kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

গানে সময় কাটছে দীপুর

তায়কোয়ান্দো ও গানকে একসঙ্গে মেলানোটা কঠিন। দীপু মিলিয়েছেন। ছোটবেলায় বড় ভাইয়ের গিটার, কর্ডের খাতা চুরি করে নিয়ে তাঁর একটু একটু করে বাজানো শেখা। রাঙামাটির পাহাড়, নদীর সুরেলা প্রকৃতি ছেড়ে ২০১০ সালে যখন সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন, তখনো সেই সুর ছেড়ে যায়নি তাঁকে।

শাহজাহান কবির   

৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গানে সময় কাটছে দীপুর

‘একা বাঁচতে শেখো প্রিয়/তোমার নামে শিরনি দিয়েছি তারার মাজারে/আশা রাখি সুস্থ হয়ে উঠবে তাড়াতাড়ি/আমার নিরাগ লাগে ভারি/কবে ছোঁবো সাদা শাড়ি’—ক্যান্টনমেন্টে হোস্টেলের বারান্দায় গিটার হাতে দীপু চাকমার গাওয়া এ গান হৃদয় ছুঁয়ে যায় সবার। দীপুকে চিনতে পারছেন তো, গত এসএ গেমসে বাংলাদেশের ১৯ সোনার প্রথমটি এসেছিল যাঁর হাত ধরে সেই তায়কোয়ান্দো তারকা।

তায়কোয়ান্দো ও গানকে একসঙ্গে মেলানোটা কঠিন। দীপু মিলিয়েছেন। ছোটবেলায় বড় ভাইয়ের গিটার, কর্ডের খাতা চুরি করে নিয়ে তাঁর একটু একটু করে বাজানো শেখা। রাঙামাটির পাহাড়, নদীর সুরেলা প্রকৃতি ছেড়ে ২০১০ সালে যখন সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন, তখনো সেই সুর ছেড়ে যায়নি তাঁকে। তাই ওই সময়টায়ই সুযোগ করে নিয়ে ঢাকায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গিটার শেখা, গানের চর্চা। তা করতে করতেই ‘অগ্রপথিক’ নামে একটা ব্যান্ডে নাম লেখানো। সেই ছেলেটিই গত বছর এসএ গেমসে কোরিয়ান মার্শাল আর্ট তায়কোয়ান্দোতে দক্ষিণ এশিয়ার আর সব প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে জিতলেন সোনা।

সেই দীপু ব্যান্ডের সঙ্গেও যুক্ত! কিভাবে সম্ভব? দীপুর কাছে কিন্তু মোটেও অস্বাভাবিক কিছু না তা, ‘গান, খেলা দুটোই মনের ব্যাপার। মন সাড়া না দিলে খেলায় কিন্তু আপনার শরীর চলবে না। গানটাও পুরোপুরি মনের ব্যাপার। তাই আমার এ দুটো নিয়ে কখনো সমস্যা হয়নি, অন্তত মনের দিক থেকে। চাকরি, অনুশীলনের কারণে হয়তো গানে সেভাবে আর সময় দেওয়া হয়নি। যে কারণে ব্যান্ডেও আর নেই। কিন্তু গানের প্রতি ভালোবাসা কমে না।’ এখনো বাড়ি ফিরলে তাই পাহাড়, নদী ছুঁয়ে বন্ধুদের সঙ্গে তুমুল আড্ডা হয়, আর হয় গান।

করোনার কারণে ছুটি পেয়েও সেই বাড়ি যাওয়া হচ্ছে না দীপুর। কিন্তু সংক্রমণ ঠেকাতে বাহিনী থেকেই অনুশীলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দীপুর অবসরের সঙ্গী তাই গিটার। মাঝেমধ্যে সেসব কোনো মুহূর্তের ভিডিও ফেসবুকেও তুলে দেন।

তায়কোয়ান্দোতে দীপু অবশ্য সোনা জিতেছেন ‘পুমসে’ ইভেন্টে। আগে মারামারির ইভেন্ট ‘কেরোগি’ই করতেন। লিগামেন্টে চোট পাওয়ার পর তা বাদ দিয়ে ডেমোনেস্ট্রেশনের ইভেন্ট পুমসেই করছেন। সরাসরি মারামারির বদলে অদৃশ্য প্রতিপক্ষকে সামনে রেখে করা এ ইভেন্টটাও শৈল্পিক। গানের মানুষ দীপুর সঙ্গে তা যায়ও ভীষণ। দীপুর দুই ভুবনের দুটি স্বপ্ন ছিল, ‘গানে আর সব শিল্পীর মতো স্টেজ মাতানোর স্বপ্ন ছিল ভীষণ। তায়কোয়ান্দো নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম দেশকে সোনা এনে দেওয়ার। ২০১০-এ সেনাবাহিনীতে ঢুকেই দেখেছি কলম্বো গেমসে সোনা জেতা মিজান ভাইকে। তাঁর সেই কীর্তি ছোঁয়ার স্বপ্নটা অবশেষে পূরণ হয়েছে আমার নেপালে। গান নিয়ে স্বপ্নটা মনেই আছে। সবার সব স্বপ্ন তো পূরণ হয় না।’ গিটারের টিউনে দীপুর সেই না পাওয়াই হয়তো বাজে বেশি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা