kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

মরগানের ধারণাটা আসলে পাগলামি!

৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : থমকে যাওয়া বিশ্বে ক্রিকেটও এখন স্থির, নিশ্চল। দুঃস্বপ্ন কেটে আবার মাঠে ফেরার দুঃসহ অপেক্ষায়। কিন্তু মাঝের সময়টা যে গিলে খাচ্ছে করোনাভাইরাস, তা পুষিয়ে দেবার উপায় কী! ইংল্যান্ডের সীমিত ওভারের অধিনায়ক এউইন মরগান তো একই সঙ্গে দুই জায়গায় একই দেশের দুটি জাতীয় দল খেলালেও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন।

হাবিবুল বাশারের আপত্তি ঠিক এ জায়গাতেই। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হিসেবে; বর্তমান নির্বাচক হিসেবেও। অমন কিছু ক্রিকেটের জন্যই বুমেরাং হবে বলে দাবি তাঁর।

‘পুরো পৃথিবীই এখন একরকম ঘরের ভেতরে। যে কারণে কোথাও কোনো খেলা হচ্ছে না। তাই বলে এ অবস্থা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য একই দেশ একই সময় দুই জায়গায় টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি খেলবে—এ ধারণাটাই পাগলামি’—বলেছেন হাবিবুল। ক্রিকেটের জন্য এতে হিতে বিপরীত হবে বলেও আশঙ্কা তাঁর, ‘আমরা যখন ক্রিকেট খেলেছি কিংবা ক্রিকেট দেখেছি, তাতে আবেগটা অনেক বেশি ছিল। বেশি বেশি খেলা হওয়ার কারণে সে আবেগ কমে গেছে। এটি অস্বীকারের উপায় নেই। এখন কিছুদিন ক্রিকেট বন্ধ থেকে যখন আবার চালু হবে, সবার মধ্যে আগ্রহটা আবার বাড়বে। মানে, আমি এ খারাপ সময়ে ভালো দিকটা দেখার চেষ্টা করছি আর কি! কিন্তু যদি দুটো বাংলাদেশ দল একই সঙ্গে খেলে, দুটো ভারত খেলে, দুটো অস্ট্রেলিয়া খেলে, তাহলে আগ্রহটা আরো কমে যাবে। ক্রিকেটর জন্যই বুমেরাং হবে তা।’


অমন কিছু ক্রিকেটের জন্যই বুমেরাং হবে বলে দাবি তাঁর। ‘পুরো পৃথিবীই এখন একরকম ঘরের ভেতরে। যে কারণে কোথাও কোনো খেলা হচ্ছে না। তাই বলে এ অবস্থা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য একই দেশ একই সময় দুই জায়গায় টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি খেলবে—এ ধারণাটাই পাগলামি’—বলেছেন হাবিবুল।

মরগানের মুখ দিয়ে বেরোনো কথাটি এখনো কেবল ধারণার পর্যায়ে। অনেক ধাপ পেরিয়েই তা আলোর মুখ দেখতে পারে। অমন কিছু হলে তাতে অর্থনৈতিক লাভের লোভটাই বেশি কাজ করবে বলে বিশ্বাস হাবিবুলের, ‘একটা দেশ যখন খেলে, তখন এর প্রতি আবেগটা সবারই বেশি থাকে। ক্রিকেটার, দর্শক, কোচ, সবার। এখন দুটো দেশ যদি খেলে, তাহলে কি সেটি থাকবে? থাকবে না। সে কারণেই বলছি, আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষতিটা মেনে নেওয়া উচিত। তা ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থেই। একটা উদাহরণ দিই। আগে বিশ্বকাপ হতো চার বছর পর পর। এ নিয়ে আগ্রহের মাত্রা ছিল ব্যাপক। এখন ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে প্রায় প্রতিবছরই বিশ্বকাপ হয়। কিন্তু আগ্রহটা কি আগের মতো আছে? অর্থনৈতিকভাবে ক্রিকেট, ক্রিকেটার সবাই লাভবান হচ্ছে। কিন্তু খেলার প্রতি আবেদনই যদি কমে যায়, তাহলে সেটি ভালো কিছু না।’

কিন্তু শেষ পর্যন্ত অমন কিছু যদি হয়েই যায়! বাংলাদেশের সামনে তখন বিশাল চ্যালেঞ্জ। এত এত আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটার নেই যে। তা স্বীকারে অকুণ্ঠ এই নির্বাচক, ‘তিন ফরম্যাটে আলাদা দল তৈরির কাজ এখনো করছি আমরা; শেষ হয়নি। এরই মধ্যে যদি দুটি আলাদা টেস্ট স্কোয়াড বানাতে হয়, তাহলে তো মুশকিল। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো কয়েকটি দেশ বাদ দিলে সবার জন্যই সেটি কঠিন হবে। আমাদের ছয়-সাতজন ক্রিকেটার তিন ফরম্যাটেই খেলে। আলাদা আলাদা দল করা তাই কিভাবে সম্ভব!’ ভারতের মতো শক্ত ক্রিকেট কাঠামোর দেশের পক্ষে তা হয়তো অসম্ভব না। কিন্তু তাতে শেষ পর্যন্ত লাভের লাভ কিছুই হবে না বলে দাবি হাবিবুলের, ‘ধরুন, ভারত একই সঙ্গে দুই জায়গায় খেলছে। একটিতে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারা, অন্যটিতে শ্রেয়াস আইয়ার। দর্শকদের কাছে দুটি খেলার আবেদন হবে পুরো দুই রকম। তাতে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

হাবিবুলের তাই একটাই আশা, ‘মরগানের কথাটি কথার কথা হিসেবেই থাকুক।’ তাতে ক্রিকেট-ক্রিকেটার-দর্শক সবার লাভ দেখছেন সাবেক এই অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা