kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

গ্যারেজে মানসের টেবিল

সময়টা নষ্ট করতে চাইছিলেন না মানস, ‘সব কিছু আবার নিশ্চয়ই শুরু হবে। তো এই সময়টায় একেবারে বসে থাকলে তো গতি, ফিটনেস সব হারিয়ে ফেলব।’

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্যারেজে মানসের টেবিল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফেসবুকে মানস চৌধুরীর দেওয়া সেলফিটা দেখে অবাক হতে হয়। এই অবরুদ্ধ সময়ে সঙ্গী জোটালেন তিনি কোত্থেকে! ছবিতে তাঁর সঙ্গে দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রামেরই আরো দুই টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জাহিদ ও বিভু বিশ্বাসকে। দুজনই মানসের কাছে খেলা শিখেছেন। তেমনদের একজন সজীব তো গত ফেডারেশন কাপ ফাইনালে মানসকে হারিয়ে শিরোপাও জিতেছেন। ছবিতে তিনি নেই, কিন্তু ফোনে মানস জানালেন সজীবও নিয়মিতই আসেন তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের গ্যারেজে, সেখানেই টেবিল পেতেছেন। করোনা আতঙ্কের এই সময়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা মেনেই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানালেন টেবিল টেনিসের বর্তমান নাম্বার ওয়ান।

কিন্তু সাদিয়া রহমান মৌ! নড়াইলের এই খেলোয়াড়ও যে আছেন ছবিতে। মেয়েদের টেবিল টেনিসের শীর্ষস্থানীয় এই খেলোয়াড়কেও ধরা গেল ফোনে। জানা গেল চট্টগ্রামে একরকম আটকা পড়েছেন তিনি, ‘এখানে মামার বাসায় বেড়াতে এসেছিলাম মাকে নিয়ে। মা কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ডাক্তার দেখাই। ডাক্তার বেশ কিছু চেকআপও দেন। এর মধ্যেই তো সব কিছু বন্ধ হয়ে গেল। এখন ফেরাও যাচ্ছে না। এদিকে বাসায় বসে বসে আমারও সময় কাটে না। মানস আংকেলের বাসার গ্রাউন্ড ফ্লোরে তিনি প্র্যাকটিস করেন জানতাম। সাহস করে একদিন ওখানেই হাজির হলাম। খেলা শুরুর পর মনে হলো প্র্যাকটিসটা চালিয়েই যাই। বাসার সবাই অবশ্য একটু ভয় পাচ্ছে। আমি বের হওয়ার সময় জামাকাপড় ও জুতায় ব্লিচিং পাউডার স্প্রে করি একবার। ওখানে যাওয়ার পর মানস আংকেল আবার করেন। খেলার সময়ও যতটা সম্ভব সতর্ক থাকার চেষ্টা করছি।’

টিটিতে পাঁচবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মানস পেশায় ডেন্টিস্ট। এই সময়টায় চেম্বারও কম খোলা হচ্ছে তাঁর, সপ্তাহে তিন দিন সন্ধ্যায়। অন্য সময় হলে হলে চেম্বার, খেলা, গান—এই তিনের জন্য আলাদা আলাদা সময় বের করাটা কঠিনই হয়ে যায় তাঁর। প্রয়াত প্রবাল চৌধুরীর ছেলে বাবার গানের নেশাটাও যে পেয়েছেন। গানের জগতে সবাই অবশ্য তাঁকে রঞ্জন চৌধুরী নামেই চেনেন। এখন গানের রেকর্ডিংও বন্ধ। বন্ধ খেলাও।

আজই তো বাংলাদেশ গেমসের উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। গত মাসেই হওয়ার কথা ছিল টেবিল টেনিস লিগ। করোনার থাবায় সব স্থগিত হয়ে গেছে। কিন্তু বাসায় এই সময়ে বাড়তি অনুশীলনের সুযোগটা নষ্ট করতে চাইছিলেন না মানস, ‘সব কিছু আবার নিশ্চয়ই শুরু হবে। তো এই সময়টায় একেবারে বসে থাকলে তো গতি, ফিটনেস সব হারিয়ে ফেলব। তাই এক বেলা করে হলেও অনুশীলন করছি। গ্যারেজে এখন বাড়তি লোকজনের আনাগোনাও নেই। জাহিদ, সজীব, বিভুরা আসছে। সবাইই জানি, এ সময় কতটা সতর্ক থাকতে হবে। টেবিল, র‌্যাকেট, রাবার জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করছি। দুজন দুজন করে খেলছি। আমার মনে হচ্ছে না তাতে তেমন সমস্যা হবে। মৌ আসছে নিয়মিত। যথাসম্ভব সতর্ক থেকে সময়টা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি আমরা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা