kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

তামিমের বিলম্বিত আত্মোপলব্ধি ও বিরাট কোহলি

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তামিমের বিলম্বিত আত্মোপলব্ধি ও বিরাট কোহলি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সেই ২০১০ সালে এক ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই তিন-তিনটি সেঞ্চুরি তাঁর। এর দুটো আবার পর পর দুই টেস্টে। সেঞ্চুরি করে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম তোলার পর তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন ম্যানচেস্টারে পরের টেস্টেও। এর আগে দেশের মাটিতে ঢাকায় ইংলিশদের বিপক্ষে ১২৫ রান তামিম ইকবালের নিজের চোখেও তাঁর অন্যতম সেরা ওয়ানডে ইনিংস। একই বছরের জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে ১৫১ রান দীর্ঘদিন তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল। অর্থাৎ তাঁর ৯টি টেস্ট সেঞ্চুরির এক-তৃতীয়াংশই ওই বছর করা। দেশে এবং দেশের বাইরে দেদার রান করার পর নিজের কোনো খুঁতও সেই বছর তাঁর চোখে ধরা পড়েনি। পড়েছে আরো অনেক পরে, যখন বুঝেছেন শুধু রান করলেই সব ঠিকঠাক আছে বলে মনে করার মানসিকতা তাঁকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পিছিয়েও রেখেছে। সেই ক্ষেত্রটি ফিটনেস। বিলম্বিত সেই আত্মোপলব্ধির কথাই বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক বলেছেন সঞ্জয় মাঞ্জরেকারকে।

ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর হয়ে ভারতের সাবেক এই ব্যাটসম্যান ও ধারাভাষ্যকার এক ভিডিও সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তামিমের। সেখানেই বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনার তাঁকে বলেছেন ফিটনেস নিয়ে একসময় তাঁর বাজে মানসিকতা লালন করার কথা। সেখানেই রানপ্রসবা ২০১০ সালের প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, ‘তখন আমার মানসিকতা এমন ছিল যে যতক্ষণ রান করছি, আমাকে কেমন দেখাচ্ছে, সেটি কোনো ব্যাপারই নয়। এটি মানতে কোনো লজ্জা নেই যে খুব বাজে ধারণা ছিল আমার। প্রথমত আমার মনে হচ্ছিল, আমি প্রচুর রান করছি। আসলে তা নয়। দ্বিতীয়ত আমাকে খুব বাজে দেখাচ্ছিল।’ অবশ্য এই উপলব্ধি আসতে আসতে পেরিয়ে গেছে আরো কিছু বছরও, ‘খেলায় ফিটনেসের গুরুত্ব বুঝতে অনেক সময় লেগেছে আমাদের। গত তিন-চার বছরে আমরা বুঝতে পেরেছি, যথেষ্ট ফিট থাকতে হবে। টিভিতে যেন ভালো দেখায়। বিশাল পেট নিয়ে যেন মাঠে নামতে না হয়।’

তামিমের বিলম্বিত আত্মোপলব্ধিতে যোগ আছে বিরাট কোহলিরও। অবশ্য কিছুদিন আগে নিজের ফেসবুক লাইভে ভারতীয় অধিনায়ককেও ফিটনেসের ক্ষেত্রে আদর্শ মানার কথা বলেছিলেন তিনি। এবার বললেন মাঞ্জরেকারকেও। কোহলির পুরোটা না হলেও অনেকটা অনুসরণ করা যেতে পারে বলেই মন্তব্য করেছেন তামিম, ‘‘একটি কথা আমার মনে হয় প্রকাশ করা উচিত। এটি বলতে আমার কোনো লজ্জাও নেই। দুই-তিন বছর আগে যখন আমি বিরাট কোহলিকে দেখেছি জিমে কাজ করতে, রানিং এবং অন্যান্য কিছু করতে, তখন নিজের কথা ভেবে ভীষণ লজ্জাই পেতাম আমি। মনে হতো, ‘এই ছেলেটি সম্ভবত আমার বয়সীই, এত পরিশ্রম করছে, এত ট্রেনিং করছে এবং সাফল্য পাচ্ছে, আমি হয়তো এর অর্ধেকও করছি না। তখনই ভেবেছি, তাঁর পর্যায়ে যেতে না পারি, অন্তত বিরাট কোহলির পথ তো অনুসরণ করার চেষ্টা করতে পারি।’ তাঁর ৫০, ৩০-৪০ বা ৬০ ভাগ, যা-ই করতে পারি...।’’ ফিটনেসে এরপর ভীষণ মনোযোগী হওয়া তামিম এর সুফলও পেয়েছেন। ফিট হতে ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক খরচও করেছেন। বিখ্যাত ফিটনেস ট্রেনার বেন কোলম্যানের অধীনে বিশেষায়িত ট্রেনিং করে শরীরের বাড়তি মেদও ঝরিয়েছেন। তাই এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ফুরফুরে ও সতেজও অনুভব করেন। অবশ্য নিজের ফিটনেস বাড়ানোয় কৃতিত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ মারিও ভিল্লাভারায়েনকেও, ‘২০১৫ সালের আমি আর এখনকার আমার মধ্যে অনেক পার্থক্য। আমার ৯ কেজি ওজন কমেছে। ওই সময়টায় (২০১৫ থেকে) ফিটনেস নিয়ে অনেক খাটতে শুরু করেছি আমি। কৃতিত্ব দিতে হবে আমাদের ট্রেনারকেও।’ আরো সতেজ অনুভব করার কথাও বলেছেন মাঞ্জরেকারকে, ‘ফিটনেস ভালো থাকার সুবিধা অনেক। ক্লান্তি অনুভব হয় কম। বলের কাছে দ্রুত যাওয়া যায়। মানসিকতা ইতিবাচক থাকে। সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো, নিজেকে নিয়ে ভালো অনুভূতি কাজ করে সব সময়।’ তবে উদাহরণ হিসেবে নিজ দলের মুশফিকুর রহিমকেও টানতে ভুলে যাননি তামিম, ‘আমাদের দলেও দারুণ একজন উদাহরণ আছে, মুশফিক। ওর ক্রিকেটীয় দিকের কথা বলব না। ফিটনেসের দিক থেকে সে নিজেকে যেভাবে সামলায়, তা অনুসরণ করার মতো। বিরাট কোহলি অবশ্যই উদাহরণ তৈরি করেছে। তবে মুশফিকও বাংলাদেশে অনেক তরুণ ক্রিকেটারের আদর্শ হওয়ার মতো।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা