kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

রনি তালুকদারের ফ্রেন্ডস ডটকম

মাসুদ পারভেজ   

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রনি তালুকদারের ফ্রেন্ডস ডটকম

এখন ফ্রেন্ডস ডটকমে আছেন বিভিন্ন পেশায় থাকা ৯-১০ জন বন্ধু। তারা সবাই মিলে বিশেষ তহবিল গঠন করেছেন আগে। এরপর নিত্যপণ্য কিনে এক জায়গায় জড়োও করেছেন। বাছাই করা পরিবারের মধ্যে বিলিও করতে শুরু করেছেন।

তিনি নিজে একদিন পিকআপ নিয়ে বেরিয়েছিলেন। চাল-ডাল-আলু-লবণ-পেঁয়াজ-তেল-সাবানের ‘কম্বো প্যাক’ তুলে দিয়েছেন দরিদ্র ও অসহায় ২৫০ মানুষের হাতে। সে বিষয় নিয়ে ফোনে ধরতেই রুবেল হোসেন যেন কিছুটা বিব্রত, ‘আমি কিন্তু এমন বিশেষ কিছুই করিনি।’

এই পেসার বরং বিশেষ কিছু করা আরেক ক্রিকেটারকেই সামনে নিয়ে আসতে চাইলেন। এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উজ্জ্বল এক উদাহরণ হিসেবেই দাঁড় করালেন বাংলাদেশের হয়ে মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি খেলা রনি তালুকদারকে, ‘দেখুন, রনি কিন্তু জাতীয় দলেও খেলে না। আবার বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও  সে নেই। তার পরও যে উদ্যোগ সে নিয়েছে, সেটি অনেক বড়। আমাদের অনেক ক্রিকেটারেরও ওর কাছ থেকে শেখা উচিত। মানুষের পাশে এভাবেই দাঁড়াতে হয়।’

রনি যেভাবে অসহায় মানুষের পাশে আছেন, সেটি বলতে গিয়ে রুবেল ভীষণ আপ্লুতও, ‘ও আর ওর বন্ধুরা মিলে নারায়ণগঞ্জে ওদের এলাকায় ৫০০ পরিবারকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নিচ্ছে।’ পাগলা পূর্বপাড়ার বাসিন্দা রনি অবশ্য নিজ এলাকার বাইরেও ছড়িয়েছেন কর্মকাণ্ড। রসুলপুর, নন্দলাপুর, মায়ামাটি ও কামালপুরের বাছাই করা দরিদ্র পরিবারকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন তাঁর ‘প্রজেক্ট ফাইভ হানড্রেড’-এ।

ক্রিকেটের মতোই সেখানেও দলীয় প্রচেষ্টাই সাফল্যের পথ খুলেছে বলে মনে করেন রনি, ‘আগেই বলে রাখি, এখানে কিন্তু আমি একা নই। আমাদের একটি সংগঠন আছে। নাম ফ্রেন্ডস ডটকম। এর অধীনেই আমরা কাজ করছি।’ নামের মধ্যেই আছে বন্ধুত্বের দৃঢ় বন্ধনের ঘোষণাও। ছোট্ট করে এর জন্মের গল্পটিও জানিয়ে রাখা যাক, ‘বছর তিনেক আগে অসহায় মানুষদের জন্য কিছু করা যায় কি না, বন্ধুদের আড্ডায় এমন একটি আলোচনা তুলেছিলাম। তখন দেখি সবাই আমাকে সমর্থন দিল। এভাবেই তৈরি হয় আমাদের সংগঠন—ফ্রেন্ডস ডটকম। আমরা ঈদ বা পূজার সময় গরিব-দুঃখী মানুষদের নতুন কাপড় আর খাবারদাবার দিয়ে কাজ শুরু করি। এরপর শীতের সময় দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বলও সরবরাহ করেছি। আর এখন যখন এই খারাপ সময় এসে উপস্থিত, তখনো আমরা বসে থাকতে চাইনি।’

তাই আবার নেমে পড়েছেন। শুরুটা ২১ জন বন্ধু মিলে করলেও নানা কারণে অনেকেই ছিটকে পড়েছেন। এখন ফ্রেন্ডস ডটকমে আছেন বিভিন্ন পেশায় থাকা ৯-১০ জন বন্ধু। তারা সবাই মিলে বিশেষ তহবিল গঠন করেছেন আগে। এরপর নিত্যপণ্য কিনে এক জায়গায় জড়োও করেছেন। বাছাই করা পরিবারের মধ্যে বিলিও করতে শুরু করেছেন। এলাকায় তাদের উদ্যোগের কথা শুনে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন আরো অনেকেই। তাই কার্যক্রমে আরো গতিশীলতা আসবে বলেও আশা ২০১৫-র জুলাইতে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজের একমাত্র আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই ওপেনারের, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে প্রথমে তহবিল গড়েছি। আমরা দুই লাখ টাকা নিয়ে শুরু করেছি। আমাদের উদ্যোগের কথা শুনে এখন অনেকে অনুদানও দিতে শুরু করেছেন। আজকেও (মঙ্গলবার) একজন ১০০ কেজি ডাল দিয়ে গেছেন। এ রকম সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আশা করি আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।’

কী সেই লক্ষ্য? ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফরমার রনির নিজের মুখ থেকেই শুনে নেওয়া যাক, ‘এই সংকটে আমরা ৫০০ পরিবারকে সহায়তা করার একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। অসহায়-দরিদ্রদের খাবার দেব। সে রকম পরিবার বাছাইয়ের কাজও এগিয়ে গেছে অনেক দূর। কিছু কিছু পরিবারকে ইতিমধ্যে খাবার পৌঁছেও দেওয়া হয়েছে।’ একই সঙ্গে জনসমাগম যাতে না হয়, আছে সেই চিন্তাও। আবার খাবার বণ্টন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলাও নিশ্চিত করতে চান রনিরা। সে জন্যই, ‘শৃঙ্খলা রাখতে আমাদের ফ্রেন্ডস ডটকমের কার্ড দিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাছাই করা পরিবারগুলোকে। কার্ড যাদের আছে, খাবার তারাই পাবে। আবার মাথায়ও রাখতে হচ্ছে যে জনসমাগম করা যাবে না। তাই আমরা বাসায় পৌঁছে দেব বলে ঠিক করেছি। এই বাজে সময় না যাওয়া পর্যন্ত আমরা খাবার দিয়ে যেতে থাকব।’ এর বাইরেও রনির আরেকটি কাজ টেনেছে রুবেলকে, ‘ও কিন্তু খুবই সক্রিয়। ব্লিচিং পাউডার পানিতে মিশিয়ে জীবাণুনাশক বানিয়ে ও নিজেই ছিটাতে নেমে গেছে।’ পিঠে ক্যান নিয়ে সকাল-বিকাল দুই বেলা রনির জীবাণুনাশক ছিটানোর দৃশ্য যেন এই সময়ে স্বার্থপরতার জীবাণু নাশের প্রতীকী ছবিও!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা