kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

চলছে শিরোপা উৎসবও

ফুটবলের ‘অন্য পৃথিবী’

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফুটবলের ‘অন্য পৃথিবী’

করোনা আতঙ্কের মাঝেও ফুটবল চলছিল ব্রাজিল, আর্জেন্টিনায়। ভাইরাসটির প্রভাব বাড়ায় অন্যদের মতো লাতিন দেশ দুটিতে বন্ধ সব ধরনের খেলা। এখন শুধু খেলা নয় পৃথিবীটাই আছে থমকে। এর পরও করোনাকে পরোয়া না করে ফুটবলের ‘অন্য পৃথিবী’ এখন বেলারুশ, বুরুন্ডি, নিকারাগুয়া আর তাজিকিস্তান। ইউরোপের একমাত্র দেশ হিসেবে ফুটবল লিগ চালু রেখেছে বেলারুশ। বুরুন্ডি, নিকারাগুয়াতেও বন্ধ হয়নি ফুটবল। আর গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৌসুমের লিগ শুরু হয়েছে তাজিকিস্তানে। ১০ দলের এই লিগে গতকাল ছিল তিনটি ম্যাচ। এর আগে পরশু রাতে সেন্ট্রাল রিপাবলিকান স্টেডিয়ামের দর্শকহীন গ্যালারির সামনে হয়েছে সুপার কাপের ফাইনাল। খুজান্দকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা উৎসবে মাতে ইসতিকলোল।

পৃথিবীর যে কয়টি দেশে করোনা এখনো থাবা বসাতে পারেনি তাজিকিস্তান এর অন্যতম। তবে পাশের দেশ উজবেকিস্তানে করোনা আক্রান্ত রোগী ২০০ ছাড়িয়েছে। আর উজবেকিস্তানের ২০ ফুটবলার নিবন্ধিত তাজিক লিগে। এর পরও ভয় পাচ্ছেন না টানা ছয় মৌসুম লিগ শিরোপা জেতা ইসতিকলোলের কোচ ভিতালি লেভশেঙ্কো, ‘এখনো এই দেশে করোনা রোগী শনাক্ত না হওয়ায় ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। শেষ পর্যন্ত লিগ শুরু করতে পারাটা বড় ব্যাপার। এর আগে সুপার কাপের জেতা শিরোপা আত্মবিশ্বাস বাড়াবে আমাদের। সতর্কতা হিসেবে দর্শকহীন মাঠে খেলাটা সমর্থন করছি আমরা।’

বেলারুশে অবশ্য ধরা পড়েছে করোনা রোগী। সংখ্যাটা ছাড়িয়েছে ৩৫০ জন। মৃত্যুও হয়েছে কয়েকজনের। এর পরও লিগ চালু রেখেছে ইউরোপের দেশটি। বেলারুশ সরকার ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের সাংস্কৃতিক  ও ক্রীড়াঙ্গনের দেশি-বিদেশি ইভেন্ট বন্ধ করার আদেশ জারি করেছিল। এর পরও লিগ বন্ধ করেনি বেলারুশ ফুটবল ফেডারেশন। গতকাল যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়েছে তিনটি ম্যাচ। এ নিয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জেনারেল সার্জেই জারদেিস্ক জানালেন, ‘এটা ঠিক, অনেক দেশের পরিস্থিতি খুব খারাপ। আমরা আলোচনা করেছি বেলারুশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। আর বুঝতে পেরেছি এই সময়ে লিগ চালিয়ে নেওয়া যাবে। প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি আমরা। আস্থা রাখছি আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর।’

বেলারুশের মতো লিগ চলছে নিকারাগুয়াতেও। টেলিভিশন আর ফেসবুকে প্রচার হচ্ছে ম্যাচগুলো। তবে করোনা আতঙ্ক নিয়ে খেলছেন ফুটবলাররা। দর্শকহীন গ্যালারি এমনিতে ভূতুড়ে একটা ব্যাপার। এরপর আবার হাত মেলানো যায় না কারো সঙ্গে। তেমনি বল নিয়ে ছোটার সময় খেয়াল রাখতে হয় বিপক্ষের কারো শরীরের সঙ্গে স্পর্শ যেন না হয়! দেপোর্তিভো লা সাবানা ক্লাবের গোলরক্ষক কার্লোস মসকুয়েরো হতাশা লুকালেন না এ নিয়ে, ‘ফুটবলটাই বদলে গেছে এখন। শরীর বাঁচিয়ে কি আর ফুটবল হয়?’ দ্য গার্ডিয়ান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা