kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

ভার্চুয়ালে জমেছে খেলা

শাহজাহান কবির   

২৩ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভার্চুয়ালে জমেছে খেলা

তামিম ইকবাল যেদিন কেন উইলিয়ামসনকে নিয়ে দুপুরবেলা লাইভ করতে বসেছেন, সেদিন রাতেই আরেকটা লাইভ আড্ডায় বসেছেন হাবিবুল বাশার। ফেসবুকের আরেকটি পেজে প্রায় একই সময়ে লাইভে গল্প করছিলেন মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ। এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশ ফুটবল টিমের পেজে তখন ডেনমার্ক থেকে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন জামাল ভূইয়া, সে রাতেই বাংলাদেশ ফুটবল সাপোর্টার্স ফোরামের আরেকটি আয়োজনে ছিলেন বসুন্ধরা কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান। কে বলেছে খেলা নেই! করোনায় ঘরবন্দি সময়েও খেলাপ্রেমীরা খেলা থেকে দূরে থাকছেন না মোটেও। নতুন মাধ্যমে যুক্ত হয়ে পড়ছেন সবাই। মাঠের খেলার চেয়ে তাতেও উত্তেজনা কম নয়।

তামিম যেমন তাঁর একটি এপিসোড শেষ করতেই জল্পনাকল্পনা শুরু হয়ে যাচ্ছে এরপর তাঁর সঙ্গে ‘ব্যাটিংয়ে’ নামছেন কে? লাইভের ওই সময়টার জন্য সবার দিনভর অপেক্ষা। এ তো ম্যাচের দিনের উন্মাদনাই! আর ভার্চুয়ালে খেলা নিয়ে সে আড্ডা গতানুগতিক টিভিতে দেখে খেলার আলোচনা থেকে একেবারেই ভিন্ন। এখানে উৎসাহীদের অংশগ্রহণ অনেক বেশি। আর জানা যাচ্ছে জানার বাইরে আর ধারণার বাইরেও অনেক কিছু। যা খবরের কাগজেও সচরাচর মেলে না। ভার্চুয়ালে লাইভ প্রগ্রামগুলোর মূল সুরই হলো, সেই তারকাদের কাছ থেকে ভেতরের অনেক খবর, না জানা গল্পগুলো বের করে আনা, তাঁদের পছন্দ-অপছন্দগুলো জানা। স্পেনের ভিগো শহরের বাসিন্দা বসুন্ধরা কিংসের ফুটবল কোচ অস্কার ব্রুজোন যেমন পরশু একটি লাইভে এসে রিয়াল, বার্সা আর মেসি, রোনালদো নিয়ে বলছিলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ আমার কাছে সেরা ক্লাব। কিন্তু কষ্ট হলেও বলছি, সব দিক মিলিয়ে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর চেয়ে লিওনেল মেসিকেই আমি এগিয়ে রাখি।’ আবার ভীষণ সিরিয়াস প্রসঙ্গও উঠে আসছে। মোহাম্মদ আশরাফুল যেমন ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের প্রগ্রাম ‘নট আউট নোমান’-এর লাইভে এসে বলে বসেন, ‘নিষিদ্ধ থাকার সময়টায় আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলাম।’

আর শুধু ফুটবল-ক্রিকেটই নয়, ভার্চুয়াল ময়দানে আসছেন অন্য খেলার তারকারারও। কিছুদিন আগেই যেমন গলফার সিদ্দিকুর রহমান ভারতীয় তারকা শিবশঙ্কর চৌরাশিয়ার সঙ্গে লাইভ আড্ডায় মেতেছিলেন ‘দ্য গলফ হাউস’-এর পেজে। গতকালই বাংলাদেশের বাস্কেটবল খেলোয়াড়, কোচদের নিয়ে হয়ে গেল লাইভ আড্ডার তৃতীয় এপিসোড। যাঁর মূল উদ্যোগে হচ্ছে এটি, জাতীয় দলের সেই খেলোয়াড় খালেদ মাহমুদ আকাশ বলছিলেন, ‘করোনার সময়ে সবাই ঘরবন্দি আছি, এটা একটা দিক। তা ছাড়া আমাদের মনে হয়েছে বাস্কেটবলের ভালো-মন্দ, বর্তমান অবস্থা নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হওয়া উচিত। খেলাটা অনেক দিন থেকেই খুব ভালো অবস্থায় নেই, লিগ টুর্নামেন্ট এতটা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে যে বাংলাদেশে বাস্কেটবল হয় এটাই অনেকে জানে না। অথচ ২০১৪ সালের আগেও আমাদের এখানে জমজমাট লিগ, আমেরিকায় কলেজ লিগের খেলোয়াড়রা এসে খেলে গেছেন। আর আগেও তো অনেক জনপ্রিয় ছিল বাস্কেটবলটা। সে কথাগুলোই আমরা বলছি। তামিম ইকবাল তাঁর শোতে যেমন সাবেক খেলোয়াড়দের কীর্তি, আগের অর্জনগুলোকে বড় করে দেখাচ্ছেন। বলতে পারেন সেটা দেখেও অনুপ্রাণিত হয়েছি আমরা।’ প্রতিটি এপিসোডে প্রায় লাখ ছোঁয়া লাইভ ভিউ’তেই পরিষ্কার তামিম ইকবালের শোগুলো কতটা জনপ্রিয় হচ্ছে। বাংলাদেশ ফুটবল টিম পেজের লাইভ আড্ডার অন্যতম হোস্ট সম্রাট মহিমও বলছিলেন তামিমের শো থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা, ‘ফুটবল তারকাদের নিয়ে লাইভ প্রগ্রামটা আমরা আগে থেকেই করছিলাম। তামিমের শোগুলো শুরু হওয়ায় বলতে পারেন আমরা আরো বেশি অনুপ্রাণিত হয়ে, ভালোভাবে প্রগ্রামগুলো করার চেষ্টা করছি। আমাদের আড্ডায় নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ই থাকে না। খুবই ঘরোয়া আলোচনা হয়। ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে তা নিয়ে যথেষ্ট সাড়াও পাচ্ছি।’

বাংলায় ক্রীড়া লেখালেখিতে উৎকর্ষ অর্জন করাদের একজন জালাল আহমেদ চৌধুরীও এই করোনাবদ্ধ সময়টায় উপভোগ করছেন খেলা নিয়ে এই ভার্চুয়াল আড্ডাগুলো। তবে এখানেও মানের দিকে এখন নজর দেওয়ার সময় এসেছে বলে মনে হচ্ছে তাঁর, ‘ফেসবুকে প্রচুর লাইভ প্রগ্রাম হচ্ছে এখন। অনেকগুলোই ভীষণ উপভোগ্য হচ্ছে। কোনো কোনোটি অবশ্য তেমন প্রস্তুতি ছাড়াই যে কেউ করে ফেলছে প্রযুক্তির এই সুবিধাটা নিয়ে। আমার মনে হয় প্রগ্রামগুলোর মানের দিকে আরেকটু লক্ষ্য দিলে তা আরো বেশি অর্থবহ হবে।’ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন দল বসুন্ধরা কিংসের মার্কেটিং অ্যান্ড মিডিয়া ম্যানেজার আহমেদ শায়েক চান, শুধু এই করোনার সময়টা নয়, খেলা নিয়ে এই প্রগ্রামগুলো যেন চলে সব সময়, ‘আড্ডার মধ্যেও এই প্রগ্রামগুলোতে অনেক ধারণা শেয়ার হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইস্যু উঠে আসছে। তাই আমার চাওয়া, শুধু এই করোনার সময়টা না, সব সময়ই যেন এ আয়োজনগুলো চলে।’

মন্তব্য