kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

এক বছরেও অচেনা ‘অ্যাথলেট কমিশন’

অলিম্পিক গেমসের আগে আগে করার পরিকল্পনা থাকলেও এখন সবাই গৃহবন্দি। আসলে আমাদের কাজটা অনেকের কাছে পরিষ্কার নয়। জোবেরা রহমান লিনু কমিশন প্রধান

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : এই এপ্রিলে বাংলাদেশের ‘অ্যাথলেট কমিশনের’ বয়স হবে এক বছর। কিন্তু এর কী কাজ কিংবা কিভাবে এ কমিশন অ্যাথলেটদের উপকারে আসতে পারে, সেটাই জানেন না বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) বিশেষ এক কমিটি হলো ‘অ্যাথলেট কমিশন’, যা শুধু অ্যাথলেটদের নিয়েই গঠিত। খেলোয়াড়দের মধ্যে তাঁরা অলিম্পিক মুভমেন্ট জাগিয়ে রাখার কাজ করে। অ্যাথলেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের অ্যাথলেটদের ভালো-মন্দ, সুযোগ-সুবিধাগুলো দেখার কাজ করে এ কমিশন। তারা বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রয়োজনে পরামর্শ দেবে আইওসিকে। অ্যাথলেটদের জায়গা থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ এ কমিশন। তাই আইওসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোতেও আছে স্থানীয় এক অ্যাথলেট কমিশন। অন্যান্য দেশে অনেক আগে শুরু হলেও গত বছর এপ্রিলে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) গঠন করে অ্যাথলেট কমিশন। সাবেক টেবিল টেনিস তারকা জোবেরা রহমান লিনুকে প্রধান করে যাত্রা শুরু হয় ছয় সদস্যের কমিশনের। সেই যাত্রার খবর সবাই জেনেছিল তবে এক বছরের যাত্রাপথে সে রকম কোনো খবর আর হয়নি। কমিশনের চেয়ারম্যান জোবেরা রহমান লিনুর ইচ্ছা ছিল সব ফেডারেশনে গিয়ে সভা করার, ‘আমাদের একটা পরিকল্পনা ছিল সব ফেডারেশনে গিয়ে সভা করে কমিশনের খবরটা অ্যাথলেটদের জানানো। আমাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তাদের ধারণা দেওয়া। গঠনের পরপরই এসএ গেমস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় সেটা হয়ে ওঠেনি। অলিম্পিক গেমসের আগে আগে করার পরিকল্পনা থাকলেও এখন সবাই গৃহবন্দি। আসলে আমাদের কাজটা অনেকের কাছে পরিষ্কার নয়।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে দেশের সব খেলাধুলা এখন বন্ধ। অ্যাথলেটরাও ঘরবন্দি। এ সময়ে কি কিছু করা যায়? জোবেরা রহমান লিনুর জবাব, ‘না। আমাদের কাজ হলো অ্যাথলেটদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো দেখা। যেমন ধরুন, যেকোনো ডিসিপ্লিনের একজন সেরা অ্যাথলেট অর্থিক সংকটের কারণে তার রানিং শু কিনতে পারছে না। খবরটা পেলে আমরা এগিয়ে যাব। অথবা কোনো মেয়ে অ্যাথলেট অন্য রকম সমস্যায় পড়েছে, তার পাশেও আমরা দাঁড়াব। এসএ গেমসের ক্যাম্পে একটা মেয়ের বেলায় সে রকম হয়েছিল এবং কমিশন সেখানে ভূমিকা রেখেছিল। পরে সেই মেয়েকে গেমসের দলেও নিতে হয়েছিল।’

এ দেশে মেয়ে অ্যাথলেটরা নীরবে লাঞ্ছনা সহ্য করে যায়। মানসম্মান এবং কর্মকর্তাদের ভয়ে বেশির ভাগই মুখ খোলার সাহস পায় না। খেলোয়াড়দের জন্য নিজ নিজ ফেডারেশন থাকলেও অনেক সময় তারা খেলোয়াড়দের স্বার্থে ইতিবাচক থাকে না। কিছু ক্ষেত্রে অ্যাথলেটদের ন্যূনতম পাওনা ও সম্মানটুকুও দিতে চায় না। কখনো বা ফেডারেশন কর্মকর্তারাই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ান। এমন পরিস্থিতি হরহামেশাই হয় এখানে। তাই উন্নত বিশ্বের তুলনায় এখানে কাজের সুযোগও বেশি অ্যাথলেট কমিশনের। কমিশনের আরেক সদস্য কৃতী শ্যুটার শাকিল আহমেদ দাবি করছেন, ‘এসএ গেমসের আগে আমরা বিভিন্ন ট্রেনিং ক্যাম্পে ঘুরেছি এবং অ্যাথলেটদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বিওএকে জানিয়েছি। ঠিক যা তাদের প্রাপ্য সেটা পাচ্ছে কি না, সেটাই কমিশন ঘুরে ঘুরে দেখেছিল। আমাদের কাজগুলো অনেক গোপনে করা হয়। বিশেষ করে ফেডারেশন কর্তারা জড়িত থাকলে তাঁদেরকে এড়িয়ে।’ তাদের সুবিধা হলো কোনো ক্রীড়া ফেডারেশনের কাছে দায়বদ্ধ নয় এ কমিশন। তারা সমস্যার কথা জানাবে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে, এরপর তারাই খুঁজে নেবে সমাধানের পথ।

লিনু, শাকিল ছাড়াও এ কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন সাবেক তারকা ফুটবলার আব্দুল গাফফার, সাফের সোনাজয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা, অলিম্পিয়ান গলফার সিদ্দিকুর রহমান ও স্প্রিন্টার শিরিন আক্তার। কমিশনের সবাই কীর্তিমান অ্যাথলেট সুবাদে তাঁদের যোগাযোগ ভালো এবং গ্রহণযোগ্যতাও আছে। কমিশন চেয়ারম্যান মনে করেন, ‘আমাদের কমিশনের অনেক কিছু করার আছে। অনেক সমস্যার মধ্যেই আমাদের অ্যাথলেটদের সামনে এগিয়ে যেতে হয়। কমিশনের কল্যাণে তাদের কিছু সমস্যা লাঘব হলে আমাদের খুব ভালো লাগবে। করোনার দুর্ভোগ দূর হলেই আমরা চেষ্টা করব এই কমিশনের খবরটা অ্যাথলেটদের কাছে পৌঁছে দিতে।’

অ্যাথলেটদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এ কমিশন। কর্মকর্তাদের চোখ-রাঙানি উপেক্ষা করা কিংবা অন্য সংকট থেকে নিজেকে বের করে আনার একটা উপায় বাতলে দেবে অ্যাথলেট কমিশন। ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার নয় এ কমিশন। ইতিমধ্যে আইওসির অ্যাথলেট কমিশন পাঠিয়েছে ১০ হাজার ডলার। তার মানে তারাও অ্যাথলেটদের সংকট মোচনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। অ্যাথলেট কমিশন হয়ে উঠতে পারে অ্যাথলেটদের সত্যিকারের বন্ধু।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা