kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

বিশ্রামেও সচল অ্যাথলেটরা

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



 বিশ্রামেও সচল অ্যাথলেটরা

অলস বসে থাকা নয়... বাড়ির ভেতরেই ফিটনেস অনুশীলন সেরে নিচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। বসুন্ধরা কিংস তারকা ডেনিয়েল কলিনড্রেসও বসে নেই। রহমতগঞ্জের তরুণ ফুটবলার সানোয়ার হোসেন যশোরের বাড়িতে ফিরে ব্যায়ামের পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি না পেলেও বিকল্প উপায় ঠিক বের করে নিয়েছেন।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাসাতেই মুশফিকুর রহিমের ঘাম ঝরানোর ভিডিও, ছবি তুমুল শেয়ার হচ্ছে ফেসবুকে। ফুটবলার আনিসুর রহমান, বিপলু আহমেদ, সাদ উদ্দিনদের দেখা যাচ্ছে নির্জন রাস্তায় কি খোলা মাঠে একা একাই অনুশীলনে মগ্ন। খেলা বন্ধ তাতে কী, নিজেকে তো ফিট রাখতে হবে। পরিস্থিতি আবার যখন আগের মতো হয়ে যাবে তখন যেন কেউ পিছিয়ে না থাকেন সেই চেষ্টাতেই আছেন অ্যাথলেটরা। তবে করোনার এই সময়ে ভবিষ্যতের পারফরম্যান্সের জন্য নয় শুধু নিয়মিত ব্যায়াম করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়েরই একটা অংশ বলছেন চিকিৎসকরা।

বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মেডিক্যাল কমিটির সদস্য, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শফিকুর রহমান বলছিলেন অ্যাথলেটদের জন্য ‘অ্যাকটিভ রেস্ট’-এর বিকল্প নেই, ‘২০০১ সালে হকির জার্মান কোচ ইয়র্ক শুমাখারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছিল আমার। তাঁর মুখেই প্রথম শুনি অ্যাকটিভ রেস্টের কথা। ছুটি দেওয়ার সময় খেলোয়াড়দের বলছিলেন তিনি, মোটেও রেস্ট নয়, অ্যাকটিভ রেস্টে থাকতে হবে সবাইকে। অর্থাৎ সবাইকে ছুটির মধ্যেও ন্যূনতম শারীরিক পরিশ্রমটুকু করে যেতে হবে। এই সময়ে সেই ‘অ্যাকটিভ রেস্ট’ আরো বেশি করে প্রয়োজন বলেই মনে হচ্ছে। কারণ নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়, আর করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখন তো এটা ছাড়া আর কোনো দাওয়াইও নেই আমাদের কাছে।’ চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ মারুফুল হক তাই ‘এই মুহূর্তে খেলার চেয়ে জীবন বড়’ মন্তব্য করেও পরক্ষণে সব ফুটবলারের জন্য ১০ মিনিটের একটি ব্যায়ামের ভিডিও আপলোড করে দেন ফেসবুকে, যেটি দিনে দুবার করে করলে ফিটনেস নিয়ে আর ভাবতে হবে না বলেও তাঁর মত। ডেনিয়েল কলিনদ্রেস লম্বা ছুটি পেয়েছেন, কিন্তু কে বলবে তিনি ছুটির হাওয়ায় ভাসছেন, বরং পই পই করে দিনের পুরো সময় তিনি ভাগ করে ফেলেছেন কখন কোনটা করবেন তা নিয়ে, তাতে ব্যয়ামটাই গুরুত্ব পেয়েছে সবচেয়ে বেশি। তার জন্য বসুন্ধরা কিংসের ফিটনেস ট্রেনারের নিয়মিত পরামর্শও নিচ্ছেন অনলাইনে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মেডিক্যাল কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলী ইমরান ভীষণ খুশি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খেলোয়াড়দের ঘরে থেকেও ফিট থাকার এই চেষ্টা দেখে, ‘ব্যায়ামের গুরুত্ব তো নতুন করে কিছু বলার নেই। আমার সবচেয়ে ভালো লাগছে এমন সংকটময় মুহূর্তে খেলোয়াড়রা তাদের ভক্ত-সমর্থকদের সঠিক বার্তা দিতে পারছেন দেখে। এই লকডাউন পরিস্থিতিতে সবারই উচিত একেবারে অলস সময় না কাটিয়ে নিজেদের সচল রাখা। তাহলেই করোনার বিরুদ্ধে অন্তত কিছুটা প্রস্তুতি থাকবে আমাদের।’ বিওএ, বাফুফের সঙ্গে যুক্ত এই মেডিক্যাল টিমগুলোও খেলোয়াড়দের বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে পুরোপুরি সজাগ আছেন বলে জানিয়েছেন আলী ইমাম, ‘বাফুফে সম্পাদকের সঙ্গে এ নিয়ে আমার কথা হয়ে আছে, যেকোনো পর্যায়ের কোনো ফুটবলার এই মুহূর্তে যদি অসুস্থ বোধ করেন তারা যেন সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের জানান। আমরা বিশেষভাবেই তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করব।’ বিওএ’র চিকিৎসক শফিকুর রহমান এটাকে ভালো খবরই বলছেন যে, ‘এখনো পর্যন্ত আমরা কোনো পর্যায়ের কোনো অ্যাথলেটদের কাছ থেকে বিশেষ অসুস্থতা বা করোনার সামান্যতম উপসর্গ আছে, এমন খবর পাইনি। তেমন কিছু জানতে পারলে অবশ্যই আমরা আলাদা ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা