kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

বিশ্বকাপের ২ কোটি টাকা পাচ্ছেন তামিমরা

মাসুদ পারভেজ   

২৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বোর্ডের কাছে বিশাল অঙ্কের টাকা পাওনা ছিল তাঁদের। তা আদায় করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে সফল হওয়ায় ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সব শেষ সভায় নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তামিম ইকবাল। গত অক্টোবরে ক্রিকেটারদের আন্দোলনের ইতিহাস জানা থাকা যে কারো কাছে অবশ্য ব্যাপারটি খটকা লাগার মতোই। ওই সময় কোয়াবের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা আনা জাতীয় ক্রিকেটারদের যে অন্যতম দাবি ছিল এঁদের অপসারণও। তবে এবার তারকা খেলোয়াড়দের দাবি আদায় করে দেওয়ায় প্রাপ্য সম্মান পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালক এবং কোয়াব সভাপতি নাঈমুর রহমান, ‘বোর্ড থেকে ওদের বিশ্বকাপের টাকা আদায় করার বিষয়ে আমরা দেন-দরবার করেছিলাম। এরপরই বোর্ড থেকে ফোনে ওরা টাকা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা পায়। এ জন্যই গত ৯ মে অনলাইনে হওয়া কোয়াব কার্যনির্বাহী কমিটির সব শেষ সভায় ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম আমাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে।’

লর্ডসে পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের ২০১৯ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে গত বছরের ৫ জুলাই। যে আসরে প্রতিটি জয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪০ হাজার ইউএস ডলার। যা ক্রিকেটাররাই পেয়ে থাকেন। তিনটি ম্যাচ জেতা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দেরও তাই পাওনা এক লাখ ২০ হাজার ডলার। বিলম্বে হলেও এই টাকা কোনো না কোনো সময়ে তামিমরা পেতেনই। তবু এখানে কোয়াবের মধ্যস্থতা জরুরি হয়ে পড়ার কারণ আরেকটি খাতে ক্রিকেটারদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ায় বোর্ডের আপত্তি। সেটি প্রাইজমানির টাকা। কোনো ম্যাচ না জিতেও যে টাকা পাওয়ায় ভূমিকা আছে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিকা-রও (ফেডারেশন ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন)। আইসিসি এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত সব শেষ এমপিএ অ্যাগ্রিমেন্টে সেটিই নিশ্চিত করেছিল সংস্থাটি। তাই এই খাত থেকেও পাওনা ছিল তামিমদের।

লর্ডসে পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের ২০১৯ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে গত বছরের ৫ জুলাই। যে আসরে প্রতিটি জয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪০ হাজার ইউএস ডলার। যা ক্রিকেটাররাই পেয়ে থাকেন। তিনটি ম্যাচ জেতা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দেরও তাই পাওনা এক লাখ ২০ হাজার ডলার।

সেই অঙ্কটিও কম নয়। উদাহরণস্বরূপ ১০ দলের টুর্নামেন্টের প্রাইজমানি ১০ মিলিয়ন ডলার হলে এর শতকরা ১০ ভাগ বরাদ্দ ক্রিকেটারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার জন্য। অর্থাৎ এক মিলিয়ন ডলারকে ১০ দিয়ে ভাগ করলে প্রতিটি দলের ভাগে পড়ে ন্যূনতম এক লাখ ডলার। যে টাকাটা বোর্ডের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যেই ক্রিকেটারদের বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা আছে এমপিএ অ্যাগ্রিমেন্টেও। কিন্তু বিশ্বকাপের পর লম্বা সময় পেরিয়ে গেলেও সেটির কোনো খোঁজ ছিল না। ক্রিকেটারদের দাবির মুখে কোয়াব খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারে প্রাইজমানির টাকা দেওয়া নিয়ে আপত্তি বিসিবির। এই টাকা ক্রিকেটারদের প্রাপ্য কি না, সেটি নিয়ে সংশয়ই তাদের আপত্তির কারণ। অবশ্য সেই সংশয় দূর করা গেছে বলেও জানিয়েছেন নাঈমুর। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক বলেছেন, ‘ম্যাচ জেতার টাকা ওরা পেতই। প্রাইজমানির টাকা ওদের প্রাপ্য কি না, সেটি নিয়েই একটু দ্বিধা ছিল। তবে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় সেই দ্বিধাও কেটে গেছে। এখন ওরা প্রাইজমানির টাকাও পাচ্ছে।’

দুয়েমিলে ২০১৯ বিশ্বকাপ দলের সদস্যরা পাচ্ছেন, ‘প্রায় দুই কোটি টাকার মতো।’ কাল কোয়াব সভাপতি জানিয়েছেন আর বিলম্বও নয়, ‘ঈদের আগেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এখন অফিস খুললেই খেলোয়াড়দের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়ে যাবে।’ প্রাইজমানি নিয়ে দেন-দরবারে এত দিন ঝুলে থাকা উইনিং মানিও একসঙ্গেই পেয়ে যাচ্ছেন তামিমরা। কিন্তু তিনটি ম্যাচ জেতার টাকা পেতে প্রায় ১১ মাস পেরিয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় নাঈমুর দায় দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগকেই, ‘খেলোয়াড়রা যাতে দ্রুত টাকা পায়, সেই উদ্যোগ নেওয়ার কথা ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির। কিন্তু এই কমিটির ম্যানেজার (সাব্বির খান) আবার জাতীয় দলেরও ম্যানেজার। দুই দায়িত্বেই অনেক কাজ। একসঙ্গে দুটো চালাতে গেলে সমস্যা তো হবেই। এখানেও তাই হয়েছে। হিসাব বিভাগে প্রস্তাবই যায়নি।’

এত দিন না গেলেও এবার গিয়েছে। তাই দেরিতে হলেও পাওনা টাকার পুরোটাই পেতে চলেছেন তামিমরা!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা