kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৬  মে ২০২০। ২ শাওয়াল ১৪৪১

সঠিক বার্তার খোঁজে তামিম

সকালেই খবরে দেখছিলাম করোনা রোগী সন্দেহে একজনকে রাজপথে ফেলে গেছে তাঁর আত্মীয়রা। ওই এলাকার মানুষও তাঁর কাছে যাচ্ছে না। ব্যাপারটা খুবই কষ্টের। এটা ঠিক যে আমিও হয়তো পাশের ফ্ল্যাটের কেউ আক্রান্ত হয়েছে শুনলে খবর পাব। আমার ড্রাইভারও আক্রান্ত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আমাকে কী করতে হবে? এসব ব্যাপারে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে সঠিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া আর্থিক সাহায্য দেওয়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ’

৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সঠিক বার্তার খোঁজে তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক : করোনাভাইরাস বিস্ফোরণের আগে পর্যন্ত নিজের ছেলের কাছে তামিম ইকবাল একরকম আগন্তুকই ছিলেন। পার্থক্য এটাই যে এ মানুষটার কাছে কিছু চাইলেই পাওয়া যায়! তবে গত ১০ দিনের ঘরবন্দি জীবনে শিশু আরহাম জেনে গেছে টিভিতে দেখা তামিমই বাবা এবং জীবনে মায়ের সমান গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে, ‘সময়টা আমি দারুণ উপভোগ করছি’, বলতে পারছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।

তবে ভীতি তো আছেই, কখন কে যে আক্রান্ত হয়! বিশেষ করে নিজের পরিবারে যদি ঢুকে পড়ে, ‘আমি আগেও পরিবারের প্রতি কমিটেড ছিলাম। তবে যত দিন যাচ্ছে, ততই পরিবারের মূল্য আরো বেশি করে বুঝতে পারছি। সত্যি বলতে কি, আমাকে যদি অপশন দেওয়া হয় আমার দুই সন্তান এবং স্ত্রী, না কি আমার জীবন—আমি ওদের জীবন চাইব। আমার মনে হয় আমরা সবাই যদি বিষয়টা এভাবে ভেবে হলেও সতর্ক থাকি, তাহলে পাড়া-প্রতিবেশীও নিরাপদে থাকবে।’ তামিমের চেনা গণ্ডি অনেক বড়। সেখানে আপাতত একজনেরই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনেছেন তিনি, ‘আমার স্ত্রীর বান্ধবীর এক বান্ধবী আক্রান্ত হয়েছেন। শুনেছি উনি বিদেশিদের সঙ্গে কাজ করেন। তবে ভালো খবর হলো উনার থেকে উনার বাসার কেউ আক্রান্ত হয়নি।’

এটা একটা ইতিবাচক খবর বলেই মনে করছেন তামিম ইকবাল, ‘দেখেন এখন টিভি খুললেই কিংবা অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখ পড়লেই শুনি ইতালিতে এতজন মারা গেছে, স্পেনে আরো বেশি লোকজন আক্রান্ত হচ্ছে। ঘটনা সত্যি মানছি। কিন্তু গত এক সপ্তাহে ইতালিতে যে ৯০০-র মতো রোগী ভালোও হয়েছে সেই খবরটা খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি। আমার মনে হয় এগুলো সমান গুরুত্ব পেলে সাধারণ মানুষ সাহস পেত।’

তাই এখন সেই সব মাধ্যম কিংবা মানুষের খোঁজে তামিম ইকবাল, যে বা যাদের বার্তায় অবসাস থেকে মুক্তি দেবে জনগণকে। ‘অনেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের কাজে আর্থিক সাহায্য দিয়েছে। ছোট করে আমরাও দিয়েছি। টাকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমি মনে করি জনগণকে সঠিক বার্তা দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আজ সকালেই খবরে দেখছিলাম করোনা রোগী সন্দেহে একজনকে রাজপথে ফেলে গেছে তাঁর আত্মীয়রা। ওই এলাকার মানুষও তাঁর কাছে যাচ্ছে না। ব্যাপারটা খুবই কষ্টের। এটা ঠিক যে আমিও হয়তো পাশের ফ্ল্যাটের কেউ আক্রান্ত হয়েছে শুনলে খবর পাব। আমার ড্রাইভারও আক্রান্ত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আমাকে কী করতে হবে? এসব ব্যাপারে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে সঠিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া আর্থিক সাহায্য দেওয়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ’, বোঝা গেল আইসোলেশনের নামে মানবিকতা উপেক্ষিত হওয়ার বিষয়টিও ভাবাচ্ছে তামিমকে।

তবে সব কিছুর আগে তিনি খেলোয়াড়, অধিনায়ক। ঘরবন্দি অবস্থায় টিমমেটদের খবরাখবর কি নিচ্ছেন? ‘এমন না যে প্রতিদিনই সবার সঙ্গে কথা হচ্ছে। তবে যোগাযোগ আছে, কমবেশি কারো না কারোর সঙ্গে কথা হয়,’ সেসব আলাপে ঘরে বসে ফিটনেস ধরে রাখা নিয়ে বেশি কিছু বলতে হয় না তামিম ইকবালকে, ‘গত ১০ বছরে আমাদের অনেক অর্জন আছে মাঠে। তবে একটা উন্নতির কথা হয়তো সেভাবে কেউ জানেন না। মারিও (ভিল্লাভারায়েন) ট্রেনার হিসেবে যোগ দেওয়ার পর আমাদের ও দারুণভাবে মোটিভেট করেছে। এখন খেলা থাকুক কিংবা না থাকুক, সিনিয়র-জুনিয়র সবাই ফিটনেস নিয়ে কাজ করে। ছয়-সাত বছর আগেও ট্রেনারকে নজর রাখতে হতো ফিটনেসের কাজে কেউ ফাঁকি দিচ্ছে কি না। এখন সেটা করতে হয় না। আমি নিশ্চিত, ঘরে থাকলেও ফিটনেসের ব্যাপারটা কেউ অবহেলা করছে না।’ তিনি নিজে যেমন সকালে রানিং করেন ট্রেডমিলে। মাহমুদ উল্লাহ, মুশফিকুর রহিম থেকে শুরু করে সৌম্য সরকারের ফিটনেস নিয়ে খাটাখাটনির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

কিন্তু ঘরে বসে ফিটনেস ট্রেনিংটা তো আর সর্বোচ্চ পর্যায়ের হচ্ছে না। তা ছাড়া করোনা সংকট কেটে গেলেই তো ঠাসা সূচি হামলে পড়বে! ও নিয়ে শঙ্কিত নন তামিম, ‘আমরা কেউই জানি না করোনাভাইরাস কবে একেবারে দূর হবে। সব দেশ কি একসঙ্গে এ সংকট কাটিয়ে উঠবে, আমার মনে হয় না। আমার মনে হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তৈরি হবে সবাই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে। সুবিধা-অসুবিধা সবারই সমান হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা