kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

‘নতুন স্বাভাবিক’ অবস্থায় এএফসি কাপ

৩০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘নতুন স্বাভাবিক’ অবস্থায় এএফসি কাপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এএফসি কাপ নিয়ে এখনো কিছুই খোলাসা করেনি এএফসি। তারা এশিয়ার সামগ্রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে, এরপরই সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানাবে বসুন্ধরা কিংসকে। সিদ্ধান্ত নিতে তারা আগামী ৫ জুন এএফসি কাপের এই অঞ্চলের ক্লাবগুলোর সঙ্গে টেলিকনফারেন্স করবে।

এএফসি কাপের ভাগ্যে কী আছে, অজানা। আট গ্রুপের তিনটিতে প্রতিটি দল তিনটি করে ম্যাচ শেষ করে ফেললেও বাকি পাঁচ গ্রুপের খেলা সেভাবে এগোয়নি। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয় অঞ্চলের ‘ই’ গ্রুপে প্রত্যেকের একটি করে ম্যাচের পর স্থগিত হয়ে যায় খেলা। গ্রুপে শীর্ষে আছে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস, এ ছাড়াও ভারতের একটি এবং মালদ্বীপের দুটো দল আছে গ্রুপে। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের করোনা পরিস্থিতি এখন ভয়ংকর, আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। স্বাভাবিকভাবে অংশ নেওয়া ক্লাবগুলোও আছে ধোঁয়াশার মধ্যে। বিশেষ করে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা। করোনাভাইরাসের মহামারিতে লিগসহ স্থানীয় মৌসুমের বাকিটা বাতিল হয়ে যাওয়ার পরও পুষতে হচ্ছে পুরো দলকে। বিদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তাঁদের রাখবে না ছাড়বে—এ নিয়ে ক্লাব পড়েছে বিপাকে। পুরনো কাউকে ছেড়ে দিয়ে নতুন কোনো বিদেশি নিতে পারবে কি না—এ রকম নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল বসুন্ধরা কিংস ম্যানেজমেন্টের মাথায়। তা ছাড়া এএফসি কাপ ফের কবে শুরু হচ্ছে, এটাও বড় এক প্রশ্ন। এসব জিজ্ঞাসা নিয়েই এএফসিকে ঈদের আগে চিঠি দিয়েছিল বসুন্ধরা কিংস।

তার জবাবে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি এএফসি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে এএফসি চিঠিতে লিখেছে, “এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা চলছে। ‘নতুন স্বাভাবিক’ অবস্থায় নিরাপদ পরিবেশে কী করে এএফসির টুর্নামেন্টগুলো শেষ করা যায়, এই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। প্রত্যেকটা দেশের ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে কথা বলে তাদের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশগুলোর স্থানীয় ফুটবলের অবস্থা এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও জানা জরুরি। এসব তথ্যের ওপরই নির্ভর করছে আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত।” করোনা-উত্তর পরিস্থিতি যে খুব দ্রুত পূর্বের স্বাভাবিকতায় ফিরবে না, এটা এএফসির চিঠিতে পরিষ্কার। ইউরোপের কোনো দেশ এখনো পুরোপুরি করোনামুক্ত নয়, এরপরও দর্শকহীন মাঠে শুরু হয়ে গেছে বুন্দেসলিগা। আগামী মাসে মাঠে গড়াবে লা লিগা, প্রিমিয়ার লিগ ও সিরি ‘এ’র ফুটবল। এভাবেই নানা বিধি-নিষেধ ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে ‘নতুন স্বাভাবিক’ অবস্থায় এএফসি কাপ ফের মাঠে গড়ানোর চেষ্টায় আছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন।

তাদের চেষ্টা আরো পরিষ্কার হবে আগামী ৫ জুনের সভায়। এদিন দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত ও মালদ্বীপ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ও অংশগ্রহণকারী ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে টেলিকনফারেন্স করবে এএফসি। সভার নাম ‘ম্যাচ শিডিউল কনফারেন্স’। বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসানও ম্যাচের সম্ভাব্যতা যাচাই করছেন, ‘কাল (আজ) আমরা সভা করে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলাপ করবো। আরেকটা হলো, নতুন খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে তাদের ইতিবাচক মনে হয়েছে।’ গত ১১ মার্চ ঢাকায় মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নের এএফসি কাপ অভিষেক হয়, একই সঙ্গে আগামী দল হিসেবে  অভিনন্দন জানিয়েছে চিঠিতে, এরপর করোনার কবলে স্থগিত হয়ে যায় টুর্নামেন্ট। এই টুর্নামেন্টে নতুন দল হিসেবে তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে এএফসি। বাতিল হয়ে যাওয়া ঘরোয়া মৌসুমে ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আগামী এএফসি কাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করা বসুন্ধরা কিংসকে আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছে তারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা