kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

মহামারিতেও ফুটবলে নির্বাচনী হাওয়া!

২ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মহামারিতেও ফুটবলে নির্বাচনী হাওয়া!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : করোনাভাইরাসের মহামারিতে ফুটবলের নির্বাচনী উত্তাপ অনেকখানি কমে গেলেও একেবারে থিতিয়ে যায়নি। বিশেষ করে দুই সিনিয়র সহসভাপতি প্রার্থী যেন আদা-জল খেয়ে নেমেছেন। মহামারির মধ্যেও কাউন্সিলরদের কাছে ফোনে ফোনে তাঁরা নির্বাচনী আবহ বজায় রেখেছেন। সর্বশেষ বাফুফের এক সহসভাপতি জুনের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের কথা বলে সেখানে খানিকটা ঘি ঢেলে দিয়েছেন।

বাফুফের নির্বাচন নিয়ে টালবাহানার শেষ নেই। স্থগিত করার আগে তাদের নির্বাচন-প্রীতি ছিল দেখার মতো। করোনাভাইরাসের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ২০ এপ্রিল নির্বাচন সেরে ফেলতে উঠে-পড়ে লেগেছিল। নানা সমালোচনা এবং করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি বিধি-নিষেধ জারি হওয়ায় তারা সরে আসে সেই সিদ্ধান্ত থেকে। কদিন আগে সেই নির্বাচনী মোহ আবার সামনে নিয়ে আসেন বাফুফের এক সহসভাপতি। তাবিথ আউয়াল ঈদের পরপরই এক টিভি চ্যানেলে জুনের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলে জন্ম দেন নতুন বিতর্কের। তা শুনে নির্বাচনী ময়দানের আরেক খেলোয়াড় তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিনও খেপেছেন। কারণ নির্বাচন কমিশন এখনো নির্বাচনী প্রক্রিয়াই শুরু করেনি। নির্বাচন অনুষ্ঠানের (ভোটাভোটির দিন) আগে এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগে ২৪ দিনের মতো। তাই সহসভাপতি তাবিথের কথা নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ও সন্দেহের সৃষ্টি হয় কাউন্সিলরদের মধ্যে।

বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ গতকাল সেই সন্দেহ দূর করেছেন জুনে ফুটবলের নির্বাচনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে। ‘সহসভাপতি সাহেব (তাবিথ) আসলে জুলাইয়ে নির্বাচনের কথা বলতে গিয়ে জুনের কথা বলে ফেলেছেন। ১৫ জুন পর্যন্ত পরিস্থিতি কী হচ্ছে, সেটা প্রথমে দেখতে হবে। এখন লকডাউন শিথিল করা হলেও মানুষের মাস্ক পরে চলা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পর দেশের পরিস্থিতি কী হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে সামনের সিদ্ধান্ত। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ তারিখের পরে নির্বাহী কমিটি হয়তো সভায় বসে নির্বাচনের ইস্যুতে একটা সিদ্ধান্ত নেবে। সবই নির্ভর করছে দেশে করোনা মহামারি পরিস্থিতির ওপর’—বলেছেন আবু নাঈম সোহাগ। সামগ্রিক পরিস্থিতি যে ভালোর দিকে নয়, সেটা সবাই বুঝতে পারছে। আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে, সুতরাং পনেরো দিন পর যে অবস্থার বিশেষ উন্নতি হবে তার কোনো ইঙ্গিত নেই। তবে বাফুফে সম্পাদকের কথায় কিন্তু জুলাইয়ে নির্বাচনের ইঙ্গিত আছে।

অথচ ফিফা-এএফসি থেকেও নির্বাচনের কোনো তাড়া নেই। বাফুফে সম্পাদক নিজেই বলেছেন, ‘কমিটি কত দিন থাকতে পারবে কিংবা পারবে না, এর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই ফিফার তরফ থেকে। এর পরও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি থাকতে চায় না, যত তাড়াতাড়ি পারে তারা নির্বাচন দিতে চাইছে।’ বরাবরই প্রবল তাদের নির্বাচনী মোহ। বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী নেই দেখে কিংবা ক্ষমতাসীনদের ফের নির্বাচিত হওয়ার অনুকূল পরিবেশের কারণেই কি এত মোহ! করোনাভাইরাসের ভয়-ভীতি মাড়িয়েও তারা নির্বাচন সেরে ফেলতে চাইছে! অথচ খোদ ফিফাও পারছে না করোনার ভয়কে উপেক্ষা করে কংগ্রেস আয়োজন করতে। আদ্দিস আবাবায় ফিফার ৭০তম কংগ্রেস হওয়ার কথা ছিল ৫ জুন। পুুরো বিশ্বের করোনা ভয়াবহতার কথা বিবেচনা করে গত মার্চে তারা সেই কংগ্রেস স্থগিত করে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কারণ ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো খেলা ও কংগ্রেসের আগে রাখছেন মানুষের জীবনকে।

এখানকার অবস্থাটা ভিন্ন। তাই অনলাইনে ভোট নিয়ে নির্বাচন সেরে ফেলার চিন্তাও মাথায় এসেছে তাবিথ আউয়ালের। সহসভাপতি বিকল্প উপায়ে ফুটবলে ভোটের কথা বললেও বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেছেন, ‘অনলাইন ভোটিংয়ের সুযোগ নেই আমাদের গঠনতন্ত্রে। এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত চিন্তা। সেটা করতে হলে ফিফা-এএফসির অনুমোদন নিয়ে করতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা