kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

ফ্রান্সে দিন গুনছেন ‘বন্দি’ আরিফুল

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফ্রান্সে দিন গুনছেন ‘বন্দি’ আরিফুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ঘরে থাকা অনেকের জীবনই হাসি-গল্পে মুখর হয়ে উঠছে। পরিবারের সঙ্গে এমন লম্বা সময় কাটানোর সুযোগ তো সাধারণত মেলে না। কিন্তু ভাবুন তো বিদেশ বিভুঁইয়ে একজনের কথা, পরিবার থেকে যে দূরে, দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন, বিচ্ছিন্ন বিদেশেও কারণ সেখানেও তো লকডাউন। তাঁর ঘরে থাকা মানে তো চার দেয়ালের সঙ্গে একা একা কথা বলা! ২১ বছর বয়সী আরিফুলের কাছে সেই নীরবতা, বিচ্ছিন্নতা মাঝে মাঝে অসহ্য মনে হয়।

ফ্রান্সে এসেছিলেন দেশসেরা সাঁতারুদের একজন হয়ে, আন্তর্জাতিক আসরে একদিন দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন, সেই স্বপ্ন নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলন চলছিল আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির তত্ত্বাবধানে। সব ঠিকঠাক থাকলে এই জুলাইয়ে টোকিওর পুলে নামার কথা ছিল তাঁর। তার আগে এই এপ্রিলে গত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে জেতা ছয়টি সোনা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁর বাংলাদেশ গেমসে। কিন্তু করোনার এক ঝড় তাঁকে একরকম ছিটকে ফেলেছে গৃহকোণে, তাও দেশ থেকে বহুদূরে সেই ইংলিশ চ্যানেল পারে ফ্রান্সের শহর রুয়াতে। করোনার থাবায় আরিফুলের শহরটা এখন জনমানবহীন ভূতুড়ে। পৈতৃক ঠিকানা বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এক গ্রাম নিকলীর সঙ্গেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে আরিফুলের যা একটু যোগাযোগ। সেই সূত্রে গতকাল খবর পেয়েছেন, ‘নিকলীতেও এখন লকডাউন।’ তবু সুযোগ পেলে এক উড়ানে কিশোরগঞ্জের সেই নিকলীতেই তো ফিরতে চান তিনি, ‘এখানে ঘরে বসে মাঝে মাঝে অসহ্য বোধ হয়। জানি, বাংলাদেশের অবস্থাও ভালো নয়। তবু ফ্লাইট চালু থাকলে আমি চলে আসতাম।’

ফ্রান্সে আরিফের ‘বন্দিদশা’র প্রায় এক মাস হতে চলল। গত মাসের মাঝামাঝি সর্বশেষ ঘরের বাইরে বের হয়েছিলেন, পুরো এক মাসের বাজার করেছেন তখনই। চার রুমের ফ্ল্যাটের দুটি ঘরে তিনি আর টোগোর আরেক সাঁতারু থাকছেন। সাঁতার ক্যাম্পের আরো অনেকেই এ রকম একেকটা ফ্ল্যাটে আছেন। কেউ কেউ ফ্লাইট পেয়ে ফিরে যাওয়ারও সুযোগ পেয়েছেন। আরিফের ঢাকায় আসার কথা ছিল বাংলাদেশ গেমসের আগে আগে। কিন্তু করোনা সংক্রমণে সেই গেমসই স্থগিত হয়ে গেছে। এদিকে ফ্রান্সে শুরু হয়ে গেল লকডাউন, বন্ধ হয়ে গেল বাংলাদেশের সঙ্গে বিমান যাতায়াতও। আরিফ একরকম আটকাই পড়লেন।

ফ্রান্সে এসেছিলেন দেশসেরা সাঁতারুদের একজন হয়ে, দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন, সেই স্বপ্ন নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলন চলছিল আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির তত্ত্বাবধানে। সব ঠিকঠাক থাকলে এই জুলাইয়ে টোকিওর পুলে নামার কথা ছিল তাঁর।

২০১৮-র সেপ্টেম্বরে অলিম্পিক বৃত্তি নিয়ে ফ্রান্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণে যান আরিফুল। সেই প্রশিক্ষণের মধ্যে থেকেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, এসএ গেমসে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশে এসে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপও খেলেছেন। ডিসেম্বরে এসএ গেমস করেই সর্বশেষ আবার গেলেন ফ্রান্সে, সেই থেকেই সেখানে আছেন।

বাড়িতে মা ভীষণ দুশ্চিন্তা করেন, কিন্তু আরিফ এত দিনে বাস্তবতা মেনে নিয়ে মনটাকে শক্ত করে ফেলেছেন, ‘এখন দুশ্চিন্তা করে তো লাভ নেই। আমি পরিস্থিতির শিকার, যে করেই হোক সময়টা পাড়ি দিতে হবে। ফ্রান্সেও করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। তবে এখানকার ব্যবস্থাপনা তো অনেক ভালো। কোনো সমস্যা হলে বাসাতেই চলে আসবে সব রকম সাহায্য। বাংলাদেশে এসব নিয়ে অনেক সমস্যা হচ্ছে। এখানে আমার ঘরবন্দি থাকা ছাড়া আর তেমন সমস্যা নেই। আইওসি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতই আমাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। ইন্টারনেটে আমাদের নিজেদের একটা গ্রুপই আছে। সেখানে কার কী সমস্যা সব আমরা জানতে পারছি, জানাতে পারছি। বাংলাদেশ অলিম্পিক থেকেও যোগাযোগ রাখছে। এখন শুধু দিন গুনছি কবে এই সময়টা শেষ হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা