kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

শিকল ভাঙা মারিয়া

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিকল ভাঙা মারিয়া

সবাই এখন আমাকে চেনে, গুরুত্ব দেয়। অবশ্যই ভালো লাগে এটা। মা-ও ভীষণ খুশি, আর এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড়।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফিফার আহ্বানে সাবেক, বর্তমান সব ফুটবলার যেমন এক দলে নাম লিখিয়েছেন করেনাভাইরাসকে ‘কিক আউট’ করতে, তেমনি এএফসি শুধু এশিয়ার ফুটবলারদের নিয়ে শুরু করেছে ‘ব্রেক দ্য চেইন’ ক্যাম্পেইন। নিয়মিত হাত ধোয়া, ঘরে থাকাসহ সুরক্ষামূলক কৌশলগুলো অবলম্বন করে এ ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া কী করে রোধ করা যায়, সেটিই বলছেন তারকারা। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের মারিয়া মান্দাকেও দেখা যাবে এ ভিডিওতে। ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার প্রত্যন্ত গ্রাম কলসিন্দুরের সবুজ মাঠে দাঁড়িয়ে মারিয়াও পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দিচ্ছেন কিভাবে এ ঘাতক ভাইরাসের শিকলটা ভেঙে সবাইকে বেরিয়ে যেতে হবে।

শিকল ভাঙতে হয় কী করে, মারিয়ার চেয়ে বেশি আর কে জানেন। স্বামী হারানো দরিদ্র এনতা মান্দা অন্যের বাড়িতে কাজ করে, রাস্তার মাটি কেটে ছেলে-মেয়েকে মানুষ করছিলেন। সেভাবে মারিয়াকে তিনি কত দূর নিয়ে যেতে পারতেন কে জানে। কিন্তু সবুজ মাঠে ফুটবলকে সঙ্গী করে মারিয়া মাধ্যমিক পেরোনোর আগেই এত দূর পৌঁছে গেছেন যে তাঁর চোখে এখন বিশ্বকাপের স্বপ্নও হাতছানি দেয়। মাকে সাহায্য করতে ছোট্ট মারিয়াকেও তো মাঠে, ঘাটে কাজ করতে হয়েছে কত! সেই মায়ের এখন অখণ্ড অবসর, বাড়িতে থেকে শুধু মেয়ের কথা ভেবে, সংসার সামলেই দিন চলে যায়। এখন মারিয়া যে নিজেই আয় করেন। এএফসি রিজিওনাল চ্যাম্পিয়নশিপ, এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইয়ে শিরোপাজয়ী দলে ছিলেন, তাঁর অধিনায়কত্বে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ শিরোপা জিতেছে মেয়েরা। প্রধানমন্ত্রী তাই কয়েক দফায় এই মেয়েদের আর্থিকভাবে পুরস্কৃত করেছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন তাদের আর্থিক নিশ্চয়তা দিয়েছে। এ বছর নতুন করে মেয়েদের লিগ শুরু হওয়ার পর বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিয়েও ভালো পারিশ্রমিক পাচ্ছেন মারিয়া। কিন্তু তাঁর এই উঠে আসা অর্থের বিচারে পরিমাপ করা সম্ভব নয়, মারিয়া যে জীবন বদলের দুঃসাহসিকতা দেখিয়েছেন। তাঁকে নিয়ে তাই ইউনিসেফ তথ্যচিত্র বানিয়েছে, অনেক কৃতী নারীদের সঙ্গে পেয়েছেন অনন্যা সম্মাননা।

সেই মারিয়া করোনার এমন দুর্যোগে সামনে থেকেই লড়বেন এ তো জানা কথাই। বাংলাদেশ থেকে ছেলেদের ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, ম্যানেজার সত্যজিত্ দাস রুপু, নারী দলের অধিনায়ন সাবিনা খাতুন এবং মারিয়াই শুধু অংশ নিচ্ছেন ‘ব্রেক দ্য চেইন’ ক্যাম্পেইনে। লিগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সব মেয়েই বাড়িতে ফিরে গেছেন। এএফসির ক্যাম্পেইন শুরুর আগেই কিন্তু মারিয়াকে দেখা গেছে বাড়ির উঠানে ছোটদের হাত ধোয়া শেখাচ্ছেন। কলসিন্দুরে তাঁর বাড়ির আশপাশেই অনেক ফুটবলারের বাড়ি। কিন্তু এ সময়ে কারো সঙ্গেই দেখা হচ্ছে না তাঁর। করোনা সতর্কতা মেনে নিজের বাড়িতেই থাকছেন। এএফসির ক্যাম্পেইনেও ইংরেজিতে এ কথাগুলোই বলেছেন তিনি। আর এমন একটা কিছুর অংশ হতে পেরে ভীষণ আনন্দিতও মারিয়া, ‘আমাকে বাফুফে থেকে এমন একটা ভিডিও করতে বলার পর আমি নিজে অনেক উত্সাহ নিয়েই কাজটা করেছি। কারণ এখন সবারই সতর্ক থাকতে হবে। আমার এ ভিডিও থেকে কেউ যদি একটুও উপকৃত হয়, সেটিই হবে বড় কিছু।’

একটা সময় নিজেই লড়েছেন শত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে। সেই তিনিই এখন অনুপ্রেরণা হচ্ছেন অন্যদের। ভাবতে কেমন লাগে মারিয়ার, কাল কলসিন্দুর থেকেই বলছিলেন, ‘সবাই এখন আমাকে চেনে, গুরুত্ব দেয়। অবশ্যই ভালো লাগে এটা। মা-ও ভীষণ খুশি, আর এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড়। একটা সময় অনেক কষ্ট করে মা আমাকে বুট, জুতা কিনে দিয়েছেন। এখন মাকেই আমি সাহায্য করতে পারছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা