kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

একই ফর্মুলা, বাস্তবায়নও একই রকম কঠিন

মাসুদ পারভেজ   

৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



একই ফর্মুলা, বাস্তবায়নও একই রকম কঠিন

গ্যারি কারস্টেনের ফর্মুলা বাস্তবায়ন করা যায়নি। এবার বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট উন্নয়নের নানা ‘মডিউল’-এর ফেরিওয়ালা রস টার্নারেরটিও যে আলোর মুখ দেখবে, তা নিয়ে অবশ্য ঘোর অনিশ্চয়তা আছে বাংলাদেশের প্রশাসকদের মধ্যেই। সম্প্রতি এই অস্ট্রেলিয়ানের টার্নার-ক্যাম্পবেল কনসালট্যান্সির সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যে চুক্তির অধীনে তিন বছর ধরে চলবে ‘এক্সিলেন্স ইনিশিয়েটিভ’। দেশের ক্রিকেট অবকাঠামোর এমন কিছুই নেই, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

পদের নাম আলাদা হলেও দুজনের ফর্মুলা প্রায় একই। কিন্তু গ্যারি কারস্টেনের ফর্মুলা বাস্তবায়ন করা যায়নি। এবার বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট উন্নয়নের নানা ‘মডিউল’-এর ফেরিওয়ালা রস টার্নারেরটিও যে আলোর মুখ দেখবে, তা নিয়ে অবশ্য ঘোর অনিশ্চয়তা আছে বাংলাদেশের প্রশাসকদের মধ্যেই।

সম্প্রতি এই অস্ট্রেলিয়ানের টার্নার-ক্যাম্পবেল কনসালট্যান্সির সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যে চুক্তির অধীনে তিন বছর ধরে চলবে ‘এক্সিলেন্স ইনিশিয়েটিভ’। দেশের ক্রিকেট অবকাঠামোর এমন কিছুই নেই, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। ক্রিকেটার ও দলের পারফরম্যান্সের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী করা থেকে শুরু করে স্থানীয় কোচ, আম্পায়ার ও কিউরেটরদের মানোন্নয়নের পাশাপাশি ডাটাবেজ ও ডিজিটাল রিসোর্স তৈরিসহ অ্যাপসভিত্তিক নানা কর্মকাণ্ডও এই প্রকল্পের আওতাধীন। দেড় লাখ ইউএস ডলার অর্থমূল্যের এই প্রকল্পও এখন করোনা পরিস্থিতিতে থমকে আছে অনির্দিষ্টকালের জন্য।

এই ঝড় থেমে গেলে যখন সেটি শুরু হবে, তখনো টার্নারের প্রস্তাবনার একটি অংশের বাস্তবায়ন নিয়ে ভীষণ সন্দিহান বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান খালেদ মাহমুদ। ‘এক্সিলেন্স ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পে ডিরেক্টর অব কোচিং পদে পূর্ণকালীন কাউকে পাওয়া যাবে কি না, বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়কের সংশয়টি এখানেই। অবশ্য চন্দিকা হাতুরাসিংহে চলে যাওয়ার পর জাতীয় দলের হেড কোচ খুঁজতে বিসিবি যাঁর শরণাপন্ন হয়েছিল, সেই গ্যারি কারস্টেনও প্রায় একই রকম একটি পদ তৈরির প্রস্তাব করেছিলেন। ২০১১ সালে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচের সুপারিশেই স্টিভ রোডসকে জাতীয় দলের হেড কোচ করেছিল বিসিবি। একই সঙ্গে কারস্টেন একজন পারফরম্যান্স ডিরেক্টর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলে গিয়েছিলেন। যার নজরদারি থাকার কথা ছিল জাতীয় দল থেকে শুরু করে একেবারে বয়সভিত্তিক পর্যায় পর্যন্ত।

কারস্টেনের সেই ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে গিয়েই সমস্যার গভীরতা টের পায় বিসিবি। সেই সময় তাঁদের প্রথম পছন্দ মাহেলা জয়াবর্ধনেকে প্রস্তাব দিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়, তাতেই দমে যায় দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসন। একেই স্বল্পকালীন চুক্তির পাল্টা প্রস্তাব দেন শ্রীলঙ্কার সাবেক এই অধিনায়ক। তার ওপর মাসভিত্তিক চুক্তিও করতে চাননি। দৈনিক পারিশ্রমিকের যে অঙ্ক তিনি দাবি করেছিলেন, সেটিও ছিল অবিশ্বাস্য। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দৈনিক পারিশ্রমিক পেয়ে আসা জাতীয় দলের স্পিন বোলিং উপদেষ্টা ডেনিয়েল ভেট্টোরির (আড়াই হাজার ইউএস ডলার) চেয়েও অঙ্কটি ছিল দেড় গুণ বেশি। তাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টরের পদও আর তৈরি করা হয়নি।

এবার টার্নারের প্রস্তাবনা মেনে ডিরেক্টর অব কোচিংয়ের পদও যে তৈরি করা যাবে, থমকে থাকা সময়ে সে অনিশ্চয়তার কথাই বললেন মাহমুদ, ‘জাতীয় দলের কোচের পক্ষে তো ওই একটি দল ছাড়া অন্য কোনো দিকে নজর দেওয়া মুশকিল। সে জন্যই টার্নারের প্রস্তাব হলো ডিরেক্টর অব কোচিং নিয়োগ দেওয়া। যিনি জাতীয় দল থেকে শুরু করে একদম অনূর্ধ্ব-১৫ দলেরও খেয়াল রাখবেন। পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে যিনি আরো উন্নতির রোপম্যাপও তৈরি করবেন। কিন্তু সমস্যা হলো এ রকম একজন কোচ আমরা কোথায় পাব?’ তিনি সমস্যার আরো গভীরে ঢুকে বলেছেন, ‘এই পদে আপনি এমন কাউকেই চাইবেন, যিনি সারা বছর সময় দেবেন। কিন্তু পূর্ণকালীন চুক্তিতে কাউকে পাওয়া যাবে, বাস্তবতা অন্তত তা বলছে না।’

কারণ জাতীয় দলের হেড কোচের তুলনায় এই পদে কর্মপরিধি, ব্যস্ততা এবং খাটুনি অনেক বেশি। বিশেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টির বাজারে যেখানে একজন নামি কোচের জন্য একাধিক জায়গায় কম সময়ে মেধা বিক্রি করে বহুগুণ রোজগারের নিশ্চয়তা, সেখানে বাড়তি পরিশ্রম টানবে কাকে? সেসব মাথায় আছে বলেই মাহমুদ বললেন, ‘পাওয়া হয়তো যাবে। কিন্তু আমরা যে ধরনের ব্যক্তিত্ব চাই, সে রকম কাউকে পাওয়া সত্যিই কঠিন। এই পদে ভারিক্কি ধরনের কাউকেই প্রয়োজন। যেমন টম মুডি বা অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের কথা বলা যেতে পারে। এমন নয় যে আমরা তাদের প্রস্তাব দিয়েছি। এই মুহূর্তে আমার মাথায় এই দুটো নাম আসল বলেই বললাম। মানে এ রকম নামি কাউকেই আমরা চাই। কিন্তু এঁদের তো আবার সারা বছরের জন্য পাওয়া যায় না।’

তাহলে টার্নারের ‘এক্সিলেন্স ইনিশিয়েটিভ’ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে অনেকটা। অবশ্য সেটি কবে শুরু করা যাবে, এই মুহূর্তে অনিশ্চিত তো তাও, ‘আমরা চাচ্ছিলাম এই অফ সিজনেই শুরু করে দেব। এখন সব প্রশ্নের উত্তরও তো একটিই—জানি না।’ করোনা ঝড় থেমে গেলে নিশ্চয়ই একদিন না একদিন এটি শুরু হবে। তবে সেই শুরুতেও পূর্ণকালীন ডিরেক্টর অব কোচিং পাওয়া নিয়ে থাকবে অনিশ্চয়তা। কারস্টেন আর টার্নারের ফর্মুলা একই হলেও বাস্তবায়নও যে একই রকম কঠিন!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা