kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

চোখে চোখ রেখে লড়েছিলাম

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চোখে চোখ রেখে লড়েছিলাম

অস্ট্রেলিয়া দলে ব্রেট লি-গিলেস্পির পেস জুটির সঙ্গে শেন ওয়ার্ন-ম্যাকগিলের লেগস্পিন এবং এক ঝাঁক দুর্দান্ত ব্যাটসম্যানও ছিল। সম্ভবত ইতিহাসেরই সেরা দল। হাবিবুল বাশার

প্রশ্ন : ভাবলে সেই ফতুল্লা টেস্টের কোন স্মৃতিটা সবার আগে উঁকি দেয়?

হাবিবুল বাশার : রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে টস করতে যাওয়াটা।

প্রশ্ন : দুর্দান্ত সব পারফরম্যান্স থাকতে সেটিই সবার আগে কেন?

হাবিবুল : কারণ অস্ট্রেলিয়ার যে দল সেটি ছিল, বলা যায় এ রকম দল আর ওদের কোনো দিন হবে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ একসময় ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ওই দলটি ভালো ছিল এর চেয়েও। ক্যারিবীয়দের দলটি ছিল মূলত পেসনির্ভর। কিন্তু ওই অস্ট্রেলিয়া দলে ব্রেট লি-গিলেস্পির পেস জুটির সঙ্গে শেন ওয়ার্ন-ম্যাকগিলের লেগস্পিন এবং এক ঝাঁক দুর্দান্ত ব্যাটসম্যানও ছিল। সম্ভবত ইতিহাসেরই সেরা দল। এমন একটি দলের সঙ্গে খেলার আগে টস করতে যাওয়াটা আমার জন্য দারুণ রোমাঞ্চকর ছিল। অবশ্য এর আগে ২০০৩ সালে স্টিভ ওয়াহর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও টেস্ট খেলেছি। সেই দলটি আরো ভালো ছিল। ওই দলে ওয়ার্ন ছিল না। আর ২০০৬ সালে ছিল না ম্যাকগ্রা।

প্রশ্ন : ম্যাচের কোন স্মৃতিটা সবচেয়ে বেশি দোলা দেয় এখনো?

হাবিবুল : ম্যাচের প্রথম সেশনটি। যখন আমি আর শাহরিয়ার (নাফীস) ব্যাটিং করছিলাম। পুরো অস্ট্রেলিয়া দলের তখনকার চেহারাটা সব সময় মনে পড়ে। রীতিমতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। মাত্রই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ওদের মাটিতে ধসিয়ে দিয়ে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। আবার আমরাও টেস্টে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারছিলাম না। ওই অবস্থায় যে আমরা চোখে চোখ রেখে ব্যাটিং করতে পারি, এটি ওরা চিন্তাই করতে পারেনি। জানেনই তো অস্ট্রেলিয়ানরা স্লেজিংয়ে কেমন ওস্তাদ! ওরা তাই করতে শুরু করে দিয়েছিল। অবশ্য আমরাও ছেড়ে কথা বলিনি (হাসি...)।

প্রশ্ন : দু-একটা উদাহরণ দিন।

হাবিবুল : শাহরিয়ার খুব ‘ভোকাল’ ছিল। ও হেইডেনকে এমন একটি কথা বলেছিল যে ওরা রীতিমতো হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল। ‘নিজের চরকায় তেল দাও’ জাতীয় কিছু একটা বলা হয়েছিল। ওরা ভাবতেই পারেনি আমরা ওদের বোলিংকে আক্রমণ করে বসব। আমার আর শাহরিয়ারের পার্টনারশিপের সময় ওভারে সাড়ে চারের বেশি রান উঠছিল।

প্রশ্ন : আপনি স্লেজিংয়ের শিকার হননি?

হাবিবুল : হেইডেন দাঁড়াত স্লিপে। সেখান থেকে ওর নেতৃত্বে পরিকল্পনা করে নাম ধরে ধরে মধুর সব বাক্য বর্ষণ করা হতো (হাসি...)। তবে কেন জানি আমাকে খুব একটা বিরক্ত করেনি। সম্ভবত আমাকে একটু বেশিই নিরীহ গোছের মনে হয়েছিল ওদের। হতে পারে অধিনায়ক বলে বাড়তি সম্মানও দিয়েছিল। তবে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আমাদের ‘স্লেজ ব্যাক’ও ওদের ভড়কে দিয়েছিল।

প্রশ্ন : কিন্তু এ রকম স্মরণীয় ম্যাচও শেষ পর্যন্ত বেদনাদায়ক হয়ে গিয়েছিল।

হাবিবুল : ঠিক তাই। এর আগে মুলতানের হারও (২০০৩ সালে পাকিস্তানের কাছে ১ উইকেটে হার) দুঃখজনক ছিল। এই টেস্ট হেরেও খুব দুঃখ পেয়েছি। এ রকম একটি দলকে টেস্টে হারানো বিশাল ব্যাপার হতো। যদিও একই দলকে আমরা আগের বছর কার্ডিফে ওয়ানডেতেও হারিয়েছি। তবে টেস্টে হারানো একেবারেই অন্য রকম একটি সাফল্য হতো।

প্রশ্ন : সেই আফসোস তাহলে রয়েই গেছে?

হাবিবুল : হ্যাঁ, রয়েই গেছে। দ্বিতীয় ইনিংসে আমি রানআউট হয়ে গেলাম। দলের রানও বড় হয়নি। আরেকটু বড় টার্গেট দিতে পারলে...। সময়ও ছিল অনেক। আসলে হয়েই গিয়েছিল প্রায়। পন্টিং ক্যাচ দিল, নিতে পারলাম না (জয় থেকে ২৪ রান দূরে থাকতে ৯৭ রানে দাঁড়ানো অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক জীবন পান, বাংলাদেশ হারে ৩ উইকেটে)। শাহাদাতের বল পুল করতে গিয়ে মিস টাইমিং হয়েছিল পন্টিংয়ের। মাশরাফিও একটু ‘লেট রিঅ্যাক্ট’ করেছিল, তাই ক্যাচটি হয়নি। বলতে পারেন হাফ চান্স ছিল। কিন্তু ওই অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে গেলে ওই হাফ চান্সই কাজে লাগাতে হতো।

ুপ্রশ্ন : অস্ট্রেলিয়ানদের অভিনন্দনের নির্দিষ্ট কোনো স্মৃতি?

হাবিবুল : পন্টিং যেমন বলছিল, ‘তোমরা খুব ভালো সুযোগ পেয়েছিলে আমাদের হারানোর। এই ম্যাচটির কথা আমি সব সময় মনে রাখব।’ গিলক্রিস্ট বলে গিয়েছিল, ‘আমি অনেক ইনিংস খেলেছি তবে এটির কথা আলাদা করে মনে রাখব (প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন, ১৪৪ রানের ইনিংসের জন্য হয়েছিলেন ম্যাচের সেরাও)।’ হেইডেন মজা করে বলেছিল, ‘তোমরা স্লেজও করতে জানো!’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা