kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

বাফুফের বিরুদ্ধে প্রাইজ মানি না দেওয়ার অভিযোগ বুরুন্ডির

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাফুফের বিরুদ্ধে প্রাইজ মানি না দেওয়ার অভিযোগ বুরুন্ডির

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আমাদেরকে বলেছিল বড় জোর দেড় মাসের মধ্যে প্রাইজ মানি পেয়ে যাব।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সেই ২৫ জানুয়ারি শেষ হওয়া বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের প্রাইজ মানি এখনো পায়নি চ্যাম্পিয়ন রানার্স-আপরা! এরপর বাফুফের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে রানার্স-আপ বুরুন্ডি প্রাইজ মানির জন্য ফিফার কাছে নালিশ করার হুমকি দিচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের ফাইনালে বুরুন্ডি ১-৩ গোলে হারে ফিলিস্তিনের কাছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী দুই দলের হাতে ট্রফি ও অর্থ পুরস্কারের স্টিকার তুলে দেন। চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিনের জন্য ৩০ হাজার ডলার এবং বুরুন্ডির ২০ হাজার ডলার। প্রায় আড়াই মাস হয়ে গেলেও দুই দল এখনো পায়নি সেই প্রাইজ মানি। এদিকে বুরুন্ডিতে সেই প্রাইজ মানি নিয়ে তুলকালাম শুরু হয়ে গেছে। রীতিমতো বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল শুরু হয়েছে খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের মধ্যে, বুরুন্ডির ম্যানেজার কনস্ট্যানটিন মুতিমা গতকাল ফোনে যেভাবে বলেছেন, ‘এই ২০ হাজার ডলার খেলোয়াড়দের প্রাপ্য। তারা এই টাকা চাইছে, আমরা দিতে পারছি না, কিন্তু তারা আমাদের অবিশ্বাস করছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আমাদেরকে বলেছিল বড় জোর দেড় মাসের মধ্যে প্রাইজ মানি পেয়ে যাব। এরপর তাদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বাফুফে থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।’

বাফুফের তরফ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে বুরুন্ডি ফুটবল দলের ম্যানেজার জানান সংবাদমাধ্যমকে। নিজে ম্যানেজার হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ২০ হাজার ডলারের স্টিকার গ্রহণের ছবি পাঠিয়ে মুতিমা হোয়াটসঅ্যাপে লেখেন, ‘বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আমরা খেলতে গিয়েছিলাম এবং রানার্স-আপ হয়েছি টুর্নামেন্টে। সে অনুযায়ী আমাদের ২০ হাজার ডলার প্রাইজ মানি পাওয়ার কথা, যা ফাইনালের তিন মাস পরেও পাইনি। এ ব্যাপারে ফেডারেশনের কাছে অনলাইনে বার্তা পাঠালেও কোনো জবাব পাওয়া যায় না। তাঁরা বার্তা পড়েন; কিন্তু জবাব দেন না। এই মাসের মধ্যে ওই টাকা না পাঠালে আমরা ফিফার কাছে অভিযোগ করব এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অফিসকে জানাব। কারণ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই আমরা পুরস্কার নিয়েছি।’

বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের প্রাইজ মানি নিয়ে বাফুফের লজ্জাকর নাটক এই প্রথম নয়। ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের চ্যাম্পিয়ন নেপালকে প্রাইজ মানির ঘুরিয়েছিল অনেক দিন। নেপালের অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমে বিস্তর সমালোচনা হয় এবং প্রায় দুই বছর বাদে তাদের দেওয়া হয় সেই ২৫ হাজার ডলার! দেশের জাতির পিতার নামে টুর্নামেন্ট করে প্রাইজ মানি নিয়ে তামাশা করাটা ফুটবল ফেডারেশনের স্বভাবে দাঁড়িয়ে গেছে। এবার বুরুন্ডির অভিযোগ মেনে নিয়ে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বলছেন, ‘আমরা দেড় মাসের কথা বলেছিলাম, সে অনুযায়ী মার্চের মধ্যে তাদের প্রাইজ মানিটা পাঠিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। আমাদেরই ভুল হয়েছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির পর অফিস-আদালত খুললেই আমরা টাকা পাঠিয়ে দেব।’ তার কথা অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দুই দলের প্রাইজ মানি এখন প্রক্রিয়াধীন আছে, ‘অর্থের কোনো সমস্যা নেই। আমাদের দেশ থেকে টাকা পাঠাতে হয় লম্বা প্রক্রিয়া মেনে। ফিলিস্তিন ও বুরুন্ডির প্রাইজ মানির ফাইল বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে এখন বাংলাদেশ ব্যাংকে আছে। অফিস-আদালত খুললেই কয়েক দিনের মধ্যে আমরা পাঠিয়ে দিতে পারব। এরই মধ্যে তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তা জানিয়ে দেব আমরা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা