিকেটজীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটা ব্যাটসম্যান হিসেবে। অপরাজিত চার রানের ছোট্ট এক ইনিংসে। আরো মজার ব্যাপার কী জানেন, যে রানটির জন্য তিনি সবচেয়ে বিখ্যাত, সেটি ব্যাট থেকে আসেনি। এসেছিল লেগ বাই হিসেবে।

হাসিবুল হোসেনের এ নিয়ে গর্বের শেষ নেই। হবে না কেন! ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফি ফাইনালের শেষ বলে তাঁর লেগ বাই থেকে নেওয়া এক রানেই তো শিরোপা জেতে বাংলাদেশ! প্রায় দুই যুগ পরও বোলার হাসিবুলের স্মৃতিচারণায় তাই মিশে থাকে তৃপ্তি, ‘হ্যাঁ, আমরা সেমিফাইনাল জিতে বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করেছিলাম ঠিকই। কিন্তু ফাইনাল না জিতলে ক্রিকেটের এমন গণজোয়ার হয়তো তৈরি হতো না। সে কারণে কেনিয়ার বিপক্ষে ফাইনালের লেগ বাইয়ের কথা আজীবন মনে রাখব। শুধু আমি না, বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবাইকেই তা মনে রাখতে হবে।’

কিন্তু প্রিয় পারফরম্যান্সে কি এটিকে রাখা যায়? মূল পরিচয় যেখানে বোলার! হাসিবুল চিন্তায় পড়ে যান, ‘আইসিসি ফাইনালের ওই মুহূর্তটি প্রিয় স্মৃতি। কিন্তু আমার প্রিয় পারফরম্যান্সের কথা বললে অন্য কিছু খুঁজতে হবে।’

খুঁজতে শুরু করেন এই পেসার। স্মৃতি হাতড়াতে থাকেন ফেলে আসা ক্যারিয়ারে, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক অনেক ম্যাচ আছে। চার উইকেট পেয়েছি, পাঁচ উইকেট পেয়েছি। ম্যাচ জিতিয়েছি মোহামেডানকে; আবাহনীকেও। এর মধ্য থেকে একটি ম্যাচের কথা বললে দামাল স্মৃতি ফাইনালের কথাই বলব।’ সেই ম্যাচটি বিশেষ হয়ে আছে কেন হাসিবুলের স্মৃতিতে, সেটিও গড়গড়িয়ে বলে যান, ‘তখন আমি মোহামেডানে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল, প্রতিপক্ষ আবাহনী। সে সময় এই দুই দলের লড়াইয়ে যে কেমন ঝাঁজ থাকত, বলে বোঝানো যাবে না। দর্শকে ঠাসা স্টেডিয়াম। হারার কোনো উপায় নেই। অমন ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ফাইনালে আমি হ্যাটট্রিক করি। চার কি পাঁচটি উইকেটও পাই। দল জেতে। সে কারণে এটি খুব প্রিয় বোলিং আমার।’ আরেকটি কারণেও এ খেলাটিকে মনে করতে পারেন ডানহাতি পেসার, ‘আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে এর আগে হ্যাটট্রিক ছিল শুধু কাকার। কাকা মানে ওয়াহিদুল গণি। এরপর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে আমার হ্যাটট্রিক। যতটুকু জানি, এর পরও আর কেউ কখনো আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেননি।’

শুধু তো ঘরোয়া ক্রিকেট নয়, বাংলাদেশের জার্সিতে আইসিসি ট্রফি খেলেছেন হাসিবুল। টেস্ট-ওয়ানডেও। সেখানে সেরা ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলিংয়ের আনন্দ আছে তাঁর, ‘শচীন টেন্ডুলকার ও ব্রায়ান লারা দুজনের বিপক্ষেই বোলিং করেছি। অল্প কয়েকটি ম্যাচ। তবে কখনো ওদের আউট করতে পারিনি। প্রিয় বোলিংয়ে তাই এগুলোকে রাখা যাবে না।’ তাহলে রাখতে চান কোনটি? ‘১৯৯৯ বিশ্বকাপের আগে আগে পাকিস্তান এসেছিল বাংলাদেশ সফরে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ওয়ানডেতে তিন উইকেট পাই আমি। দল জিততে পারেনি। তবে খুব ভালো বোলিং করেছিলাম। এটি আমার খুব প্রিয় বোলিং’—হাসিবুল পৌঁছে যান সিদ্ধান্তে।

ওয়ানডে সিরিজের সেই একমাত্র ম্যাচে বাংলাদেশ হারে ১৫২ রানের বিশাল ব্যবধানে। তবে হাসিবুল ভালো বোলিং করেছিলেন সত্যিই। ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে তিন শিকার। শিকারের নামগুলো আজও শিহরণ জাগায় পেসারের কণ্ঠে, ‘শুরুতে শহীদ আফ্রিদিকে আউট করি। পরে ইনজামাম ও মঈন খানকে।’

প্রিয় তিনের শেষ বোলিং ওই বছরই; মেরিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে কেনিয়ার বিপক্ষে। ১০ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে নেন চার উইকেট। সে খেলাটিও জেতেনি বাংলাদেশ। তবু নিজের প্রিয়তে এ বোলিং পারফরম্যান্স রাখার কারণ স্পষ্ট হয় হাসিবুলের কথায়, ‘কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি আমার সেরা বোলিং। সেরাকে তো প্রিয়তে রাখতেই হয়।’

আইসিসি ট্রফি জয়ের প্রিয় স্মৃতিকে না হয় প্রিয় পারফরম্যান্সে রাখতে পারেননি। সেরা বোলিংকে তো রাখতে পারলেন হাসিবুল!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা