kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

আমার প্রিয়

এখানেও হেটমায়ার তবে জাতীয় দলে না

৩০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এখানেও হেটমায়ার তবে জাতীয় দলে না

আমরা যে যার অবস্থানে থেকে যার যার মতো করে সেরা বাছাই করি। কিন্তু সবার পছন্দ তো আর মেলে না। তাই শতাব্দীসেরা খেলোয়াড় বাছাই হয় গণভোটে। সে নিয়েও তো কম বিতর্ক হয় না। বেশি ভোটে একজন বিজয়ী হলে কী হবে, বিজিতের বাক্সেও তো ভোট পড়ে। তাই বিতর্ক থেকে যায়। তেমনি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সেরা নিয়েও চায়ের আড্ডায় ঝড় ওঠে। তবে কালের কণ্ঠ স্পোর্টস পুরনো বিতর্ক উসকে দিচ্ছে না। বরং এবার খেলোয়াড়দের কাছ থেকেই ভোট চাইছে এবং সেটাও নিজের পারফরম্যান্সের! আজ মেহেদী হাসান মিরাজের চোখে তাঁর নিজের প্রিয় পারফরম্যান্সের খবর দিচ্ছেন নোমান মোহাম্মদ

সে সিরিজে মেহেদী হাসান মিরাজকে হোটেলে দেখলেও পারলে পালিয়ে যান শিমরন হেটমায়ার। তা হবে না কেন! দুই টেস্টের চার ইনিংসেই ওই অফ স্পিনারের বলে আউট তিনি; তিন ওয়ানডের দুটিতেও। ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানের জন্য রীতিমতো দুঃস্বপ্নের প্রতিশব্দ তখন মেহেদী।

বাংলাদেশের অফ স্পিনারের কাছে তা ভীষণ আনন্দের স্মৃতি। নিজের প্রিয় তিন বোলিং পারফরম্যান্সে হেটমায়ারের চলে আসা তাই আশ্চর্যের নয় কিছুতেই। আশ্চর্য এই যে, জাতীয় দল নয়, সেটি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটের স্মৃতি। ‘তখন থেকেই তো হেটমায়ারকে আউট করছি আমি’—বলে শিশুর হাসিতে ভেসে যান মেহেদী।

ঘটনাটি ২০১৩ সালে যুব দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। সাত ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ছয় ম্যাচ শেষে ৩-৩ সমতায়। জর্জটাউনের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ মাত্র ১৬৮ রানে অলআউট হয়ে গেলে সিরিজ হারটাও যেন হয়ে ওঠে অবধারিত। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে মেহেদীর উচ্ছ্বাস, ‘ড্রেসিংরুমে সবাই মনমরা হয়ে ছিল। যেন কিছুতেই জিততে পারব না। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, হারার আগে হারব কেন! নতুন বলে বোলিংয়ে এসে শুরুতেই ওদের দুই ওপেনারকে আমি আউট করলে সবাই উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। এই দুই ওপেনারের একজন হেটমায়ার।’

প্রিয় শিকারের সঙ্গে প্রিয় পারফরম্যান্সের মিল তাহলে পাওয়া গেল!

সে ম্যাচে ১০ ওভার বোলিং করে ২৫ রান দিয়ে চার উইকেট মেহেদীর। স্বাগতিকদের ৩৩.৫ ওভারে ১০১ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ম্যাচ জয় ৬৭ রানে। সিরিজ জয় ৪-৩ ব্যবধানে। ‘এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের বিপদের সময় আমার অমন বোলিং! সে কারণেই এটিকে প্রিয় তিনে রাখব’—মেহেদী যেন আয়নায় দেখে দেন নিজের ক্যারিয়ার।

সে ক্যারিয়ারে সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতিফলন জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক সিরিজে। আরো নির্দিষ্ট করে বললে, দ্বিতীয় ম্যাচে। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের যে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়, তাতে এই অফ স্পিনারের ছ’দুগুণে ১২ উইকেট। এটি প্রিয়র তালিকায় না থাকে কিভাবে!

‘চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে সাত উইকেট পাই। একটুর জন্য ম্যাচ জিততে পারিনি। ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্টেও একই অবস্থা। প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট পেলাম। কিন্তু শেষ ইনিংসে ২৭৩ রানের লক্ষ্যে নেমে ইংল্যান্ড বিনা উইকেটে ১০০ রান তুলে ফেলে। ওই অবস্থা থেকে যে বোলিং করেছিলাম, তা স্বপ্নের মতোই’—ঘোরলাগা কণ্ঠেই বলে যান মেহেদী। তৃতীয় দিন বিকেলে বিনা উইকেটে ১০০ রান তুলে ফেলার পর ম্যাচের ভাগ্য হেলে ইংল্যান্ডের দিকে। কিন্তু চা বিরতির পর এই অফ স্পিনারের জাদুকরী বোলিংয়ে ভোজবাজির মতো পাল্টে যায় ছবিটা। একে একে ছয় উইকেট তুলে নেন মেহেদী। ১৬৪ রানে মুখ থুবড়ে পড়ে ইংল্যান্ড। ক্রিকেটের জনকদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টেস্ট জেতে বাংলাদেশ।

সে জয়ের মহানায়ক ১৯ বছরের বালকবীর মেহেদী। এরপর বছর চারেক চলে গেলেও স্মৃতিতে ধুলো পড়েনি, ‘সব কিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল। যাঁদের দেখে বড় হয়েছি, তাঁদের সঙ্গে জাতীয় দলে খেলছি, এটিই অনেক বড় ব্যাপার। তার ওপর আমার ১২ উইকেট, ইংল্যান্ডকে টেস্টে হারানো, আমাকে ঘিরে সবার উৎসব—এগুলো জীবনে ভুলব না।’

প্রিয় তিনে মেহেদীর আরেক পারফরম্যান্স অবশ্য অনেকে ভুলে গেছেন। স্কোরবোর্ডের সাক্ষ্যে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছুও না—১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে এক উইকেট। কিন্তু ২০১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওই বোলিংই তাঁর নিজের কাছে বিশেষ হয়ে ওঠে। কেন?

‘এটি বিশ্বকাপে আমার প্রথম ম্যাচ। এর আগে জাতীয় দলে যতই খেলি না কেন, বিশ্বকাপ তো খেলিনি। শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বড় দল। পাওয়ার প্লেতে বোলিং করেছি। পাঁচ ওভারে দিই মাত্র ২১ রান। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে প্রথম ওভারেই দারুণ এক বলে বোল্ড করি ফাফ দু প্লেসিকে’—প্রিয় হওয়ার ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন মেহেদী। আর কোনো উইকেট না পেলেও এ পারফরম্যান্সেই ত্রিভুজ পূর্ণ করেন তিনি, ‘বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০ ওভারে মাত্র ৪৪ রান দেওয়া অনেক ভালো পারফরম্যান্স। ম্যাচটিও আমরা জিতেছিলাম। সে কারণে এটি আমার প্রিয়। এখনো ইউটিউবে ওই ম্যাচের বোলিং দেখি আমি।’

আর মনের ‘ইউটিউবে’ প্রিয় তিনের বাকি দুটিও নিশ্চয়ই দেখেন প্রায়শ!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা