kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৬ জুলাই ২০২০। ২৪ জিলকদ ১৪৪১

আমার সেরা

ভিভ রিচার্ডসও প্রশংসা করেছিলেন

২১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভিভ রিচার্ডসও প্রশংসা করেছিলেন

আমরা যে যার অবস্থানে থেকে যার যার মতো করে সেরা বাছাই করি। কিন্তু সবার পছন্দ তো আর মেলে না। তাই শতাব্দীসেরা খেলোয়াড় বাছাই হয় গণভোটে। সে নিয়েও তো কম বিতর্ক হয় না। বেশি ভোটে একজন বিজয়ী হলে কী হবে, বিজিতের বাক্সেও তো ভোট পড়ে। তাই বিতর্ক থেকে যায়। তেমনি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সেরা নিয়েও চায়ের আড্ডায় ঝড় ওঠে। তবে কালের কণ্ঠ স্পোর্টস পুরনো বিতর্ক উসকে দিচ্ছে না। বরং এবার খেলোয়াড়দের কাছ থেকেই ভোট চাইছে এবং সেটাও নিজের পারফরম্যান্সের! আজ অলক কাপালির চোখে তাঁর নিজের সেরা পারফরম্যান্সের খবর দিচ্ছেন নোমান মোহাম্মদ

 

তাঁর সেদিনের ব্যাটিংয়ে শিল্পের সৌন্দর্য যেমন; তেমনি বীরের লড়াইও। আর এ দুয়ের রাজযোজট ক্রিকেটের যে চিরকালীন ‘রাজা’র ব্যাটে, সেই ভিভ রিচার্ডসেরও তো প্রশংসা পায় তা।

প্রিয় ইনিংসের স্মৃতিচারণে অলক কাপালির তাই সেটিই মনে পড়ছে সবচেয়ে আগে।

‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ম্যাচ হেরে গেছি। তবু আমার ব্যাটিং নিয়ে সবাই ভালো ভালো কথা বলছিলেন। পিঠ চাপড়াচ্ছিলেন। কিন্তু সবচেয়ে তৃপ্তি পাই পরদিনের পেপারে। সেখানে লিখেছে, ভিভ রিচার্ডস নাকি আমার ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেছেন। এর চেয়ে বড় সার্টিফিকেট আর কী হতে পারে, বলুন’—কাপালির আনন্দস্মৃতি। যে ইনিংসের কথা বলছেন, সেটি ২০০২ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে, তখনকার ঢাকা স্টেডিয়ামে। বাংলাদেশ ৮৬ রানে হেরে যায়। তবে ছয় নম্বরে নেমে ৯২ বলে অপরাজিত ৮৯ রানের ইনিংসে দর্শকদের হৃদয় রাঙান কাপালি। ১০ বাউন্ডারিতে শিল্পীর তুলির স্পর্শ। নিজের কাছে ওই ইনিংসটি অমূল্য, ‘ভিভ রিচার্ডস প্রশংসা না করলেও এটি আমার প্রিয় ইনিংস থাকত।’

সে ম্যাচ জয়ের জন্য স্বাগতিকদের সামনে ২৮২ রানের লক্ষ্য। ১৩ ওভারে ৪২ রান তুলতে পড়ে যায় চার উইকেট। এরপর ক্রিজে গিয়ে একেবারে শেষ পর্যন্ত থাকার তৃপ্তি কাপালির, ‘সত্যি বলতে কী, আমাদের জেতার কোনো সুযোগ ছিল না। আমার লক্ষ্য ছিল সহজাত ব্যাটিং করব। শেষ উইকেটে মঞ্জু ভাইয়ের সঙ্গে ২৩ রানের জুটি হয়। তখনো উনি বলেছেন, আউট হবি না। শেষ পর্যন্ত আউট হইনি। এটি ভালো লেগেছে।’ আর কিছুটা খারাপ লাগা সেঞ্চুরি মিস করায়, ‘খুব বেশি মন খারাপ হয়েছে, তা বলব না। আগে চালিয়ে খেলতে গেলে হয়তো আউট হয়ে যেতাম। দলও অলআউট হতো। আর সত্যি বলতে কী, এই ইনিংসটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার পথচলা অনেক সহজ করে দেয়।’

সত্যিই তাই। ওয়ানডে সিরিজের পর পর যে টেস্ট সিরিজ, সেখানেও হাসে কাপালির ব্যাট। ঢাকায় প্রথম টেস্টে ৫২ রানের ইনিংস। এরপর চট্টগ্রামে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছোটানো ৮৫। প্রিয় ইনিংসের তালিকায় এটিকে না রেখে পারেননি কাপালি, ‘আমার কাছে তা বেশি স্মরণীয় ম্যান অব দ্য ম্যাচ হবার কারণে। আমরা কিন্তু বিশাল ব্যবধানে (সাত উইকেটে) হেরে যাই। তবু পাই ম্যাচসেরার পুরস্কার। টেস্টে ম্যান অব দ্য ম্যাচ, সেটিও পরাজিত দলে থেকে—এটি বিশাল ব্যাপার।’

কাপালির এ ইনিংসটিও ছয় নম্বরে। ততক্ষণে ১০০ রানে ৪ উইকেট পড়ে গেছে। সতীর্থদের তেমন সমর্থন না পেলেও দলের রান টেনে নেন ২১২ পর্যন্ত। তবে এখানে সেঞ্চুরি না পাওয়াটা বেশ পোড়ায় কাপালিকে, ‘ওয়ানডের চেয়ে টেস্টে সেঞ্চুরির সুযোগ ছিল বেশি। কিন্তু শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে কিপারকে ক্যাচ দিই। অবশ্য সেদিন পুল ভালোই খেলছিলাম। শেষে ওই শটেই ধরা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এ দুটো ইনিংসকে বলতে পারেন আমার সিগনেচার ইনিংস।’

এ দুয়ের বাইরে কাপালির প্রিয় ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সেঞ্চুরি। ২০০৮ সালে এশিয়া কাপে করাচিতে। সেদিনও ছয় নম্বরে নামেন। শুরুতে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ৪৯ রানের জুটি; পরে মাহমুদ উল্লাহর সঙ্গে ১১২ রানের। ‘রিয়াদের সঙ্গে জুটিতে ৮২ রানই আমার। খুব দাপট নিয়ে ব্যাটিং করছিলাম সে ম্যাচে। সেঞ্চুরি করি ৮৬ বলে। তখন ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরি। এ কারণেও ইনিংসটি প্রিয়’—কাপালির ব্যাখ্যা।

করাচিতে সেদিন সত্যিই রাজসিক আধিপত্য তাঁর ব্যাটে। ৮৬ বলে সেঞ্চুরি, ৯৬ বলে ১১৫ রানের ঝলমলে ইনিংস। যা আরো আলোকিত ৫টি ছক্কা এবং ১০টি চারে। ম্যাচ জিতলে কাপালির খুশির মাত্রা আরো বাড়ত নিঃসন্দেহে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট হ্যাটট্রিক, বিপিএল ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে জেতানো ইনিংসগুলোও উঁকি মারে তাঁর প্রিয় পারফরম্যান্সে। কিন্তু অলক কাপালির প্রিয় তিনে দুটি সিগনেচার ইনিংসের সঙ্গে ওয়ানডে সেঞ্চুরিটাই থেকে যায় সবার ওপরে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা