kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

সময় এখন অনলাইন দাবার

শাহজাহান কবির   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সময় এখন অনলাইন দাবার

দিন কয়েক আগে গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান একটি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলেন। একই আয়োজকদের ঠিক পরের টুর্নামেন্টটাই জিতেছেন ভারতীয় তরুণ নীলাশ সাহা। গতকালও ৮৫ জন খেলোয়াড় নিয়ে হয়ে গেছে ব্লিটজ দাবার (দ্রুতগতির দাবা) একটি আসর। ভাবছেন করোনায় সব অবরুদ্ধ থাকার পরও এখন দাবা টুর্নামেন্ট হচ্ছে কী করে? এই মুহূর্তে দাবাই বোধ হয় একমাত্র খেলা যেটি অনলাইনে খেলা যায়। রীতিমতো পেশাদার টুর্নামেন্টই খেলা যায় ঘরে বসে, বিশ্বের তাবৎ দাবাড়ুর সঙ্গে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে যখন একে একে সব খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, রাশিয়ার ইকেতেরিয়ানবার্গে তখনো চলছিল বিশ্বসেরা আট দাবাড়ুর ক্যান্ডিডেট টুর্নামেন্ট। যে আট দাবাড়ুর বিজয়ী বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাবের জন্য চ্যালেঞ্জ জানাবেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যাগনাস কার্লসেনকে। কিন্তু করোনা বিস্তারে শেষ পর্যন্ত সে টুর্নামেন্টও আর সম্ভব হয়নি, রাশিয়া তাদের সব বিমানবন্দর বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর। গত ২৭ মার্চ ক্যান্ডিডেট আসরের দ্বিতীয় পর্বের খেলা স্থগিত হলে দাবাড়ুরা দেশে ফিরে যান। কার্লসেন এরপর নিয়েছেন অভিনব এক উদ্যোগ, ‘ম্যাগনাস কার্লসেন ইনভাইটেশনাল’ নামে অনলাইনে আড়াই লাখ ডলারের এক টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছেন। অনলাইনেই বিশ্বের শীর্ষ সব দাবাড়ু চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন তাঁকে। জিয়া, নীলাশরা একই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই অবরুদ্ধ সময়েই খেলে যাচ্ছেন টুর্নামেন্ট। হয়তো সেগুলো বেশ ছোট আকারের। দারুণ ব্যাপার হলো, জিয়া এবং তাঁর ছেলে তাহসিন তাজোয়ার মিলে ‘ফ্রেমিং টাইগার্স’ নামে অনলাইনে ব্লিটজ দাবার একটি সিরিজ শুরু করেছেন। গতকাল সেটিরই চতুর্থ টুর্নামেন্ট ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে দুই ঘণ্টার এই টুর্নামেন্ট খেলতে ‘চেসডটকম’-এ আইডি খুলে নিতে হয় শুরুতে। আগের তিনটি টুর্নামেন্টের দুটিই জিতছেন জিয়া, অন্যটি ভারতের আর্য্য ভক্ত, সর্বশেষ বুলেট দাবার আসরটি ভারতেই আন্তর্জাতিক মাস্টার নীলাশ সাহা জিতেছেন।

একেবারে নতুন শুরু জিয়াদের এই অনলাইন টুর্নামেন্ট হচ্ছে অবশ্য অ্যামেচার ধরনে। অর্থাৎ কোনো প্রাইজ মানি থাকছে না। চ্যাম্পিয়নরা পাচ্ছেন একটি বিশেষ ব্যাজ। সিরিজ শেষে এই চ্যাম্পিয়নরাই শুধু সুযোগ পাবেন আরেকটি বড় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার।

দারুণ ব্যাপার হলো, জিয়া এবং তাঁর ছেলে তাহসিন তাজোয়ার মিলে ‘ফ্রেমিং টাইগার্স’ নামে অনলাইনে ব্লিটজ দাবার একটি সিরিজ শুরু করেছেন। গতকাল সেটিরই চতুর্থ টুর্নামেন্ট ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে দুই ঘণ্টার এই টুর্নামেন্ট খেলতে ‘চেসডটকম’-এ আইডি খুলে নিতে হয় শুরুতে। আগের তিনটি টুর্নামেন্টের দুটিই জিতছেন জিয়া, অন্যটি ভারতের আর্য্য ভক্ত।

তবে প্রাইজ মানিসহ অনলাইন টুর্নামেন্ট হচ্ছে বাংলাদেশেই। বাংলাদেশ চেস এরেনা নিয়মিতই করছে এমন টুর্নামেন্ট, উত্তরা চেস ক্লাবও করছে। অনলাইনে খেলার একটা সীমাবদ্ধতা হলো এখানে অসদুপায় অবলম্বন করার সুযোগ নেয় অনেকে। তবে চেসডটকম বা চেসটোয়েন্টিফোরডটকমের মতো সাইটগুলো সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রতারণা ধরতেও পারে। চেস এরেনার সর্বশেষ টুর্নামেন্টেই অসদুপায় অবলম্বন করায় ঢাকা ও শেরপুরের দুজনকে যেমন বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বিদেশি আয়োজনে বড় প্রাইজ মানির টুর্নামেন্টগুলোতে কম্পিউটারের সঙ্গে ক্যামেরা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করাসহ বিভিন্ন নিয়ম-কানুনের মাধ্যমে বাইরে থেকে কোনো সুবিধা নেওয়া পুরোপুরিই বন্ধ করা যায়। ‘ম্যাগনাস কার্লসেন ইনভাইটেশনাল’টাও হচ্ছে সেই আদলে।

আন্তর্জাতিক মাস্টার ফাহাদ রহমান দেশীয় কোনো অনলাইন টুর্নামেন্টে আগ্রহ পান না অনেকে প্রতারণার আশ্রয় নেন বলেই। তবে করোনায় এই আবদ্ধ সময়ে বাইরের অনলাইন টুর্নামেন্টগুলো এখন তাঁকেও টানছে। জিয়ার ১৫ বছর বয়সী পুত্র তাহসিন, যে জাতীয় দাবায়ও দারুণ পারফরম করে এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে, অনলাইন দাবা নিয়ে তার আগ্রহটাই বেশি। ‘ফ্লেমিং টাইগার্স শুরু করার চিন্তাটা ওরই। আসলে কি, বর্তমান প্রজন্মটাই ইন্টারনেটটা ভালো করে ব্যবহার করতে পারছে। ওর সঙ্গে সঙ্গ দিয়ে দেখছি আসলেই এটা খুব ভালো একটা প্ল্যাটফর্ম। তাহসিন এরই মধ্যে ভারতের প্রফেশনাল কয়েকটি টুর্নামেন্ট খেলেছে। আমার অনলাইন দাবা শুরু এই ফ্লেমিং টাইগার্স দিয়েই’, বলছিলেন জিয়া। আন্তর্জাতিক মাস্টার আবু সুফিয়ানও এই টুর্নামেন্ট দিয়েই প্রথম অনলাইন আসরের স্বাদ পেয়েছেন। এই মুহূর্তে শুধু নয়, বাংলাদেশ চেস প্লেয়ারস অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম এই উদ্যোক্তার মনে হচ্ছে, ‘অনলাইন টুর্নামেন্ট ক্রমেই জনপ্রিয় হবে। একটা সময় ফিদেও হয়তো আগ্রহ দেখাবে। স্পন্সরশিপ বাড়লে এটা করতেই হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা