kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

যেখানে ব্যতিক্রম বিসিবি

নোমান মোহাম্মদ   

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যেখানে ব্যতিক্রম বিসিবি

আমরা শুরু করেছি ক্রিকেটারদের দিয়ে। এখানেও দেখুন, প্রথমে অর্থ দিয়েছি তাঁদের, যাঁরা আমাদের সঙ্গে কোনো রকম চুক্তিতে নেই। এরপর নারী ক্রিকেটারদের। তারপর মাঠকর্মী, পিয়ন, ক্লিনারদের এমন বিসিবি স্টাফদের সাহায্য করছি। যারা ১০ হাজার টাকা বেতন পান, তাঁদের হয়তো চার-পাঁচ হাজার টাকা করে দেব।

নিশ্চিত এক অনিশ্চয়তার পথে এখন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক খেলা, টুর্নামেন্ট, আয়োজন। যার অবধারিত অর্থনৈতিক প্রভাব অস্বীকারের উপায় কী! সেটি সামলানোর জন্য ছাঁটাই, বেতন কাটার মতো পদক্ষেপ অনেক দেশের ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ক্লাবের।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সেখানে আশ্চর্য ব্যতিক্রম। কর্মীদের সুরক্ষা তো দিচ্ছেই; উল্টো এ দুঃসময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে অনুদান নিয়ে। যদিও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়া সংস্থা নিশ্চয়ই বিসিবি নয়!

ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার আর্থিক সক্ষমতা বিসিবির চেয়ে অনেক বেশি। তারা ফুটবলারদের বেতন কমিয়ে দিয়েছে ৭০ শতাংশ। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ প্রস্তাব করেছে, এখানকার সব ফুটবলার যেন ৩০ শতাংশ বেতন কম নিতে রাজি হন। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটাররা তাঁদের এপ্রিল, মে ও জুন মাসের বেতনের ২০ শতাংশ করে কম নিচ্ছেন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ছাঁটাই করেছে ২৩ কর্মী।

করোনার প্রভাব বিসিবির টাঁকশালেও পড়ছে। এর পরও অমন কড়া কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের চুক্তির বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে যাঁরা এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন, তাঁদের এককালীন ৩০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছে। ২০১৮-১৯ মৌসুমে জাতীয় লিগে যাঁরা খেলেছেন এবং ২০১৯-২০ মৌসুমের জাতীয় দলের ক্যাম্পে ছিলেন, সেসব নারী ক্রিকেটারদের দিয়েছে ২০ হাজার টাকা করে। মাঠকর্মী, বিসিবির কম বেতনের স্টাফদের পাশেও দাঁড়াচ্ছে। আর তা বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসানের উদ্যোগে বলেই জানান বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী, ‘এটি বিসিবি প্রেসিডেন্টেরই উদ্যোগ। উনি ভেবেছেন, আগে আমরা নিজেরা নিজেদের সাহায্য করি। ক্রিকেটাররা আমাদের মূল স্টেকহোল্ডার। তাঁরা থাকলে খেলা থাকবে, বোর্ড থাকবে। ক্রিকেটাররা ছাড়া কিছুই থাকবে না। এ কারণেই তাঁদের পাশে থাকতে চেয়েছি।’

এ জন্য বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞ ক্রিকেটাররা। লেগস্পিনার জুবায়ের হোসেন এখন বোর্ডের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে নেই। প্রিমিয়ার লিগই উপার্জনের সবচেয়ে বড় জায়গা। এবার পারটেক্সে নাম লিখিয়ে এখনো কোনো অর্থ পাননি। এমন সময় বিসিবির সাহায্যটা জুবায়েরের কাছে অনেক বড় ব্যাপার, ‘আসলে সিনিয়র ক্রিকেটাররা ছাড়া ক্লাবগুলোর কাছ থেকে অগ্রিম টাকা কম ক্রিকেটারই পায়। তিন-চার রাউন্ড গেলে হয়তো টাকা পেতাম কিছু। এক রাউন্ড শেষে লিগ বন্ধ হওয়ায় আমরা ভীষণ বিপদে। এ সময় বিসিবি যে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে, তা অনেক বড় ব্যাপার। এমনিতে হয়তো ৩০ হাজার টাকা তেমন বড় অঙ্ক না। কিন্তু এ সময়ে এ টাকাটাই অনেক। সে জন্য বিসিবিকে ধন্যবাদ।’

নারী ক্রিকেটার সালমা খাতুনের কণ্ঠেও একই সুর, ‘ছেলেদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার পর ভেবেছি, বোর্ড আমাদের কথাও নিশ্চয়ই ভাববে। হয়তো অত বেশি দেবে না, কিছু তো দেবে। আমাদের ২০ হাজার দিল। এটি এখন খুব কাজে লাগছে। বিসিবি আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোয় আমরা নারী ক্রিকেটারা কৃতজ্ঞ।’

বিসিবি এই সাহায্য করছে ধাপে ধাপে। আর তা অগ্রাধিকার অনুযায়ী। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন সেটিই জানান, ‘আমরা করেছি ক্রিকেটারদের দিয়ে। এখানেও দেখুন, প্রথমে অর্থ দিয়েছি তাঁদের, যাঁরা আমাদের সঙ্গে কোনো রকম চুক্তিতে নেই। অর্থাৎ, যাঁদের আর্থিক ভিত শক্ত নয়। এরপর নারী ক্রিকেটারদের। তারপর দেখেছি, বিসিবির অধীনে কাদের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল। সেভাবেই মাঠকর্মী, পিয়ন, ক্লিনারদের এমনকি বিসিবি স্টাফদের সাহায্য করছি। যারা ১০ হাজার টাকা বেতন পান, তাঁদের হয়তো চার-পাঁচ হাজার টাকা করে দেব।’ ভবিষ্যতে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট অন্যদের পাশে দাঁড়ানের কথাও জানান তিনি, ‘বোর্ড প্রেসিডেন্ট ফোন করে আমাকে বলেছেন, অন্যদের ব্যাপারেও একটি তালিকা তৈরি করতে। আম্পায়ার, স্কোরার, কোচ—মোট কথা আমাদের ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবার পাশেই এ দুঃসময়ে দাঁড়ব আমরা।’

বিসিবির অনেক পদক্ষেপেই থাকে যৌক্তিক সমালোচনার রসদ। কিন্তু এবারের করোনাকালে যেভাবে ক্রিকেট-সংশ্লিষ্টদের পাশে দাঁড়িয়েছে বোর্ড, সে জন্য তাদের অবশ্যই প্রশংসা প্রাপ্য।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা