kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

তিন অধিনায়কের সারা বেলা

৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তিন অধিনায়কের সারা বেলা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘কাজ না করলে ভাত বন্ধ’—স্ত্রীর এমন হুঁশিয়ারি গৃহকর্মে নামিয়েছে কামরুল ইসলামকে। বাংলাদেশের হয়ে সাতটি টেস্ট খেলা এ পেসার তাঁর ঘর মোছার ভিডিও ফেসবুকেও দিয়েছেন। না জানি এমন আরো কত ক্রিকেটারকে ঘরে থাকার সময়ে ঘরের কাজে লেগে যাওয়ার চাপে চিড়ে-চ্যাপ্টা হতে হচ্ছে!

তামিম ইকবাল অবশ্য হাসতে হাসতেই আশ্বস্ত করলেন যে তাঁর স্ত্রী অতটা নির্দয় নন। অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের কেটে যাওয়া সারা বেলায় তাই অন্তত গৃহকর্মে নিয়োজিত হওয়ার চাপ নেই। সেই চাপ নেই টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহরও। একই ঘরে যখন স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে আছেন মা-বাবা এবং গৃহকর্মীও, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই ঝড় তাঁর ওপর আসার কথা নয়। আর সাধারণ ছুটি শুরুর আগেই নিজের শহর কক্সবাজারে ফিরে যাওয়া টেস্ট অধিনায়ক মমিনুল হকের দিনলিপিতেও এই ‘নিপীড়ন’ যোগ না হওয়ার অনাবিল আনন্দ আছে।

তাই বলে যে তাঁদের কাছে একদমই বাড়তি কোনো চাহিদা নেই পরিবারের, বাস্তবতা এত সহজ-সরলও নয়। ঘরের কাজ থেকে না হয় নিষ্কৃতি মিলছে। তাই বলে চুলার কাছে যাওয়ার সম্ভাব্য বিড়ম্বনা এড়ানোর নানা চেষ্টাও ঘরে থেকেই নিত্য করে যেতে হচ্ছে তামিমকে। গতকাল দুপুরে টেলিফোনে জানাচ্ছিলেন সেটিই, ‘আমার বউ খুব চাচ্ছে যে তাঁকে আমি রান্না করে কিছু খাওয়াই। আর আমি প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাহানা করে বেঁচে যাচ্ছি।’ তবে তাঁর স্ত্রী আয়েশা ইকবালের জন্য আপাতত সান্ত্বনা বলতে এটুকুই, ‘একদিন কফি বানিয়ে খাইয়েছি।’

মাহমুদ উল্লাহর অবশ্য রান্নায় আগ্রহ আছে। একই সঙ্গে আছে আত্মবিশ্বাসহীনতাও, ‘আমি চিন্তা করছি রান্নাটা একদিন ট্রাই করব। জানি না, ওরা খেতে পারবে কি পারবে না!’ অবশ্য ব্যাটিংয়ের বাজে সময় পেছনে ফেলতে নিজের ওপর বিশ্বাস ফিরে পেতে হয় যেমন, তেমনি অতীত অভিজ্ঞতা থেকে রান্নায়ও দক্ষতা দেখাতে চান তিনি, ‘ব্যাচেলর লাইফে যখন আমি আর আমার ভাইয়া এক বাসায় থাকতাম, তখন রান্না করতাম। ভাইয়া অফিস করতেন, রান্নার কাজে লেগে যেতাম আমি। তাই রান্নার অভিজ্ঞতা যে একদম নেই, তাও নয়। আশা করি পারব।’ তবে মমিনুলের রান্না আপাতত সীমাবদ্ধ শুধু ‘চা বানানো’র মধ্যেই! সেটিও আবার নাকি ইউটিউব দেখে! অবশ্য একটু ব্যতিক্রমী চা বানানোর জন্যই নাকি তাঁকে ইউটিউবের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল, ‘সবচেয়ে ভালো পারি চা বানাতে। ইউটিউবে দেখছিলাম ভারতীয়রা কিভাবে মাসালা টি বানায়। চেষ্টাও করেছি, খারাপ হয়নি, মোটামুটি ভালোই হয়েছে।’

ঘরে থাকার সময়ে নিজেদের শরীরটাও ভালো রাখার চেষ্টা আছে তিন অধিনায়কের। গতকাল দুপুরে যখন কথা হয়, এর একটু আগের সময়টি মাহমুদ উল্লাহর কেটেছে এভাবে, ‘ট্রেডমিলে দৌড়ালাম। অ্যাবসের কাজও করলাম।’ ট্রেডমিলে দৌড়ানো তামিমেরও প্রতিদিনের রুটিন এখন। তবে মমিনুলের সে উপায় নেই, ‘এমন যে হবে কে জানত! এখন মনে হচ্ছে একটি ট্রেডমিল কিনে রাখলে ভালোই হতো।’ সময়ও এমন নয় যে কক্সবাজারের ফাঁকা সমুদ্রসৈকতে গিয়ে দৌড়ে আসবেন। তাহলে ফিটনেস ঠিক রাখার কাজ করছেন কী করে? ‘কিছু ওয়েট (ডাম্বেল) কিনে রাখা ছিল, সেগুলো দিয়েই কাজ সারছি।’

অবশ্য ফিটনেস নিয়ে কাজও কয়েক ঘণ্টার বেশি নয়। এর বাইরেও অফুরন্ত অবসর কাটছে কিভাবে? বই পড়া একটা বিকল্প; কিন্তু এঁদের কারোরই পাঠাভ্যাস তেমন নেই। তবে সিনেমা দেখার ঝোঁক আছে তামিমের, ‘যখনই সময় পাই, সিনেমা দেখতে থাকি। নেটফ্লিক্স ও অ্যামাজন প্রাইমে যা আসতে থাকে, সবই দেখি।’ পুরনো পাঠাভ্যাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অবশ্য এই সময়ে আছে মাহমুদ উল্লাহর, ‘আমি কিন্তু আগে বই পড়তাম। বিশেষ করে মাসুদ রানা সিরিজ আমাকে খুব টানত। এসএসসি বা এইচএসসির সময় খুব পড়েছি। এরপর বই পড়ার অভ্যাস একদমই চলে গিয়েছিল। এখন টুকটাক পড়া হচ্ছে। এমনকি এখন আমি বাচ্চার বইও পড়ছি।’

বাচ্চার সঙ্গে কাটছে দিনের একটি সিংহভাগ সময়ও, ‘ওর হোমওয়ার্ক করানোর চেষ্টা করছি। জানি না ওর সঙ্গে কত বছর পর ড্রয়িং করলাম। কালার করছিল। আমি একটা ক্যাসলের ছবিতে কালার করলাম।’ সেই সঙ্গে নিজের ছেলের সঙ্গে চলছে খেলাও, ‘ঘরে থেকেই যতটুকু খেলা যায় আরকি! একটুখানি ক্রিকেট বা ফুটবল খেলছি ওর সঙ্গে।’ অন্যদের সঙ্গে বসে দেখা হয়ে যাচ্ছে কিছু সিনেমাও, ‘মুভি খুব একটা দেখা হয় না। বাচ্চা আর আব্বু-আম্মু সেদিন শাওলিন সকার দেখছিল। ওদের সঙ্গে বসে আমারও দেখা হয়ে গেল। মজাই লেগেছে।’

যদিও এমন ছুটি তামিমকে ঠিক মজার ভুবনে নিয়ে যেতে পারছে না, ‘ ছুটি কে না চায়? কিন্তু এটি তো ছুটি নয়। আমার কাছে ছুটি মানেই হলো পরিবারকে নিয়ে দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়া। অথবা রেস্টুরেন্টে খাওয়া। বন্ধুদের বাসায় যাওয়া। মূলত ছুটি কাটানো বলতে আমি পরিবারকে নিয়ে দেশের বাইরে যাওয়াকেই বুঝি। যদি বাসায়ই বসে থাকা লাগে, তাহলে সেটির মূল্য আমার কাছে কম। এটি তাই ছুটির মধ্যে পড়ে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা