kalerkantho

শনিবার । ২০ আষাঢ় ১৪২৭। ৪ জুলাই ২০২০। ১২ জিলকদ  ১৪৪১

‘নিরপেক্ষ ভেন্যু’র প্রস্তাব দেবে বসুন্ধরা কিংস

সনৎ বাবলা   

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘নিরপেক্ষ ভেন্যু’র প্রস্তাব দেবে বসুন্ধরা কিংস

দেশে লকডাউন উঠে গেছে কিন্তু প্রবলতর হচ্ছে করোনার ছোবল। তাই শিগগির মাঠে ফুটবল গড়ানোরও সুযোগ নেই। এ দেশে না হলেও অন্য দেশে, তুলনামূলক নিরাপদ জায়গায় গিয়ে এএফসি কাপ খেলার সুযোগ দেখছে বসুন্ধরা কিংস। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা নিরপেক্ষ ভেন্যুর প্রস্তাব দেবে এএফসি সভায়।

আগামী ৫ জুন দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের চার দলকে নিয়ে এএফসি করবে টেলিকনফারেন্স সভা। এটাকে বলা হচ্ছে ‘ম্যাচের সূচি সভা’। এএফসি কাপের ‘ই’ গ্রুপের চার দল এবং সংশ্লিষ্ট ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন এই সভায়। নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তাঁরা ফের এএফসি কাপের খেলা শুরুর ব্যাপারে প্রস্তাবনা দেবেন। বসুন্ধরা কিংস ম্যানেজমেন্ট সভার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে দেখছেন, আগস্ট-সেপ্টেম্বরের আগে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচে নামতে পারছে না। ‘কিংসের প্রস্তুতি ও ম্যাচ খেলা নিয়ে আমাদের কোচের সঙ্গে কথা হয়েছে। ম্যাচ খেলার জন্য ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে ছয় সপ্তাহ চেয়েছেন কোচ, এরপর উইথ দ্য বল ট্রেনিং। সব হিসাব-নিকাশ করে দেখেছি, আগস্টের শেষে অথবা সেপ্টেম্বরে আমরা এএফসি কাপের ম্যাচ খেলতে পারব’—এভাবেই সভায় ম্যাচ সূচির প্রস্তাবনা দেবেন কিংস প্রেডিসেন্ট ইমরুল হাসান। সেই ১১ মার্চ এএফসি কাপের অভিষেক ম্যাচের পর থেকে বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড়দের ফুটবলহীন বন্দি জীবন। মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকে হার্নান বারকোসের গোল বিস্ফোরণে, এর পরপরই ঢাকা ছেড়ে গেছেন এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। বাকি বিদেশিরা যেতে পারেননি, নিজেদের ফ্ল্যাটে একরকম বন্দিদশায় থেকে করোনা এড়িয়ে থাকার চেষ্টা করছেন।

ক্লাব দল না হয় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে খেলতে প্রস্তুত হয়ে গেল, কিন্তু দেশ কি তত দিনে করোনামুক্ত হবে? বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম কি এএফসি কাপের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে? সময়ভেদে দেশে মহামারির প্রাদুর্ভাবের অঙ্ক কষা ক্লাবের জন্য কঠিন। পুরো দেশেই এখন কভিড-১৯ বাড়বাড়ন্ত। আশঙ্কা করা হচ্ছে, লকডাউন শিথিলে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমে বাড়বে। দুই-তিন মাস পরে গিয়ে তার রূপ কী ভয়ংকর নাকি ম্রিয়মাণ হবে তা ভালো বলতে পারবেন ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞরা। সেই অঙ্কে না গিয়ে বসুন্ধরা কিংস প্রেসিডেন্ট নিরপেক্ষ ভেন্যুকে ভালো বিকল্প মনে করছেন, ‘আমরা দেব নিরপেক্ষ ভেন্যুর প্রস্তাব। বাংলাদেশ, ভারত ও মালদ্বীপের বাইরে যেখানে করোনার প্রাদুর্ভাব কমে এসেছে, সে রকম কোনো দেশে এই গ্রুপের খেলা আয়োজন করা যেতে পারে। এখন বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের অবস্থা আরো খারাপ। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলা খুব কঠিন হয়ে যাবে। এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ করাটাও ফুটবলারদের খুব ঝুঁকিপূর্ণ হবে।’ তা ছাড়া এদেশ-ওদেশ ভ্রমণ করলে খেলোয়াড়দের এক ম্যাচ পর কোয়ারেন্টিনে কাটাতে হবে দুই সপ্তাহ। তখন তারা টিম প্র্যাকটিসেও নামতে পারবেন না।

একটি করে ম্যাচ শেষে ‘ই’ গ্রুপে শীর্ষে আছে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস। এ ছাড়া গ্রুপে আছে ভারতের চেন্নাই সিটি এফসি এবং মালদ্বীপের মাজিয়া স্পোর্টস ও টিসি স্পোর্টস ক্লাব। তিন দেশের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি বেশ খারাপ। দুই দেশে এখন সব রকমের খেলাধুলা বন্ধ, আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগও বন্ধ। কবে নাগাদ সব কিছু স্বাভাবিক হবে, বলা কঠিন। এএফসি-ও আগের মতো স্বাভাবিকতা ফেরার অপেক্ষায় নেই, তারা চাইছে ‘নতুন স্বাভাবিক’ পরিস্থিতি। করোনা সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমলে ফাঁকা গ্যালারিসহ নানা বিধি-নিষেধের মধ্যে ম্যাচ আয়োজন করতে। দুই মাস পর এই ‘নতুন স্বাভাবিকতা’ ফেরার গ্যারান্টিও যে কেউ দিতে পারছে না। এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে ইমরুল হাসানের পছন্দ মালয়েশিয়াকে, ‘কয়েক বছর আগেও এএফসির টুর্নামেন্টগুলোর গ্রুপ পর্ব এক ভেন্যুতেই হতো। প্রয়োজনের খাতিরে এবার তাই হতে পারে। মালয়েশিয়ায় করোনা পরিস্থিতি সে রকম বিপজ্জনক নয়, সেখানে চার দল গিয়ে খেলতে পারে। এক ভেন্যুতে খেললে কোনো ঝামেলা ছাড়াই তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে ম্যাচগুলো।’ ভারতের অবস্থা বিবেচনা করে চেন্নাই সিটি এফসিও রাজি হতে পারে এই প্রস্তাবে। মালদ্বীপের দল দুটোর চাওয়া ভিন্ন হলেই গোল বাধবে। রেফারির ভূমিকায় অবশ্য কঠিন এএফসি।

মন্তব্য