kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৬  মে ২০২০। ২ শাওয়াল ১৪৪১

আমার লড়াই নিজের সঙ্গে

খেলা বন্ধ হওয়ার আগে এএফসি কাপে পেনাল্টি আটকে আবার শিরোনাম হয়েছেন আনিসুর রহমান জিকো। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে গৃহবন্দি হয়েও থেমে নেই তাঁর ট্রেনিং। হোয়াটসঅ্যাপে ট্রেনারের পাঠানো সূচি মেনে নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করেন। বসুন্ধরা কিংসের এ গোলরক্ষকের লক্ষ্য জাতীয় দলের ১ নম্বর গোলরক্ষক হয়ে ওঠা। তাই স্থগিত হয়ে যাওয়া এ ফুটবল মৌসুমটা তাঁর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ রকম নানা ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এই গোলরক্ষক কথা বলেছেন সনৎ বাবলার সঙ্গে।

৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আমার লড়াই নিজের সঙ্গে

প্রশ্ন : করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগে দিনকাল কেমন কাটছে?

আনিসুর রহমান : ভাইরাসমুক্ত থাকতে বাড়িতেই থাকি। বাইরে কোথাও যাওয়া হয় না। খাওয়াদাওয়া আর ঘুমিয়েই দিন কাটছে।

প্রশ্ন : তাহলে ফিটনেস...

আনিসুর : ফিটনেস ধরে রাখার কাজও করি, তবে ক্লাব ট্রেনিংয়ে থাকলে যেভাবে হয় বাড়িতে এসে তো সেভাবে সম্ভব হয় না। ক্লাবের স্প্যানিশ ট্রেনারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। তাঁর দেওয়া শিডিউল মেনে ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা করি। জিমে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে কী করতে হবে, সেটাও তিনি বলে দিয়েছেন। ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করি, এরপর বাড়ির পাশে রেললাইনে গিয়ে কিছুক্ষণ দৌড়ঝাঁপ করি।

প্রশ্ন : চট্টগ্রাম-কক্সবাজার যে রেললাইন তৈরি হচ্ছে সেটির কথাই বলছেন নিশ্চয়ই। কিন্তু আপনার বাড়ি তো চকরিয়ায়।

আনিসুর : হ্যাঁ। রেললাইনটা আমাদের পাশ দিয়েই যাচ্ছে। একই এলাকায় জাতীয় দলের তিন ফুটবলার থাকি আমরা। ডিফেন্ডার সুশান্ত থাকে ডুলাহাজারা হাসপাতালের ভেতর, তার পাশে থাকে উইঙ্গার ইব্রাহিম। তাদের থেকে একটু দূরে আমার বাড়ি।

প্রশ্ন : বাড়িতে বসে অলস সময় কাটাতে কেমন লাগছে?

আনিসুর : এটা কারো ভালো লাগার কথা নয়। এখন আমাদের তুমুল ফুটবল মৌসুম চলার কথা। শুধু খেলা নয়, মানুষের জীবনযাত্রাই থমকে গেছে। এভাবে ঘরবন্দি হয়ে যেমন থাকা যায় না, তেমনি মানুষের বেঁচে থাকার জন্যও তো কাজকর্ম করতে হবে। এক ভাইরাসের সংক্রমণে সবাই আতঙ্কগ্রস্ত; কিন্তু এভাবে ঘরে বসে থেকে কি মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব! পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, কেউ জানে না।

প্রশ্ন : স্বাভাবিক অবস্থায় এখন আপনি প্রিমিয়ার লিগ খেলতেন। এএফসি কাপে দারুণ শুরু করেছিলেন টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে তিনটি পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে। এএফসির সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন।

আনিসুর : এএফসির টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো খেলেছি আমি। প্রথম ম্যাচ ভালো খেলার পর চেয়েছিলাম পরের ম্যাচগুলোতে এই পারফরম্যান্সের ধারা বজায় রাখতে। সব সময় একটা ভালো ম্যাচের প্রভাব থাকে পরের ম্যাচগুলোতে। কিন্তু পরে সব খেলাই বন্ধ হয়ে গেল।

প্রশ্ন : গত মৌসুমে স্বাধীনতা কাপের কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালে টাইব্রেকার সেভ করে আপনি ফাইনালে তুলে নিয়েছিলেন বসুন্ধরা কিংসকে। এরপর এএফসি কাপেও একই ম্যাজিক দেখিয়েছেন।

আনিসুর : আমি আগেও বলেছি, দেশের শীর্ষ লিগে খেলার আগেও কক্সবাজারে আমি টাইব্রেকার আটকেছি বিভিন্ন সময়। পেনাল্টি কিকের সময় একটা অন্য রকম আত্মবিশ্বাস কাজ করে আমার মধ্যে। চেষ্টা করি যে শট নেয় তার মনোভাব বোঝার, কারণ সে ওই সময় মানসিকভাবে খুব চাপে থাকে। তাকে গোল করতে হবে। প্রতিপক্ষ শ্যুটারের চাপ দেখে আমি নির্ভার থাকি, এরপর তাকে বুঝে ডাইভ দেওয়ার চেষ্টা করি। কখনো ঠিকঠাক হয়, কখনো হয় না।

প্রশ্ন : এএফসি কাপের ওই ম্যাচে কিংসের আরেক নায়ক চার গোল করা হার্নান বার্কোস। প্র্যাকটিসে নিশ্চয়ই এ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শটের মুখোমুখি হয়েছেন...

আনিসুর : সে (বার্কোস) আমাদের মান থেকে কতটা এগিয়ে, তা ওই একটা ম্যাচ খেলেই বুঝিয়ে দিয়েছে। গোল করার সব ধরনের কৌশল তার জানা আছে। আমি প্র্যাকটিসে তার শট আটকাতে পারিনি। শটে যে খুব জোর, তা নয়। প্লেসিং খুব ভালো। পেনাল্টি কিকগুলো সে এত নিখুঁত মারে, ওই দিকে ঝাঁপিয়েও নাগাল পাওয়া যায় না। প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় লেগে সে দলে যোগ হলে আমাদের ম্যাচ জিততে আর কোনো সমস্যা হবে না আশা করি।

প্রশ্ন : কিন্তু এএফসি কাপের ওই ম্যাচের পরপরই লিগে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে তিন গোলে এগিয়ে গিয়েও হেরে গেছে বসুন্ধরা কিংস। এর কারণ কী?

আনিসুর : ওই ম্যাচ হারাটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের অনেক ভুল ছিল ম্যাচে, বিশেষ করে ম্যান-মার্কিং ঠিকমতো হয়নি। রক্ষণভাগ এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। নইলে তিন গোলের লিড নিয়ে কোনো চ্যাম্পিয়ন দল হারতে পারে না। এটা আমাদের জন্য লজ্জার।

প্রশ্ন : আগেরবারের সঙ্গে তুলনা করলে এবার বসুন্ধরা কিংসের রক্ষণভাগ অনেক গোছানো এবং সবাই জাতীয় দলের ডিফেন্ডার। অথচ গত লিগে মোট ১৪ গোল খেয়েছিল কিংস আর এবার ছয় ম্যাচেই ৯ গোল হজম করেছে। কারণ কী?

আনিসুর : গতবার অবশ্য একজন বিদেশি ডিফেন্ডার ছিল, এবার সে নেই। এর পরও এখন যারা আছে, তারা সবাই ভালো ডিফেন্ডার; কিন্তু নিজেদের মধ্যে এখনো তালমিলটা হয়ে ওঠেনি। তা ছাড়া আরেকটা ব্যাপার মনে হয়, লিড নেওয়ার পর আমাদের মনঃসংযোগ কমে যায়। হালকা মেজাজে খেলতে থাকি আমরা। তখনই প্রতিপক্ষ সুযোগ নেয়। তা ছাড়া গত লিগে আমার ক্লিনশিট ছিল অনেক, এবার আমিও ভাগ্যকে যেন পাশে পাচ্ছি না।

প্রশ্ন : তবে এএফসি কাপের ওই ম্যাচটা তো টার্নিং পয়েন্ট হতে পারত।

আনিসুর : আগেও বলেছি, ভালো পারফরম্যান্সের ধারাটা পরের ম্যাচগুলোতে টেনে নিতে চেয়েছিলাম। খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর পারলাম না। নিজেকে নিয়েও একটা পরিকল্পনা ছিল। গত মৌসুমের মতো ভালো কিপিংয়ের ধারাটা বজায় রেখে জাতীয় দলে নিজেকে আরো যোগ্য করে তোলা।

প্রশ্ন : সেটা কি জাতীয় দলের ১ নম্বর গোলরক্ষক হওয়া?

আনিসুর : জাতীয় দলের স্কোয়াডে আমার চেয়ে সিনিয়র দুজন আছেন আশরাফুল রানা ভাই ও সোহেল ভাই। তাঁদের সঙ্গে আমার লড়াই নয়। লড়াই আমার নিজের সঙ্গে। নিজেকে ঘষেমেজে আরো নিখুঁত করে তোলা। জাতীয় দলের কোচ ডাকবেন তখনই যেন আমি সেরাটা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে পারি।

প্রশ্ন : জাতীয় দলে এখন ১ নম্বর গোলরক্ষক আশরাফুল রানা। তাঁর সঙ্গে নিজের পার্থক্য কী দেখেন?

আনিসুর : (হেসে) সেটা আমি কী করে বলব? যারা খেলা দেখে তারাই বলতে পারবে। সোহেল (শহীদুল আলম) ভাইয়ের উচ্চতা একটু বেশি আর আশরাফুল ভাইয়ের অভিজ্ঞতা বেশি। এই তো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা