kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

হাত-পা গুটিয়ে বসে বাফুফে

সনৎ বাবলা   

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



হাত-পা গুটিয়ে বসে বাফুফে

প্রিমিয়ার লিগের মহা অনিশ্চয়তায় ভীষণ বিপদে পড়েছে ক্লাবগুলো। ফুটবলারদের না পারছে রাখতে, না পারছে ছাড়তে। বিশেষ করে বিদেশিদের রাখতে গেলে খেলা ছাড়াই প্রতি মাসে দিতে হবে লাখ লাখ টাকা আর ছাড়তে গেলেও চুক্তি মেনে সব টাকা পরিশোধ করতে হবে।  এদিকে অর্থনীতি যাচ্ছে মহামন্দার দিকে। এমন দুর্দশার মধ্যে ক্লাবগুলো তাকিয়ে আছে বাফুফের দিকে।

ইউরোপের অনেক ক্লাব ইতিমধ্যে বেতন কর্তন করেছে ফুটবলারদের। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগও ফুটবলারদের বেতন ৩০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করেছে। খেলা বন্ধ বলে ক্লাবগুলোরও কোনো আয় নেই, তাই চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের বেতন দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশের ফুটবল ক্লাবগুলোর অবস্থা তথৈবচ। কোনোকালে তাদের আয় তেমন ছিল না, চলে ধনীদের দাক্ষিণ্যে। শুরুর ছয় রাউন্ড পর লিগ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় বিদেশিদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে। ক্লাবগুলো বলছে ‘টাকা জলে ফেলা’। এভাবে ফেললে একসময় রাজার ধনও ফুরিয়ে যায়। এই সংকটে তারা বাফুফের কাছে আর্জি জানালেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কোনো আহ্বান নেই ফুটবলারদের কাছে। 

সাইফ স্পোর্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিরউদ্দিন চৌধুরীর চোখে সবচেয়ে বেশি বিপদে সাইফ ও বসুন্ধরা কিংস, ‘বিশ্বের কোনো ফুটবল লিগেরই কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। আমাদের বেলায়ও দেখি না। এতে করে ক্লাবগুলো খুব বিপদে পড়েছে। বিশেষ করে সাইফ ও বসুন্ধরা কিংস আছে বেশি বিপদে। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বাবদ আমার বাজেটের ৭৫ শতাংশ ইতিমধ্যে খরচ করে হয়ে গেছে, এখন মাসে মাসে বিদেশিদের টাকা দিতে হচ্ছে। কিন্তু কোনো আউটপুট নেই। আমরা বিনিয়োগ করেছি। তাই বলে সব টাকা জলে যাবে, এটা তো হতে পারে না! এর একটা উপায় অবশ্যই বের করতে হবে বাফুফেকে।’ দেশি ফুটবলারদের বেলায় সাধারণত মাসিক বেতন দেওয়ার প্রথা নেই, তাদের সঙ্গে এককালীন চুক্তি করে ক্লাব। তাদের বেশির ভাগ টাকা আগে দেওয়া হয়ে গেছে। বিদেশিদের বেতন দেওয়া হয় মাসে মাসে। সাইফের চার বিদেশির জন্য মাসে খরচ হচ্ছে ৩২/৩৩ হাজার ডলার করে।

চট্টগ্রাম আবাহনীর পাঁচ বিদেশির মোট মাসিক বেতন ২৬ হাজার ডলার। ঢাকা আবাহনীর সেই অঙ্ক ‘কাউকে জানানো যাবে না’ বলে এড়িয়ে গেছেন ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ রূপু। সবচেয়ে বেশি খরচ বসুন্ধরা কিংসের। চ্যাম্পিয়নদের ক্ষেত্রে অঙ্কটা এক কোটি টাকার মতো! কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসানের আহ্বান, ‘বাফুফেকে ক্লাবের সমস্যাগুলো নিয়ে ভাবতে হবে, তাদের তরফ থেকে একটা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে হবে। তারপর আমরা এ নিয়ে আলাপ করতে পারব বিদেশিদের সঙ্গে। প্রতি মাসে কোটি টাকা পানিতে ফেলতে হচ্ছে আমাদের। না দিলে তারা ফিফার কাছে নালিশ করবে। বাফুফের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা।’

এই সমস্যা নিয়ে পুরো ফুটবলবিশ্ব কথা বলছে। কিন্তু মুখে কুলুপ দিয়ে আছেন বাফুফে কর্তারা। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বলেছেন, ‘আমরা এখনই কিছু বলতে চাইছি না। ক্লাব ও খেলোয়াড়দের সমঝোতার মাধ্যমেও সমাধান হতে পারে।’ এই বৈশ্বিক সংকটে ফিফা প্রেসিডেন্ট যেখানে ফুটবলারদের বেতনের একটা অংশ ছাড় দেওয়ার অনুরোধ করেছেন, সেখানে বাফুফে কোনো আহ্বান জানাতে পারে না কেন? বাফুফে সাধারণ সম্পাদক অপেক্ষায় আছেন ফিফা গাইডলাইনের, ‘বিশ্ব ফুটবলের এ সমস্যা নিয়ে ফিফার একটা গ্রুপ কাজ করছে। তারা একটা গাইডলাইন দেবে, তার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। তাতে হয়তো এ রকম একটা ধারা থাকতে পারে—লিগ স্থগিত থাকাকালীন কোনো খেলোয়াড়ের চুক্তি শেষ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু লিগ আবার শুরু হলে তাঁকে ওই ক্লাবে খেলতে হবে।’ এ রকম কিছু প্রেসক্রিপশন থাকতে পারে সংকট অতিক্রম করতে। 

সংকট শুধু করোনা পরিস্থিতিতে নয়। এর পরের সময়টা আরো কঠিন দেখছেন সাইফ স্পোর্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, ‘করোনার উত্তরণের পর অর্থনৈতিক অবস্থা আরো ভয়াবহ হতে পারে। সাইফ আর বসুন্ধরা কিংসের অর্থ আসে তাদের মূল কম্পানি থেকে। কিন্তু বাকি ক্লাবগুলোর চলা দায় হয়ে যাবে তখন। বিশ্ব অর্থনীতির কঠিন সময়ে ধনী ব্যবসায়ীররা সেভাবে সাড়া দেবে না। এই দিনগুলো নিয়ে বাফুফের আগাম ভাবা উচিত।’ ফিফাও শুরু করেছে সেই ভাবনা। এখানকার ফুটবলের কৌশল ঠিক করার দায়িত্ব বাফুফের। মাঠে ফুটবল নেই বলে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। ক্লাবগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার পরোক্ষ দায়িত্ব তাদেরও।

করণীয়

♦ প্রত্যেক ক্লাবের কাছ থেকে সমস্যা ও প্রস্তাবনা নিতে পারে। ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনলাইনে আলাপ-আলোচনা করে একটা সামগ্রিক নির্দেশনা তৈরি করতে পারে।

♦ ক্লাবে ১০/২০ হাজার ডলারের ফুটবলার যেমন আছে, তেমনি তিন-চার হাজার ডলারের বিদেশিও আছে। সবার ক্ষেত্রে বেতন কমানোর হার একই হবে, নাকি ভিন্ন হবে তার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। 

♦ এককালীন চুক্তিতে টাকা নেওয়া দেশি খেলোয়াড়দের বেলায় করণীয় চূড়ান্ত করতে পারে।

♦ স্থগিত লিগ চার মাস পরে শুরু হলে খেলোয়াড়দের আগের চুক্তিগুলো কিভাবে কার্যকর থাকবে, তার একটা রূপরেখা তৈরি করা।

♦ নভেম্বর-ডিসেম্বর কিংবা পরের বছর শুরু হলে খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তিগুলো কিভাবে কার্যকর থাকবে, তার একটা নির্দেশনা তৈরি করা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা