kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

স্ট্রাইকারদের সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্ট্রাইকারদের সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : গোল! গোলের বড় হাহাকার এ দেশের ফুটবলে। আপনি স্ট্রাইকার হলে, এই বন্দি সময়ে গোলের হাহাকার ঘোচানোর উদ্যোগ নিজেই নিতে পারেন। কোচের ট্রেনিংয়ের দরকার নেই, ভিডিও দেখবেন আর বাড়ির আঙিনায় সাধ্যমতো প্র্যাকটিস করবেন। দিন গুনে টানা এক মাস করুন, এরপর নিজেকে পরখ করুন। নির্দিষ্ট শট বা মুভে নিশ্চিতভাবে আপনার দক্ষতা বাড়ার গ্যারান্টি দিচ্ছেন দুই বিদেশি কোচ।

অস্কার ব্রুজোন ও মারিও লেমোস। দেশের দুই সেরা ক্লাবে কাজ করছেন দুই কোচ। তার আগে এই অঞ্চলে বিভিন্ন ক্লাবেও তাঁরা দায়িত্বে পালন করেছেন। অন্য অনেকের মতো দুই বিদেশি কোচ এখন ঢাকায় গৃহবন্দি। বসুন্ধরা কিংসের অস্কার ব্রুজোন মনে করেন এই সময়টাকে কাজে লাগাতে পারে স্থানীয় স্ট্রাইকাররা, ‘স্ট্রাইকারদের জন্য ভালো প্র্যাকটিস হলো পোস্টের সামনে বিভিন্ন জায়গা থেকে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা করা। বক্স কিংবা তার বাইরে বিভিন্ন কোণ থেকে শট জালে রাখা। আগে জানতে হবে বলের কোন অংশ মারতে হয়, এরপর সে অনুযায়ী নিয়মিত ট্রেনিং করা। এগুলো ট্রেনিং ফিল্ডে ম্যাচ সিচুয়েশনে নিয়মিত করলে উন্নতি হবেই। এখন সেই সুযোগ না থাকলেও বাড়ির আঙিনায় স্ট্রাইকাররা নিয়মিত প্র্যাকটিস করতে পারে।’ করোনাভাইরাসের এই লকডাউন অবস্থায় ফুটবলাররা যে যার বাড়িতে চলে গেছেন। সেখানে অলস সময় না কাটিয়ে স্ট্রাইকাররা পারেন নিজের গোল করার ক্ষমতাকে আরো শানিত করতে।

স্প্যানিশ কোচের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফুটবলারের শেখার আগ্রহ, ‘ফুটবলারের শেখার আগ্রহটা গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্রাইকার যদি চায় তার সামর্থ্য বাড়াতে সে অনেকভাবে নিজেকে তৈরি করার উপায় খুঁজে পাবে। যেমন গ্রেট ফুটবলারদের গোলের ভিডিও দেখেও শেখা যায়। এক দিনে কেউ পারবে না, টানা ৩০ দিন একটি শট প্র্যাকটিস করে দেখুন। শট আগের চেয়ে অনেক ভালো হবে এবং আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।’ কিন্তু এত আগ্রহ স্থানীয় স্ট্রাইকারদের আছে কি না কে জানে। হয়তো নিয়মিত ফিটনেস ট্রেনিং করছেন ফুটবলাররা, সঙ্গে গোল স্কোরিং দক্ষতা বাড়ানোর নির্দিষ্ট কিছু ট্রেনিং করতেই পারেন। গোলের কী ট্রেনিং করবেন, সেটাও কাউকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন দেখেন না আবাহনীর কোচ মারিও লেমোস, ‘সত্যি বললে এখন বিশ্ব ফুটবলকে বোঝা ও জানার বিস্তর সুযোগ করে দিয়েছে ইন্টারনেট। স্ট্রাইকার হতে চান আপনি, কী করতে হবে তার সবই দেওয়া আছে নেটে। সঙ্গে নামিদামি কোচ ও ফুটবলারদের প্র্যাকটিক্যাল টিপস আছে। দেশি ফরোয়ার্ডদের দক্ষতা বাড়ানোর দুর্দান্ত সুযোগ এটা।’ ক্লাব ট্রেনিং চলতে থাকলেও এই পর্তুগিজ কোচ ফুটবলারদের মোবাইলে বিভিন্ন ভিডিও পাঠান, যেটা দেখে তাঁরা শিখতে পারেন। কিন্তু নির্দিষ্ট ট্রেনিংয়ের বাইরে ওসব ভিডিও দেখে ফুটবলাররা কতটা কী শেখে সে নিয়ে মারিওর যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

আবাহনীর এই কোচের চোখে স্থানীয় স্ট্রাইকারদের পিছিয়ে থাকার কয়েকটি কারণ আছে, ‘স্থানীয় লিগে দেশি স্ট্রাইকারদের খেলার সুযোগ খুব কম। এতে করে তার গোলের অভ্যাস তৈরি হয় না। আরেকটি সমস্যা হলো এখানকার খেলোয়াড়রা অনেক দেরিতে ফুটবল শুরু করে। তাই যে জিনিসটা তার ১০ বছরে শেখা উচিত সেটা শেখে হয়তো ১৫ বছরে গিয়ে। তাই একজন ফরোয়ার্ডের টেকনিক্যাল ডেভেলপমেন্টও ঠিকঠাক হয় না ছোটবেলা থেকে।’ এখানে ইউরোপের ফুটবল-কালচার নেই, একাডেমি ব্যবস্থাও নেই। তাই একটি বাচ্চা শৈশব-উপযোগী ফুটবল কোচিং মেথডে বড় হয় না। মাঠে-ঘাটে খেলতে খেলতেই যতটুকু শেখে। হয়তো-বা অনেক শিক্ষাই ভুল। ভুল-শুদ্ধ নিয়েই বেড়ে ওঠা কিশোরটি ছোটে বড় স্বপ্নের পানে। অনেক গোল করবে, বড় স্ট্রাইকার হবে।

একসময় স্বপ্ন ধাক্কা খায়। শীর্ষ পর্যায়ে খেলতে গিয়ে দেখেন বল কোনোভাবে জালে পাঠাতে পারছেন না। বক্সের ভেতর থেকে মারলেও বল থাকছে না পোস্টে! আরো নানা সমস্যায় গোল আটকে যাচ্ছে! উপায়—বাড়তি পরিশ্রমে দক্ষতা বাড়ানো। এখনই সুযোগ বন্দি জীবনে নিজেকে সমৃদ্ধ করার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা