kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

অসমাপ্ত লিগেই মৌসুমের ইতি!

সনৎ বাবলা   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অসমাপ্ত লিগেই মৌসুমের ইতি!

স্থগিত হয়ে যাওয়া ফুটবল লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই অন্ধকারে। করোনার অন্ধকার থেকে কখন আলোর দিশা মিলবে, কেউ বলতে পারছে না। লিগের অনিশ্চয়তা ও ক্লাবগুলোর সংকট মিলে উঁকি মারছে নতুন আশঙ্কাও। অসমাপ্ত প্রিমিয়ার লিগেই কি শেষ হয়ে যাচ্ছে ফুটবল মৌসুম!

আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী যেন বুঝেই গেছেন এ মৌসুমে ফুটবল লিগ আর হচ্ছে না। তিনি লিগ কমিটির সর্বশেষ সভার আলোচনার ভিত্তিতে বলছেন, ‘লিগ আর হচ্ছে না। দেশি-বিদেশি সব খেলোয়াড়কে আমরা ছেড়ে দিয়েছি। কারণ লিগ কমিটির গত সভায় একরকম সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। লিগ যে হবে না, এটা কম-বেশি সবাই জানে।’ পেশাদার ফুটবল লিগের সর্বশেষ সভা হয়েছিল ২৪ মার্চ। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ওই দিন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ। তবে ওই সভায় লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানামুখী আলোচনা হলেও পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্যান্য ক্লাব কর্মকর্তাদের মুখেও শোনা যায়নি এমন কথা।

তবে অন্যরাও এ লিগ তথা চলমান ফুটবল মৌসুমের ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যানেজার আমের খান বলছেন, ‘লিগ পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পরিস্থিতি যেভাবে বদলাচ্ছে তাতে ফুটবল আদৌ মাঠে গড়াতে পারবে কি না, আমার সন্দেহ আছে। এভাবে আরো দু-তিন মাস কেটে গেলে কিন্তু খুব সমস্যা হবে।’ ক্লাবের তরফে বড় সমস্যা হচ্ছে, ফুটবলারদের বসিয়ে রেখে বেতন দেওয়া। এখানে দেশি ফুটবলারদের মাসিক বেতনের প্রথা চালু হয়নি, চুক্তির ৫০-৬০ শতাংশ টাকা আগাম দিয়েই খেলোয়াড়দের দলে নেওয়ার রেওয়াজ। মাসে মাসে বেতন দিতে হয় বিদেশিদের, এটা সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে অনেক ক্লাব। তারা না পারছে ছাড়তে, আবার রাখতে গিয়ে মাসে মাসে তাঁদের অনেক টাকা জলে যাচ্ছে। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ডিরেক্টর (স্পোর্টস) সালেহ জামান সেলিম বলছেন, ‘আমার দলের বিদেশিরা তাঁদের দেশে ফিরতে অস্থির হয়ে উঠেছেন। তাঁদের পাঠানোর কোনো উপায় নেই, আবার লিগ কবে শুরু হবে সেটাও অজানা। সব মিলিয়ে ক্লাবগুলো খুব বিপদে আছে। পাকাপাকিভাবে একটা সিদ্ধান্ত হলে সবার জন্যই ভালো।’

পাকাপাকি সিদ্ধান্ত মানে লিগ চলবে, নাকি চলবে না। সারা বিশ্বে ফুটবল লিগ স্থগিত এ মুহূর্তে। একমাত্র বেলজিয়াম মাঝপথে স্থগিত ফুটবল লিগের ইতি টেনে দিয়েছে ক্লাব ব্রাগকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে। গত পরশু প্রিমিয়ার লিগ স্থগিত হয়ে গেছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। এখানকার বেশির ভাগ ক্লাবই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাইছে লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে। সালেহ জামান সেলিম যেমন বলেছেন, ‘বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ক্লাব কর্মকর্তাদের লিগ বন্ধের কানাঘুষা শুরু হয়েছে। অসমাপ্ত লিগ চালিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি না, আমি জানি না। আমাদের দেশের অবস্থা সামনে কী হয় না হয়, তার ওপর সব নির্ভর করছে।’

দেশের করোনা পরিস্থিতি এখনো ইউরোপের মতো ভয়ংকর রূপ না নিলেও প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। রোজকার এ দুঃসংবাদ নিশ্চয়ই সামনের দিনগুলোর ইতিবাচক বার্তা দেয় না। এমন অবস্থায় বেশির ভাগ ক্লাব যখন লিগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাইছে তখন আবাহনী ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ রুপু বলছেন অপেক্ষার কথা, ‘এখন লিগ নিয়ে ভাবার সময় নয়, ঘরে বসে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানোর সময়। লিগ কবে হবে কিংবা আদৌ হবে কি না—এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনো হয়নি। লিগ বাতিল করার সঙ্গে অনেক কিছু জড়িয়ে আছে।’

লিগ ঝুলিয়ে রাখার সঙ্গেও অর্থ জড়িত। সঙ্গে আছে লিগের অনিশ্চয়তা। এ পরিস্থিতিতে কেউ আর আশা দেখছেন না, বেশির ভাগ ক্লাবই অসমাপ্ত লিগে ইতি টেনে দিচ্ছে ফুটবল মৌসুমের।

 

অনিশ্চয়তায় ফুটবল লিগ

প্রশ্ন : দেশের এই করোনা পরিস্থিতিতে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ শুরুর ব্যাপারে কোনো চিন্তা করেছেন?

সালাম মুর্শেদী : আমার ধারণা, এই করোনা পরিস্থিতি আরো বেশ কয়েক মাস দীর্ঘ হবে। ইউরোপে যা হচ্ছে তার সঙ্গে তুলনা করলে এখন আমাদের কিছুই হয়নি। কিন্তু সামনে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে, সেটা আমরা কেউ জানি না। তাই মানুষের অস্তিত্ব যেখানে হুমকির মুখে, সেখানে ফুটবল লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে এ মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা কঠিন।

প্রশ্ন : লিগ কি পুরোপুরি বাতিল হয়ে যেতে পারে? মৌসুম এখানেই শেষ হয়ে যেতে পারে?

সালাম : মৌসুম শেষ, এ কথা এখন বলা যাবে না। তবে বলতে পারি এই ফুটবল লিগের ভবিষ্যৎ খুব অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এ মাসের শেষের দিকে গিয়ে হয়তো আমরা একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব।

প্রশ্ন : কিন্তু ক্লাবগুলোকে যে খেলোয়াড়দের পুরো বেতন দিতে হচ্ছে?

সালাম : আশা করি সেটারও একটা প্রেসক্রিপশন আমরা ফিফা-এএফসি থেকে পাব। এ বিপর্যয়ের মধ্যে কিভাবে খেলোয়াড়দের বেতন-বোনাস সর্বোপরি তাদের সঙ্গে চুক্তিটা কিভাবে শেষ করবে ক্লাবগুলো। আমাদের প্রধান কাজ হবে, ক্লাবগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা। ক্লাব শেষ হয়ে গেলে ফুটবলাররা খেলবে কোথায় আর তাদের টাকাই বা কে দেবে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা