kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

টিভি পর্দার ক্রিকেট শিক্ষা

মাসুদ পারভেজ   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টিভি পর্দার ক্রিকেট শিক্ষা

আট পর্বের ডকুমেন্টারির প্রতিটির স্থায়িত্ব ৫০ মিনিট করে। সব মিলিয়ে ৪০০ মিনিট, যা সাত ঘণ্টার কাছাকাছি। করোনাকালে যা রয়েসয়ে দেখার অফুরন্ত অবসরও আছে। অনেক ক্রিকেটানুরাগীই যা কয়েক দিনে দেখে শেষ করছেন। কিন্তু তামিম ইকবালের যে পুরোটা দেখার তরই সইছিল না। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তাই সেটি দেখেছেন এক বসাতেই। সোফার এক কোণ বেছে নিয়ে টিভি পর্দায় তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করেছেন অন ডিমান্ড ভিডিও স্ট্রিমিং সার্ভিস অ্যামাজন প্রাইমে রিলিজ হওয়া ক্রিকেট ডকুমেন্টারির পুরোটাই, ‘ইন্টারেস্টিং কোনো কিছু পেলে আমি একবারেই শেষ করে নিই। অনেকে হয়তো টেস্ট ম্যাচের মতো করে খেলবে। পাঁচ-সাত দিন, আট দিন ধরে দেখবে। আমি আবার অন্য রকম। দেখতে শুরু করলে আমি থামি না। একবারেই দেখে শেষ করে ফেলি।’

তামিমের একবারেই দেখে ফেলা ডকুমেন্টারির প্রতিটা পর্ব অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্দরমহলের এক্সক্লুসিভ সব ফুটেজে ঠাসা। কেপ টাউনের স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের ইংলিশ সামারে এসে অ্যাশেজ ধরে রাখা পর্যন্ত ১৮ মাসের যাত্রায় দলটির আনন্দ-উত্তেজনা, হতাশা-বেদনা, সাফল্য-ব্যর্থতা ক্যামেরাবন্দি করতে অজি ড্রেসিংরুমে ঘুরে বেরিয়েছেন পরিচালক অ্যাড্রিয়ান ব্রাউন এবং তাঁর সহকর্মীরা। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ম্যানচেস্টারের ড্রেসিংরুমে উসমান খাজার কান্নায় ভেঙে পড়ার মতো আবেগের স্রোতে বিলীন হওয়া থেকে শুরু করে ক্ষোভের উদিগরণ, নিজেদের ভুবনে উচ্ছ্বাসের জলোচ্ছ্বাস কিংবা বিষণ্নতায় মলিন ক্রিকেটারদের চেহারা—কী নেই ‘দ্য টেস্ট : এ নিউ এরা ফর অস্ট্রেলিয়া’স টিম’ ডকুমেন্টারিতে। তামিম জানতেন যে এ রকম কিছু একটা তৈরি হচ্ছে। তাই এটির জন্য কাক প্রতীক্ষাও ছিল। যদিও আরো বেশি কিছু প্রত্যাশা ছিল তাঁর, ‘ভালো লেগেছে। তবে যেভাবে এটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম, তাতে আশা করেছিলাম আরো ভালো হবে।’ 

তবে যতটুকুই ভালো হয়েছে, তার মধ্যেও ক্রিকেট শিক্ষার অনেক উপকরণই খুঁজে পেয়েছেন বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি ওপেনার। ‘দ্য টেস্ট’-এর খবর জানেন টেস্ট অধিনায়ক মমিনুল হকও। তবে সেটি দেখা আরো কিছুদিন পিছিয়ে দিয়েছেন এ জন্য, ‘সারা দিন তো ক্রিকেট নিয়েই থাকি। তাই এই ছুটি আরো বেশি ক্রিকেটময় করে তুলতে চাই না।’ তাই বলে টিভি পর্দার ক্রিকেট শিক্ষা থেমে নেই তাঁরও। দেখবেন না, দেখবেন না করেও দেখে ফেলেছেন অ্যামাজন প্রাইমের আরেক সিরিজ, ‘দ্য ইনসাইড এজ’। আইপিএলের আড়ালে ফিক্সিংয়ের কালো থাবায় কলঙ্কিত ক্রিকেটই যে সিরিজের মূল উপজীব্য। প্রথম মৌসুমে দারুণ জনপ্রিয়তা পাওয়ায় বেড়েছে এই সিরিজের পরিধিও। দ্বিতীয় মৌসুমেও এর রিভিউ মন্দ নয়। মমিনুলের দেখা বাদ নেই কোনো পর্বই, ‘দ্য টেস্টের কথা শুনেছি। দেখা হয়নি এখনো। অনেকে দেখছে শুনেছি। তবে আমি আরেকটি দেখেছি, ভারতের আইপিএল নিয়ে। দ্য ইনসাইড এজ। এর দুই সিজনই দেখা হয়ে গেছে।’

দেখে নিজেকে ক্রিকেট শিক্ষায় আরো সমৃদ্ধ করতে পেরেছেন বলেও মনে করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, ‘ভালো জিনিস যেমন আছে, তেমনি খারাপও। সাবধান হওয়ার শিক্ষা আছে এই সিরিজে। আবার আছে নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার শিক্ষাও। টি-টোয়েন্টিতে ভারত কিভাবে এগিয়েছে, সেই বার্তাও কিন্তু এই সিরিজে আছে। ভালো-খারাপ, দুই জিনিসই আছে। ফিক্সিংও আছে। আবার খেলোয়াড়রা কিভাবে খেলাটি ইমপ্রুভ করেছে এবং সে জন্য কী রকম খাটুনি খেটেছে, তাও আছে। পাশাপাশি ট্যাকটিক্যাল কিছু জিনিসও শেখার মতো।’

আপাতত ব্যাট-বল নিয়ে নেমে গিয়ে ক্রিকেটীয় দক্ষতা বাড়ানোর উপায় নেই। তবে ঘরে থেকে মানসিকতায় বড়সড় পরিবর্তন আনার অনুপ্রেরণার খোঁজ নেওয়ার সুযোগ তো আছেই। তামিম টিভি পর্দায় দেখা ‘দ্য টেস্ট’ থেকে তা খুঁজে নিতে পেরেছেন বলেই মনে হলো তাঁর কথায়, ‘অবশ্যই অনুপ্রেরণাদায়ক অনেক কিছুই ছিল। যখন ওরা ম্যাচ জেতে বা একজন আউট হয়, যে পরিমাণ আফসোস করে বা যে পরিমাণ খুশি হয় বা সেলিব্রেট করে ওরা, এগুলো অবশ্যই অনুপ্রেরণাদায়ক। প্রতিটা জিনিসই ওদের কাছে কতটা মূল্যবান, তা বোঝা যায়। অনেক সময় এত বেশি সাফল্য থাকে যে তখন হয়তো সাফল্যকে সাফল্য মনে হয় না। তার পরও ছোটখাটো জিনিসকেও যে ওরা এত বড়ভাবে উপভোগ করে, এটা একেবারেই অন্য রকম। এতটুকু বলতে পারি যে আমাদের দলের কালচারের চেয়ে অনেক আলাদা।’

এবার নিশ্চয়ই নিজেদের ড্রেসিংরুমকেও এই ‘আলাদা কালচার’-এ অভ্যন্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করবেন ওয়ানডে অধিনায়ক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা